আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো: আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, ডিজিটাল কোর্ট ব্যবস্থা ও বিচার প্রক্রিয়া আধুনিকীকরণে ই-বেইলবন্ড ম্যানেজমেন্ট, ই-ফ্যামিলি কোর্ট, অনলাইন কজলিস্ট, বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন ডিজিটালাইজেশন ও ই-জুডিশিয়ারি প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে।
আজ বৃহস্পতিবার সংসদে নেত্রকোনা-৩ আসনের সরকারি দলের সদস্য রফিকুল ইসলাম হিলালীর টেবিলে উপস্থাপিত লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
ডিজিটাল কোর্ট ব্যবস্থা ও বিচার প্রক্রিয়া আধুনিকীকরণে সরকারের সুনির্দিষ্ট অগ্রগতি সম্পর্কে আইনমন্ত্রী জানান-
ই-বেইলবন্ড ম্যানেজমেন্ট : বর্তমানে নয়টি জেলায় ই-বেইলবন্ড ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার চালু রয়েছে। অনলাইনে বেইলবন্ড দাখিল করার মাধ্যমে আইনজীবী, কারা প্রশাসন ও বিচারপ্রার্থী সবার সময় ও ব্যয় সাশ্রয় হচ্ছে। এই সফটওয়্যার পর্যায়ক্রমে সকল জেলায় সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
ই-ফ্যামিলি কোর্ট : বর্তমানে দু’টি জেলায় ই-ফ্যামিলি কোর্ট চালু রয়েছে। এই ব্যবস্থায় পারিবারিক মামলা দায়ের, শুনানিসহ মামলার যাবতীয় কার্যক্রম অনলাইনে সম্পন্ন করা হচ্ছে, যার ফলে মামলা পরিচালনা আরো দ্রুত, স্বচ্ছ ও কম খরচে সম্পন্ন হচ্ছে।
অনলাইন কজলিস্ট : অধস্তন ও উচ্চ আদালতের কজলিস্ট শতভাগ অনলাইন করা হয়েছে, ফলে মানুষ ঘরে বসেই মামলার তারিখ জানতে পারছেন।
তথ্য ও সেবা কেন্দ্র : দেশের সব চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত প্রাঙ্গণে তথ্য ও সেবা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। এতে মামলার পক্ষগণ সহজে মামলার অগ্রগতি, পরবর্তী ধার্য তারিখ ও প্রক্রিয়াগত প্রয়োজনীয় তথ্য জানতে পারছেন।
বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন ডিজিটালাইজেশন : বিবাহ ও তালাক নিবন্ধনের আইসিটি অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ১০টি জেলার ১০২টি ইউনিয়নে মুসলিম বিবাহ আইন অনুযায়ী অনলাইনে বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন কার্যক্রম শিগগিরই চালু করা হবে। এটি বাস্তবায়িত হলে বিবাহ ও তালাক সংক্রান্ত জালিয়াতি রোধ এবং এ সংক্রান্ত মামলার সংখ্যা কমবে।
ই-জুডিশিয়ারি প্রকল্প : বিচার ব্যবস্থাকে পূর্ণাঙ্গ ডিজিটালে রূপান্তরের লক্ষ্যে ‘ই-জুডিসিয়ারি’ শীর্ষক প্রকল্প পরিকল্পনা কমিশনে প্রেরণ করা হয়েছে। কমিশনের পর্যবেক্ষণের আলোকে বর্তমানে ডিপিপি পুনর্গঠনের কাজ চলমান রয়েছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে মামলা দায়ের, কেস ট্র্যাকিং, কজলিস্ট ব্যবস্থাপনা ও নথি সংরক্ষণসহ বিচার সংক্রান্ত সমগ্র কার্যক্রম ডিজিটাল পদ্ধতিতে পরিচালিত হবে, যা বিচারপ্রার্থী সাধারণ মানুষের ভোগান্তি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করবে।
সরকার বিচারপ্রার্থী সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ লাঘব করতে এবং দ্রুত, স্বচ্ছ ও সাশ্রয়ী বিচার নিশ্চিতে অঙ্গীকারবদ্ধ। গৃহীত পদক্ষেপসমূহ পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়িত হলে সারাদেশের আদালতে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে এবং জনগণ দ্রুত ন্যায়বিচার পাবেন বলে সরকার আশাবাদী। এর বাইরে, মামলার জট কমানো এবং ন্যায় বিচারের ধারণা উন্নতকরণের জন্য জনগণের যেকোনো সুপারিশ আইন মন্ত্রণালয় গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করবে।
সূত্র : বাসস



