যেভাবে হজের স্বপ্ন পূরণ হলো আফ্রিকার দরিদ্র কৃষক আবু বকরের

কৃষক আবু বকর যখন নিজ দেশ থেকে প্রিয়নবী সা:-এর মাতৃভূমিতে পবিত্র সফরের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখন তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন; একদিকে তিনি আনন্দিত যে, তার দীর্ঘদিনের অনন্য স্বপ্নটি পূরণ হতে যাচ্ছে, অন্যদিকে, তিনি ব্যথিত- তার কারণ- এমন আনন্দের মুহূর্তে তার মা তার সাথে নেই।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
আবু বকরের দৃঢ় বিশ্বাস ছিল- একদিন তার এই স্বপ্ন পূরণ হবে এবং তিনি বাইতুল্লাহ দর্শনের মহাসৌভাগ্য লাভ করবেন
আবু বকরের দৃঢ় বিশ্বাস ছিল- একদিন তার এই স্বপ্ন পূরণ হবে এবং তিনি বাইতুল্লাহ দর্শনের মহাসৌভাগ্য লাভ করবেন |সংগৃহীত

পশ্চিম আফ্রিকার দেশ আইভরি কোস্টের দরিদ্র কৃষক আবু বকর। দীর্ঘদিন ধরে পবিত্র হজ আদায়ের স্বপ্ন দেখে আসছিলেন। তার দৃঢ় বিশ্বাস ছিল- একদিন তার এই স্বপ্ন পূরণ হবে এবং তিনি বাইতুল্লাহ দর্শনের মহাসৌভাগ্য লাভ করবেন।

সৌদি প্রেস অ্যাজেন্সি (এসপিএ) জানিয়েছে, কৃষির ওপর নির্ভরশীল আবু বকর শুধু এই স্বপ্ন দেখেই নিবৃত্ত থাকেননি; বরং তা পূরণের জন্য নিজ প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন এবং অল্প অল্প করে টাকাও জমিয়েছেন। কারণ, তিনি ভাবতেন- যখন তার স্বপ্ন পূরণের সময় আসবে, তখন যেন তার কাছে প্রয়োজনীয় উপকরণ ও পাথেয় থাকে।

এরপর একদিন আবু বকর সেই সুসংবাদটি পেলেন, যার জন্য তিনি দিনের পর দিন অপেক্ষা করে আসছিলেন। ‘মক্কা রুট ইনিশিয়েটিভ’র মাধ্যমে তিনি জানতে পারলেন যে, এ বছর যাদেরকে হজ পালনের জন্য নির্বাচন করা হয়েছে, তিনিও তাদের অন্তর্ভুক্ত।

এ প্রসঙ্গে আবু বকর জানান, এর মধ্যে কত দিন, কত মাস, কত বছর অতিবাহিত হলো, কিন্তু তার বহুদিনের স্বপ্ন ভেঙে যায়নি এবং ম্লান হয়নি তার হজ আদায়ের আশাও। তার আকাঙ্ক্ষা এটাও ছিল যে, যখন তিনি পবিত্র এই সফরের সুযোগ লাভ করবেন, তখন এই আধ্যাত্মিক ও বরকতপূর্ণ অভিযাত্রায় তার মা-ও তার সঙ্গী হবেন। কিন্তু স্বপ্নটি এভাবে পূর্ণ হওয়ার আগেই তার মা ইন্তেকাল করেন এবং তিনি আখিরাতের চূড়ান্ত সফরের অভিযাত্রী হয়ে যান।

কৃষক আবু বকর যখন নিজ দেশ থেকে প্রিয়নবী সা:-এর মাতৃভূমিতে পবিত্র সফরের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখন তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন; একদিকে তিনি আনন্দিত যে, তার দীর্ঘদিনের অনন্য স্বপ্নটি পূরণ হতে যাচ্ছে, অন্যদিকে, তিনি ব্যথিত- তার কারণ- এমন আনন্দের মুহূর্তে তার মা তার সাথে নেই।

তখন আবু বকর বলেছিলেন, ‘যখন আমি বাইতুল্লাহর (পবিত্র কাবাঘর) সামনে যাব, তখন আমার মায়ের রূহের মাগফিরাতের জন্য মনভরে দোয়া করব এবং আল্লাহর কাছে আমিসহ সকলের হজ কবুলের জন্যও প্রার্থনা করব।’