রাজবাড়ীতে বেড়েছে কুল চাষ

জেলার পাঁচ উপজেলায় ৫৫ হেক্টর জমিতে এবার বরই চাষ হয়েছে। যা থেকে প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার টন বরই উৎপাদনের আশা রয়েছে। যার বাজার মূল্য প্রায় তিন কোটি টাকা।

এম মনিরুজ্জামান, রাজবাড়ী

Location :

Rajbari
সবুজ পাতার ফাঁকে থোকায় থোকায় কুল
সবুজ পাতার ফাঁকে থোকায় থোকায় কুল |নয়া দিগন্ত

রাজবাড়ীতে বেড়েছে কুল চাষ। সবুজ পাতার ফাঁকে লাল টসটসে থোকায় থোকায় লোভনীয় এ ফল শোভা পাচ্ছে। ধান আবাদ থেকে সরে এসে অনেকেই এখন আপেলকুল, বলসুন্দরী, ভারত ও কাশমেরী কুল চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছে।

তারা বলছেন, ধানের চেয়ে কম খরচে ডবল লাভ কুল চাষে। অর্থনৈতিক লাভের কারণে জেলায় দ্রুত বাড়ছে কুল বাগানের সংখ্যাও। আর কুলের চারা একবার লাগালে ১০ থেকে ১২ বছর পর্যন্ত ফল ধরে।

ইউটিউব দেখে সাংবাদিকতার পাশাপাশি রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দির জাকির হোসেন দু’টি বরই বাগান করে দুই বছরেই পেয়েছেন ব্যাপক সফলতা।

জেলার মধ্যে বালিয়াকান্দিতে বাগানের পর বাগানে চাষ হচ্ছে কুল। যেন এটি কুলের সাম্রাজ্য। বছরে এই ফলের আবাদ ঘিরে রাজবাড়ীতে লেনদেন হয় প্রায় পাঁচ কোটি টাকা। আপেল, বলসুন্দরী, কাশমেরী ও ভারত সুন্দরী মূলত এই চার জাতের কুল চাষ হয় জেলা জুড়ে। এ বছর বরইয়ের পুরো মৌসুমে এই রসালো ফলের চাহিদাও বেড়েছে।

একটি গাছ থেকে চাষীরা গড়ে ৩০ থেকে ৪০ কেজি বরই পান। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়েও যা বিক্রি হয় ঢাকা, রাজবাড়ী ও ফরিদপুরের আড়তেও। কুল মৌসুমী ফসল। উঁচু জমি কুল চাষের জন্য উপযোগী। তাই বাগানে কুল গাছের মধ্যে শীতকালে কফি ও লাল শাক চাষ করেও চাষীরা সাড়া বছর ওইসব জমি চাষের আওতায় রাখছেন। কুল তোলা শেষে এখানকার চাষীরা ডালে ডালে কলম করে চারা তৈরি করে অন্যদের কাছে সুলভ মূল্যে বিক্রি করছেন।

বালিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি অফিসার রতন ঘোষ জানান, তিনি উপজেলার সব বরই বাগানই নিয়মিত পরিদর্শন করে চাষীদের পরামর্শ দিচ্ছেন। বিদেশী এসব কুলে তেমন রোগ-বালাই ধরে না। সেচও দিতে হয় সিজেনে একবার। তবে সার দিতে হয় ফুল আসার আগে ও পরে দু’বার।

তিনি আরো জানান, এসব জমিতে কয়েক বছর আগেও ধান-গম চাষ হতো। তবে এক বিঘা জমিতে ধান-গমে আয় হতো ৩০ থেকে ৩২ হাজার টাকা। এখন কুল চাষে লাভ হচ্ছে দুই থেকে তিন লাখ টাকার মতো। খরচ কম ও বাজারে চাহিদা থাকায় এদিকেই ঝুঁকছেন রাজবাড়ীর কৃষকরা।

বৈদেশিক ফলের চাহিদার বিপরীতে এবং ভোক্তাদের চাহিদা মেটাতে আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা বাঁচাতে দেশী ফলের সফলতা ও চাহিদা মেটাতে এ পদক্ষেপকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে কৃষি বিভাগ।

জেলা কৃষি বিভাগের উপপরিচালক কৃষিবিদ শহিদুল ইসলাম জানান, জেলার পাঁচ উপজেলায় ৫৫ হেক্টর জমিতে এবার বরই চাষ হয়েছে। যা থেকে প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার টন বরই উৎপাদনের আশা রয়েছে। যার বাজার মূল্য প্রায় তিন কোটি টাকা।

তবে অধিক লাভের আশায় ধানি জমিতে কুল চাষে খাদ্য-শস্য উৎপাদনে যেন নেতিবাচক প্রভাব না পরে তা নিশ্চিত করার দাবি সংশ্লিষ্টদের।