রিয়ালের রাজত্ব ভেঙে সেমিফাইনালে বায়ার্ন মিউনিখ

এক যুগের বেশি সময় পর রিয়ালের বিপক্ষে ঘরের মাঠে জিতল বায়ার্ন। আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায় বাভারিয়ানদের জয় ৪-৩ গোলে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
সংগৃহীত

চ্যাম্পিয়নস লিগ শেষ রিয়াল মাদ্রিদের। শেষ আট থেকেই বিদায় নিতে হয়েছে আসরের সর্বোচ্চ শিরোপাজয়ীদের। তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ম্যাচে শেষ হাসি বায়ার্ন মিউনিখের।

এক যুগের বেশি সময় পর রিয়ালের বিপক্ষে ঘরের মাঠে জিতল বায়ার্ন। আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায় বাভারিয়ানদের জয় ৪-৩ গোলে। আর দুই লেগ মিলিয়ে ৬-৪ গোলে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনালে উঠল তারা।

১৯৭০-৭১ মৌসুমের পর কখনোই ঘরের মাঠে নকআউট পর্বের প্রথম লেগ হেরে পরের রাউন্ডে যেতে পারেনি রিয়াল। বায়ার্নকে টপকে তাই শেষ চারে যেতে হলে অবিশ্বাস্য কিছুই করতে হতো।

বুধবার আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায় সেই পথেই যেন হাঁটতে চেয়েছিল রিয়াল। শুরুটাও হলো তেমন। মাত্র ৩৬ সেকেন্ডেই চমক। বায়ার্ন গোলরক্ষকের ভুলে বল পেয়ে দূরপাল্লার শটে গোল করেন আরদা গুলের।

তাতে মাদ্রিদ ১-০ গোলে এগিয়ে যায়। আর দুই লেগ মিলিয়ে ২-২ সমতায় ফেরে আলভারো আরবেলোয়ার দল। জমে উঠে সেমিফাইনালে উঠার লড়াই।

অবশ্য বায়ার্ন শোধ নিতে বেশি সময় নেয়নি। চতুর্থ মিনিটে দুর্দান্ত এক প্রত্যাবর্তন করে বাভারিয়ানরা। কর্নার থেকে কিমিচের দারুণ ক্রসে হেডে গোল করে সমতা ফেরান তরুণ মিডফিল্ডার আলেকজান্ডার পাভলোভিচ।

এরপর ৩০ মিনিটে ডি-বক্সের বাইরে ব্রাহিম দিয়াস ফাউলের শিকার হলে ফ্রি কিক পায় রিয়াল। যা থেকে অসাধারণ বাঁকানো শটে রক্ষণ দেয়ালের ওপর দিয়ে ঠিকানা খুঁজে নেন আরদা গুলের। দুই লেগ মিলিয়ে স্কোর ৩-৩।

তবে এখানেই শেষ নয় রোমাঞ্চের, ৩৭ মিনিটে আবারো জবাব দেয় বায়ার্ন। উপামেকানোর পাস পেয়ে গোল করেন হ্যারি কেইন। তাতে মৌসুমে গোলের হাফ-সেঞ্চুরি পূর্ণ হয় এই ইংলিশ তারকার।

তবে রিয়াল বিরতিতে যায় স্বস্তি নিয়েই। প্রথমার্ধের শেষ হাসি হাসে তারা। ভিনিসিউস জুনিয়য়ের পাস থেকে সহজ গোল করেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। দুই লেগ মিলিয়ে তখন ৪-৪ সমতা, ম্যাচের স্কোর ৩-২।

প্রথমার্ধে গোল উৎসব হলেও দ্বিতীয়ার্ধ ছিল ভিন্ন। এই সময়টায় অবশ্য ম্যাচে একচেটিয়া আধিপত্য দেখায় স্বাগতিকেরা। গোলের নেশায় মরিয়া হয়ে ওয়ে বায়ার্ন। তবে রিয়ালের দূর্গে ফাঁটল ধরছিল না মোটেও।

এমতাবস্থায় যখন রিয়াল যখন ম্যাচে ফেরা স্বপ্নে বিভোর, তখনই আসে বড় ধাক্কা। ম্যাচের মোড় ঘুরে যায় শেষ সময়ে এসে, ৮৭ মিনিটে কামাভিঙ্গা লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। রিয়াল পরিনত হয় ১০ জনের দলে।

সুযোগটা কাজে লাগাতে দেরি করেনি বায়ার্ন। ৯০ মিনিটে দূরপাল্লার শটে সমতা ফেরান লুইস দিয়াজ। তাতে এগ্রিগেটে ৫-৪ ব্যবধানে এগিয়ে বায়ার্ন! রিয়ালের কপালে চিন্তার ভাঁজ।

সেই চিন্তার ইতি টেনে যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে কফিনে শেষ পেরেক ঠুকেন ওলিসে। রিয়ালের সব প্রচেষ্টায় ভণ্ডুল করে দেন তিনি। দলকে এনে দেন ৪-৩ গোলের জয়।

আর দুই লেগ মিলিয়ে ৬-৪ এগিয়ে থেকে চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমি ফাইনাল নিশ্চিত করে বায়ার্ন। ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন পিএসজির মুখোমুখি হবে জার্মান চ্যাম্পিয়নরা।