বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ। পলিতে গড়ে ওঠা এই বদ্বীপে ছড়িয়ে আছে প্রায় ৩০ হাজার খাল, যেগুলো একসময় দেশের কৃষি, পরিবেশ ও গ্রামীণ অর্থনীতির প্রাণ ছিল। কিন্তু দখল, ভরাট ও অব্যবস্থাপনায় অনেক খাল বিলুপাত হয়েছে, অনেকগুলো মৃতপ্রায়। এতে কৃষি উৎপাদন কমছে। জলাবদ্ধতা বেড়েছে। প্রাকৃতিক পানি প্রবাহের স্বাভাবিক ধারা বাধাগ্রস্ত হয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে সরকার আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা নিয়েছে। খালগুলো চিহ্নিত করা, শ্রেণিবিন্যাস ও ডিজিটাল ডেটাবেইসে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। এটা দূরদর্শী পদক্ষেপ। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড ও পরিকল্পনা কমিশনের কৃষি, পানিসম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগ এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে। ৩১ কোটি ৫৭ লাখ টাকার কারিগরি প্রকল্পের মাধ্যমে একটি সমন্বিত জিও-ইনফরমেশন সিস্টেমভিত্তিক খাল নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হবে, যা ভবিষ্যৎ পানি ব্যবস্থাপনায় কাঠামোগত শৃঙ্খলা আনবে।
খাল খনন কেবল মাটি কাটার প্রকল্প নয়; এটি দেশের খাদ্যনিরাপত্তা, পরিবেশ সংরক্ষণ ও টেকসই উন্নয়নের সাথে গভীরভাবে সম্পর্কিত।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খাল খননের ফলে সেচব্যবস্থা উন্নত হয়, কৃষি উৎপাদনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসে। এতে গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙা হয় এবং খাদ্যনিরাপত্তা জোরদার হয়। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেই ঐতিহাসিক ধারাই অনুসরণ করছেন। খাল খননের মাধ্যমে জোয়ার-ভাটার পানি সরাসরি কৃষকের জমিতে পৌঁছবে। বর্ষায় অতিরিক্ত পানি দ্রুত নিষ্কাশন হবে। শুষ্ক মৌসুমে সংরক্ষিত পানি সেচের কাজে ব্যবহার করা যাবে। এতে চাষাবাদের আওতা বাড়বে, ফসলের উৎপাদন বাড়বে এবং কৃষকের আয় বাড়বে। পাশাপাশি খালের দুই পাড়ে বনায়ন কর্মসূচি পরিবেশ ও জলবায়ু ভারসাম্য রক্ষায় ভূমিকা রাখবে। শিল্পায়ন ও নগরায়নের চাপে যখন সবুজায়ন কমে যাচ্ছে, তখন খাল খনন ও বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ প্রকৃতিকে জাগিয়ে তুলবে।
এত বড় কর্মসূচির সফলতা নির্ভর করবে এর স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত বাস্তবায়নের ওপর। খাল খননের নামে যেন নিম্নমানের কাজ, অর্থ অপচয় বা অনিয়ম না হয়, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। দরপত্র প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। এর সাথে স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করতে হবে। স্বাধীন তদারকি ও মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু করা গেলে কাজের গুণগত মান নিশ্চিত হবে।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দূরদর্শী উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকারের এই পরিকল্পনা যদি ঠিকভাবে বাস্তবায়ন হয়, তবে সেটা অর্থনীতিতে গতি আনবে। প্রশাসনিক দক্ষতা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতার মাধ্যমে খাল খনন কর্মসূচিকে জাতীয় উন্নয়নের মাইলফলকে পরিণত করা হোক অঙ্গীকার।



