চেক ডিজঅনারের ৪ মামলা

আত্মসমর্পণ করে জামিন পেলেন আদম তমিজি

‘কুমিল্লার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৯ নম্বর আমলী আদালতে গত বছরের ৩০ এপ্রিল আদম তমিজিসহ তিনজনের নামে চারটি মামলা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, এনসিসি ব্যাংকের দেয়া ১২টি চেকে এক কোটি ৫৭ হাজার ৫৫০ টাকার চেক গতবছরের ফেব্রুয়ারিতেই ডিজঅনার হয়।’

নিজস্ব প্রতিবেদক
আদম তমিজি
আদম তমিজি |সংগৃহীত

হক গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আদম তমিজি হকের বিরুদ্ধে অর্ধশতাধিক চেক ডিজঅনারের অন্তত দেড় ডজন মামলা রয়েছে। সর্বশেষ রাজধানীর আল-মোস্তফা প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং ইন্ডাস্ট্রিজ (প্রা:) লিমিটেডের মামলায় আত্মসমর্পণে জামিন নেন তিনি। তার সাথে জামিন নেন হক গ্রুপের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মো: রেজাউল করিমও (সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার ও ফাইন্যান্স অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস)।

সোমবার (২০ এপ্রিল) চেক ডিজঅনারের চারটি মামলায় কুমিল্লার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট চৌদ্দগ্রাম আমলী আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন নেন তারা।

সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা জানান, এসব মামলা ১৮৮১ সালের নেগোশিয়েবল ইনস্ট্র–মেন্টস অ্যাক্টের ১৩৮/১৪০ ধারা অনুসারে দায়ের করা হয়েছিল। চারটি মামলার সবগুলো মামলাতে ওয়ারেন্ট হয়েছিল ১ নম্বর আসামি আদম তমিজি হকের বিরুদ্ধে। আসামিদের মধ্যে আদম তমিজি ছাড়াও সবগুলো মামলায় (মামলা নম্বর- সিআর- ৩৬৪/২৫, ৩৬৫/২৫, ৩৬৬/২৫, ৩৬৭/২৫) রয়েছে হক গ্রুপের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মো: রেজাউল করিম এবং জাহিদুল ইসলাম বিদ্যুতের (হেড অব প্রজেক্ট অ্যান্ড বিজনেস কন্ট্রোল) নাম।

জানা যায়, কুমিল্লার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৯ নম্বর আমলী আদালতে গত বছরের ৩০ এপ্রিল আদম তমিজিসহ তিনজনের নামে চারটি মামলা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, এনসিসি ব্যাংকের দেয়া ১২টি চেকে এক কোটি ৫৭ হাজার ৫৫০ টাকার চেক গতবছরের ফেব্রুয়ারিতেই ডিজঅনার হয়।

উল্লেখ্য, আল-মোস্তফা প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং ইন্ডাস্ট্রিজ (প্রা:) লিমিটেডের সাথে ব্যবসায়িক লেনদেনে আদম তমিজি হক বিভিন্ন সময়ে মোট পাঁচ কোটি ৭৩ লাখ টাকার ৬৮টি চেক প্রদান করেন। কিন্তু ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় সবগুলো চেকই প্রত্যাখ্যাত হয়। ফলে ভুক্তভোগী প্রতিষ্ঠানটি নারায়ণগঞ্জ ও কুমিল্লাসহ বিভিন্ন জেলায় পৃথকভাবে ১৯টি মামলা করে।

আল-মোস্তফা গ্রুপের ম্যানেজার ওমর ফারুক বলেন, ‘আসামিরা জেনে-শুনেই অ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত অর্থ মজুদ না রেখেইে চেক দিয়েছে। এটি সরাসরি প্রতারণা। এ কারণে আমরা আইনের আশ্রয় নিই। পরে কুমিল্লার চারটি মামলা গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হলে আদম তমিজি তার প্রতিষ্ঠানের কর্মকতা রেজাউল করিমসহ আত্মসমর্পণ করে জামিন নেন। আমরা আমাদের প্রাপ্য টাকা পেতে পরবর্তী আাইনি পদক্ষেপ নেব।’

প্রতিষ্ঠানটির আইনজীবী নাজমুল আলম জানান, সব মামলা আদালতে চলমান রয়েছে। তবে দীর্ঘসূত্রতায় আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।