‘ঘরকা মুরগি ডাল বরাবর’

কৃষিজমিকে অকৃষি কাজে ব্যবহার করা, বিশেষ করে ইটভাটা তৈরি বা আবাসন প্রকল্পের নামে উর্বর মাটি নষ্ট করা হলে সেটি দণ্ডনীয় অপরাধ। এতে কৃষি অঞ্চল, শিল্প অঞ্চল এবং আবাসিক অঞ্চল সুনির্দিষ্ট থাকবে। এর বাস্তবায়ন হলে গ্রামগুলোতেও যত্রতত্র দালান উঠবে না। গড়ে উঠবে পরিকল্পিত আবাসনের সংস্কৃতি; কিন্তু এ আইনের কঠোরতা কেবল সাধারণ মানুষের জন্য হলে চলবে না; বরং ভূমিদস্যুদের থেকেও কৃষিজমি রক্ষায় রাষ্ট্রকে জিরো টলারেন্স নীতি সেই অধ্যাদেশে ছিল; কিন্তু এখানেও যেন মেঘের ঘনঘটায় এখন ধূসর করে ফেলা হয়েছে আইনটি। আইনটি পাস না করে ফাইল-বন্দী করা হয়েছে। এ যেন কৃষিব্যবস্থায় মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা

উর্দুতে মশহুর একটি প্রবাদ আছে, ‘ঘরকা মুরগি ডাল বরাবর’ অর্থাৎ ঘরের মুরগি নিছক ডালের মতো। এর ভিন্ন স্বাদ, গন্ধ, গুরুত্ব কিছু নেই। সুধী পাঠক, এই প্রবাদের একটি মাজেজা আছে। তা বোধগম্য হবে এ লেখা পাঠে। বোদ্ধাজন মনে করেন, যে জাতি তার নিজের গুণীজনদের কদর করে না, মূল্যায়ন করতে দ্বিধা ও হীনম্মন্যতায় ভোগে, সে দেশে কখনো গুণী জন্মে না। এসব বক্তব্যকে কেবল ‘প্রবাদবাক্য’ হিসেবে ধরে নিলে সেটি শুধু ভুলই নয়, জ্ঞান-গরিমার ওপর কুঠারাঘাতের মতো। এর পরিণতি শুধু একটাই, এ জনপদ একসময় বেয়াকুবদের মিলনমেলায় পরিণত হবে। তখন কোনো জ্ঞান-গরিমার অধিকারীকে এ জনপদে খুঁজে পাওয়া যাবে না। জ্ঞানশূন্য একটা ব্যারিয়ন ল্যান্ডে পরিণত হবে।

এখন দেশে এ মহূর্তে ফ্লোরেন্স নাইট অ্যাঙ্গেলের মতো নিবেদিতপ্রাণ কোনো সেবিকা হয়তো খুঁজে পাওয়া দুষ্কর হবে। তবে এমন শত শত সেবিকার সন্ধান পাওয়া যাবে, যারা সংসার-স্বজনকে এক পাশে রেখে, দিবানিশি মুমূর্ষু মানুষের শিয়রের পাশে থেকে তার শেষ দিনগুলো শান্তি স্বস্তিতে ভরিয়ে দিতে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। সেই মহৎপ্রাণ সেবিকাদের জন্য সমাজ, রাষ্ট্র কখনো কি তাদের দিকে ফিরে তাকিয়েছে? দিয়েছে কি কোনো স্বীকৃতি সম্মান? খ্যাতনামা বহু চিকিৎসক, যারা চিকিৎসাকে কেবল সেবার ব্রত হিসেবে নিয়েছেন তাদের অন্যতম দু’জন হলেন- মরহুম অধ্যাপক নুরুল ইসলাম ও সাবেক প্রেসিডেন্ট মরহুম অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরী। জনসেবায় তাদের কোনো রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে কি? সমাজ বরাবর তেলা মাথায় তেল ঢেলেছে, পারলে ঘিও মাখতে কসুর করেনি; কিন্তু কখনো কোনো ‘মগজের’ সন্ধান করেনি। রাজনৈতিক বিবেচনায় অনেকের হাতে বরণমালা তুলে দিয়েছে। যে কৃষককুল নিয়ত রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে, মানুষের মুখে দানাপানি জোগান দিয়ে চলেছেন, কেউ কখনো কি তাদের খবর রেখেছে। সমাজ, রাষ্ট্র তাদের অবদানকে সম্মান স্বীকৃতি দিয়েছে?

হর্তাকর্তারা হয়তো মনে করেন, তারা তো তুচ্ছতাচ্ছিল্যের চাষাভূষা। তাদের সম্মান দেয়া কি খুব জরুরি। আবার এই কৃষককুলের লাভের গুড় পথে পথে পিপীলিকায় (চান্দাবাজ ও দুষ্টচক্র) খায়। বহুকাল থেকে তাদের কানে ভেসে আসছে মায়াকান্নার শব্দ তরঙ্গ। অনেকে মনে করেন, এমন কান্না কেবল কুম্ভীরাশ্রু। আসুন একবার চোখ বুলিয়ে দেখা যাক এই ‘চাষাভূষারাই’ নীরবে ‘তিল পেয়ে দেশের হাতে তাল তুলে দিচ্ছে’। কিন্তু স্বীকৃতি ও সম্মানের তালিকায় তাদের নাম কেউ কখনো দেখেনি। রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের সম্মান স্বীকৃতিদানের কোনো আয়োজন এখনো হয়েছে কি? ‘একাত্তরের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের স্বীকৃতি দিয়ে জাতি ধন্য হয়েছে’। কিন্তু চব্বিশের শহীদদের কোনো স্বীকৃতি দেয়া হচ্ছে কি! এমন জনশ্রুতি আছে, চব্বিশের গাজীদের নাকি জেল-জুলুম দেয়ার প্রস্তুতি চলছে। এরাই হচ্ছে, ‘ঘরকা মুরগি ডাল বরাবর’। প্রকৃত গুণীদের ছিটেফোঁটা দু-একজনকে নীলকণ্ঠ হয়ে কাষ্ঠ হাস্যে মুখ ঘুরিয়ে সম্মান দেয়া হয়। প্রকৃত গুণী ও সেবকদের এসব কিছু এ সমাজ ভুলে যেতে ভালোবাসে। তাদের সব অবদান বিস্তৃতির অতলে হারিয়ে যায়।

আজকের লেখায় রাজনীতির প্রথাগত কোনো বিষয়ের সমালোচনা নেই। তবে রাজনীতিক ও নীতিনির্ধারকদের বোধবিবেচনা নিয়ে প্রশ্ন তো উঠবেই। লেখার শুরুতে বিস্মৃতি বা ভুলে যাওয়ার যে সংস্কৃতির কথা বলা হয়েছে, সেটি শুধু আবেগের বহিঃপ্রকাশ নয়। দীর্ঘ অর্ধশতাব্দীর এক নিষ্ঠুর বাস্তবতার ব্যবচ্ছেদ। বাংলাদেশের শুরু থেকে আজ পর্যন্ত সম্মান ও স্বীকৃতি যেভাবে দেয়া হয়েছে, সেগুলো পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে যারা জাতির অস্তিত্বের মূল ভিত্তি, তাদের কোনো স্বীকৃতি নেই। আছে শুধু হেলা-অবহেলা। যারা আমাদের কৃষি ও খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করছেন, তাদের ঠেলে দেয়া হয়েছে বিস্মৃতির অতলে। যেসব বিজ্ঞানী গবেষণাগারে বসে কৃষি নিয়ে গবেষণা করেছেন, ভালো ফল এনেছেন। শস্যের উৎপাদন চারগুণ থেকে পাঁচগুণ করেছেন। তাদের প্রাপ্য সম্মান দিতে ভুলে যাওয়া হয়েছে। যে কৃষক রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে মানুষের জন্য ফসল ফলাচ্ছেন, তাদের প্রাপ্য সম্মান দিতে কৃপণতা করছি। আমরা দেখেছি, এ পর্যন্ত রাষ্ট্রীয়ভাবে অনেককে বিভিন্ন শাখা-প্রশাখায় রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও পদক দেয়া হয়েছে। যেমন একুশে পদক বা স্বাধীনতাসহ নানা তালিকা হাতে নিয়ে দেখা যায়, প্রকৃত সব গুণীর স্থান নেই সেখানে। অথচ দেশের প্রাণশক্তি হচ্ছে কৃষি। সেই কৃষির রূপকারদের কেন আমরা সামনে আনছি না। সত্তরের দশকে দেশে কৃষিপণ্য উৎপাদনের সাথে ২০২৬ সালের তুলনা করলে, এ অবিচারের গভীরতা টের পাওয়া যাবে।

সত্তরের দশকের মাঝামাঝি সদ্য স্বাধীন এ দেশে মোট আবাদযোগ্য বা কৃষিজমির পরিমাণ ছিল এক কোটি ৩৩ লাখ হেক্টর, যা তৎকালীন মোট ভূখণ্ডের ৯১ শতাংশের বেশি। সে সময় জনসংখ্যা ছিল সাড়ে ছয় থেকে সাত কোটি। জমি ছিল বেশি, মানুষ ছিল কম। অথচ সেই সময় দানাদার খাদ্যশস্য উৎপাদনের পরিমাণ ছিল মাত্র এক কোটি ১০ লাখ টনের আশপাশে। স্বাধীনতার পর প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং যুদ্ধের ক্ষত নিয়ে খাদ্যঘাটতি ছিল ৩০ লাখ টনে। অর্থাৎ, দেশের মোট চাহিদার প্রায় ৩০ শতাংশ আমাদের আমদানি বা সাহায্যের ওপর নির্ভর করতে হতো। সেই হাহাকারের সময় আমাদের কৃষিবিজ্ঞানীরা গবেষণাগারে এবং কৃষকরা মাঠে লড়াই শুরু করেছিলেন।

২০২৬ সাল চলছে। বাংলাদেশের জনসংখ্যা এখন আঠারো কোটির মতো। শিল্পায়ন ও অপরিকল্পিত নগরায়নের চাপে আমাদের কৃষিজমির পরিমাণ অনেক কমে এসেছে। বর্তমানে দেশের মোট ভূখণ্ডের মাত্র ৫৯ দশমিক ৭ শতাংশ জমি কৃষিতে ব্যবহার হচ্ছে। প্রতি বছর প্রায় ১ শতাংশ বা প্রায় ৬৮ হাজার ৭০০ হেক্টর কৃষিজমি অকৃষি খাতে চলে যাচ্ছে। ওগুলোতে ঘরবাড়ি, ইটের ভাটা ও অবকাঠামো বানানো হচ্ছে। অথচ এই সঙ্কুচিত জমিতে আমাদের বিজ্ঞানীরা এবং কৃষকরা বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটিয়েছেন। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দানাদার খাদ্যশস্যের উৎপাদন রেকর্ড ছাড়িয়ে ৫ কোটি চার লাখ ২৬ হাজার টনে পৌঁছেছে। এর মধ্যে চালের উৎপাদন চার কোটি ১৯ লাখ ১৬ হাজার টন। অর্থাৎ, গত ৫০ বছরে জনসংখ্যা আড়াই গুণের বেশি বেড়েছে, আশঙ্কাজনক হারে কমেছে কৃষিজমি, তারপরও খাদ্য উৎপাদন বেড়েছে পাঁচ গুণ। এই পরিবর্তনকে বলা যায় একরকম ‘অলৌকিক’। পরিবর্তনটা কি আপনা-আপনি হয়ে গেছে? অবশ্যই নয়। এটি সম্ভব হয়েছে আমাদের কৃষিবিজ্ঞানীদের উচ্চফলনশীল জাত উদ্ভাবন এবং কৃষকদের সেই প্রযুক্তি গ্রহণের মানসিকতায়। কিন্তু আজ যখন রাষ্ট্রীয় সম্মানের ঝুলি খোলা হয়, তখন কৃষিবিজ্ঞানীদের নাম কেন সেখানে উচ্চারিত হয় না? কিন্তু একজন বিজ্ঞানী যখন লবণাক্তসহিষ্ণু ধানের জাত উদ্ভাবন করে খাদ্য উৎপাদনে অভূতপূর্ব অবদান রাখেন, তখন তাকে কেন আমরা সাধারণ সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে চিহ্নিত করে পাশে সরিয়ে রাখি?

কৃষিবিজ্ঞানীরা বহুমুখী কাজ করছেন। তারা কেবল বীজ উদ্ভাবন করেন না, প্রতিকূল আবহাওয়া মোকাবেলার প্রযুক্তিও দেন। বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা) এবং বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) বিজ্ঞানীরা এই পর্যন্ত কয়েক হাজার প্রযুক্তি ও শস্যের জাত উদ্ভাবন করেছেন। খরা, লবণাক্ততা কিংবা আকস্মিক বন্যা থেকে ফসল রক্ষায় তাদের উদ্ভাবিত একেকটি বীজ ক্ষুধার বিরুদ্ধে একেকটি মারণাস্ত্রের মতো কাজ করেছে। অথচ রাষ্ট্র যখন কেবল কবির ছন্দ বা শিল্পীর তালের বন্দনা করে, তখন এই বিজ্ঞানীদের অবদানকে স্রেফ তাদের ‘চাকরির দায়িত্ব’ হিসেবে দেখা হয়।

বিজ্ঞানীরা দিয়েছেন জ্ঞান ও প্রযুক্তি, আর কৃষকরা দিয়েছেন তাদের কঠোর শ্রম ও উদ্ভাবনী মেধা। বিজ্ঞানীরা যেসব উচ্চফলনশীল জাত উদ্ভাবন করেন, সেগুলো মাঠে ফলান কৃষক। সনাতন চাষপদ্ধতি ছেড়ে আধুনিক যান্ত্রিকীকরণের দিকে তারা যেভাবে ঝুঁকেছেন, তার প্রশংসা কে করেছে? অথচ আমাদের দেশে ‘কৃষক’ শব্দটি এখনো অবহেলার সাথে উচ্চারিত হয়। আমরা তাদের উৎপাদন করা ফসলে উদরপূর্তি করি; কিন্তু তাদের সামাজিক মর্যাদা দিতে কার্পণ্য করি। বাংলাদেশের জিডিপিতে কৃষির অবদান ১১-১৪ শতাংশ। কিন্তু বাস্তব সত্য হলো, কৃষি এখনো বাংলাদেশে একক বৃহত্তম কর্মসংস্থান খাত। দেশের মোট শ্রমশক্তির ৪০ শতাংশ মানুষ সরাসরি কৃষির সাথে সম্পৃক্ত। দারিদ্র্যবিমোচনে কৃষি খাতের প্রবৃদ্ধি অকৃষি খাতের তুলনায় তিনগুণ বেশি কার্যকর। ২০২১-২২ অর্থবছরে কেবল কৃষি ও প্রক্রিয়াজাত পণ্য রফতানি করে বাংলাদেশ ১১৬ কোটি ডলারের বেশি আয় করেছে। এতকিছুর পরও কেন এ খাতের কারিগররা স্বীকৃতি থেকে বঞ্চিত?

স্বীকৃতির এ সঙ্কীর্ণতা কেবল ব্যক্তিগত সম্মানের প্রশ্ন নয়, জাতীয় মানসিকতার দৈন্য। আমরা যদি উন্নত দেশের দিকে তাকাই, দেখতে পাবো তারা কিভাবে কৃষক এবং কৃষিবিজ্ঞানীদের মূল্যায়ন করে। জাপানে কৃষকরা ‘জীবন্ত সম্পদ’ হিসেবে বিবেচিত। সেখানে কোনো কৃষক নতুন কোনো শঙ্কর জাত তৈরি করলে, জৈব চাষে বিশেষ সাফল্য দেখালে রাষ্ট্র সর্বোচ্চ নাগরিক হিসেবে সম্মান দেয়। ইউরোপের দেশগুলোতে কৃষকদের জন্য আছে বিশেষ পেনশন স্কিম। রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে তাদের বিশেষ সম্মান দেয়া হয়। যুক্তরাষ্ট্রে ‘ওয়ার্ল্ড ফুড প্রাইজ’ বা বিশ্বখাদ্য পুরস্কারকে কৃষির নোবেল বলা হয়। এ পুরস্কারের মাধ্যমে কৃষিবিজ্ঞানীদের অবদানকে বীরের মর্যাদায় তুলে ধরে। অথচ আমাদের দেশে একজন কৃষিবিদ বা বিজ্ঞানী যখন অবসরে যান, তাকে পেনশন ফাইল নিয়ে ঘুরতে হয়। অবদানের স্থায়ী স্মৃতিও রাখা হয় না। তাদের রাষ্ট্রীয় বীরের মর্যাদা দেয়ার রেওয়াজ গড়ে তোলা হয়নি।

অথচ রাষ্ট্রীয় পদক দেয়ার ক্ষেত্রে কৃষিবিজ্ঞানীদের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট কোটা রাখা যেত। বাংলাদেশের প্রধান সড়ক, সেতু বা জাতীয় স্থাপনাগুলোর কয়েকটির নাম হতে পারত কোনো কৃষিবিজ্ঞানী বা কৃষকের নামে। এতে পরবর্তী প্রজন্ম জানতে পারত, যে ধান তারা খাচ্ছে সেই ধানের জাতটি কে উদ্ভাবন করেছিলেন, কারা ফলিয়েছিলেন। কৃষিবিজ্ঞানীদের নাম যদি প্রতিটি কৃষি কলেজের ল্যাবে, স্কুলের পাঠ্যবইয়ে লেখা থাকত, তাহলে তরুণসমাজ বিজ্ঞানের এই শাখায় আরো বেশি আকৃষ্ট হতো। এখন কৃষিবিজ্ঞানী ও কৃষকদের যতটুকু সম্মাননা ও পদক দেয়া হয়- এগুলোর আয়োজন হয় অনেকটা দায়সারাভাবে। কৃষকদের জন্য প্রতি বছর জেলা ও উপজেলাপর্যায়ে জমজমাট উৎসবের আয়োজন করে রাষ্ট্রীয় পদক ও আর্থিক সুবিধা দেয়া উচিত।

সম্প্রতি বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ‘ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও কৃষিভূমি সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৬’ জারি করেছে এ বছর জানুয়ারি মাসের ১৯ তারিখে। এই অধ্যাদেশের মাধ্যমে রাষ্ট্র বুঝতে পেরেছে, জমি আমাদের সীমিত এবং এ জমি রক্ষা করতে না পারলে আগামী দিনে কোনো বিজ্ঞানই আমাদের বাঁচাতে পারবে না। অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা এ অধ্যাদেশের মূল বিষয় হলো- জমির মালিকানা ব্যক্তির হলেও এর ব্যবহার হবে রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনায়। এটি কঠোর; কিন্তু প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত অবারিত শিল্পায়ন আর অপরিকল্পিত নগরায়নের ফলে যে তিন ফসলি জমিগুলো হারিয়ে যাচ্ছিল, এ আইন তার ঢাল হিসেবে কাজ করতে পারত।

কৃষিজমিকে অকৃষি কাজে ব্যবহার করা, বিশেষ করে ইটভাটা তৈরি বা আবাসন প্রকল্পের নামে উর্বর মাটি নষ্ট করা হলে সেটি দণ্ডনীয় অপরাধ। এতে কৃষি অঞ্চল, শিল্প অঞ্চল এবং আবাসিক অঞ্চল সুনির্দিষ্ট থাকবে। এর বাস্তবায়ন হলে গ্রামগুলোতেও যত্রতত্র দালান উঠবে না। গড়ে উঠবে পরিকল্পিত আবাসনের সংস্কৃতি; কিন্তু এ আইনের কঠোরতা কেবল সাধারণ মানুষের জন্য হলে চলবে না; বরং ভূমিদস্যুদের থেকেও কৃষিজমি রক্ষায় রাষ্ট্রকে জিরো টলারেন্স নীতি সেই অধ্যাদেশে ছিল। কিন্তু এখানেও যেন মেঘের ঘনঘটায় এখন ধূসর করে ফেলা হয়েছে আইনটি। আইনটি পাস না করে ফাইল-বন্দী করা হয়েছে। এ যেন কৃষিব্যবস্থায় মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা।

[email protected]