বাংলাদেশ ফুটবল দলের দায়িত্ব নিতে কোচদের আবেদনের হিড়িক পড়ে গেছে। মাত্র সাত দিনেই জমা পড়েছে ১২৮টি আবেদন! যেখানে আছে বিশ্ব ফুটবলের বেশ কিছু বড় নাম।
জীবন বৃত্তান্ত জমা দিয়েছেন ‘ক্রোয়েশিয়ান আইনস্টাইন’ খ্যাত পিটার সেগ্রেট, জার্মানির অ্যান্টেইন হেই, দু’বারের সাফজয়ী কোচ ইগর স্টিমাচ ও পিএসজির সাবেক কোচ দিদিয়ের ওলেও।
অথচ একসময় বড় প্রোফাইলের কোচরা বাংলাদেশের দায়িত্ব নিতে খুব একটা আগ্রহ দেখাতেন না। এ দেশে আসতে তাদের ছিল বেশ অনীহা। নিজেরা খুঁজে বের করে কোচ নিয়োগ দিতো বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)।
তবে গত এক বছরে বদলে গেছে দৃশ্যপট। হামজা চৌধুরীদের আগমন যেমন বদলে দিয়েছে মাঠের গল্প, তেমনি প্রভাব ফেলেছে মাঠের বাহিরেও। বড় কোচদের এখন চোখ বাফুফেতে।
যার রূপ দেখা গেল কোচ নিয়োগ প্রক্রিয়ায়। গত ৯ এপ্রিল বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর জমা পড়েছে শতাধিক আবেদন। ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত এই সংখ্যা যে আরো বাড়বে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।
আবেদনকারীদের মাঝে থাকা পিটার সেগ্রেট ২০১৮ সালে মালদ্বীপকে সাফ শিরোপা জেতানো কোচ। এছাড়া তাজিকিস্তান, আফগানিস্তান, জর্জিয়া জাতীয় দলের দায়িত্বও পালন করেন তিনি।
ভারতের সাবেক কোচ ইগর স্টিমাচও জীবনবৃত্তান্ত পাঠিয়েছেন বাফুফেতে। তার সময়ে দু’টি সাফ জিতেছে ভারত। এমনকি স্টিমাচ এক সময় কোচ ছিলেন ক্রোয়েশিয়া জাতীয় দলেরও।
আবেদনকারীদের মাঝে আরো আছেন গাম্বিয়া, লাইবেরিয়া, কেনিয়া ও মিয়ানমার জাতীয় দলে কাজ করা জার্মানির অ্যান্টেইন হেই। বেশ কয়েকটি ক্লাবের দায়িত্বও সামলেছেন তিনি।
বসুন্ধরা কিংসের সাবেক কোচ থাকা ভ্যালেরি তিতাও আবেদন করেছেন। ছোট-বড় মিলিয়ে এই রোমানিয়ান ২০টির বেশি ক্লাবের দায়িত্বে ছিলেন। বর্তমানে ওমানের ক্লাব আল সিবের কোচ তিনি।
লেবানন জাতীয় দলের সাবেক কোচ মন্টেনেগ্রোর মিওদ্রাগ রাদলোভিচও জমা দিয়েছেন আবেদনপত্র। আবেদনপত্র জমা দেয়া দিদিয়ের ওলের সামলেছেন পিএসজি নারী দলের ডাগআউট।
এছাড়া দেশী-বিদেশী মিলিয়য়ে হাই প্রোফাইল তালিকা আরো বড়। আবেদন করেছেন সদ্য বিদায়ী হাভিয়ার কাবরেরারও। সাবেক কোচ মারুফুল হকও পুনরায় ফিরতে চান লাল-সবুজের ডাগআউটে।
তবে বাফুফে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত আবেদনপত্র জমা নেবে। তারপর বাফুফের টেকনিক্যাল কমিটি যাচাই-বাছাই করে একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরি করবে। সে তালিকা হতে পারে ১০ থেকে ১২ জনের।
স্থানীয় আবেদনকারীদের সাক্ষাৎকার নেয়া হবে স্বশরীরে, বিদেশীদের সাক্ষাৎকার হবে অনলাইনে। কোচ নির্বাচনপ্রক্রিয়া শেষে বেতন ও চুক্তি নিয়ে কথা বলবে জাতীয় দল কমিটি।
জানা গেছে, কোচের যোগ্যতার ক্ষেত্রে এএফসি বা উয়েফা প্রো লাইসেন্স থাকা বাধ্যতামূলক। সেই সাথে অভিজ্ঞতার পাশাপাশি থাকতে হবে স্পোর্টস সায়েন্স ও ডেটা অ্যানালিসিসে আধুনিক জ্ঞান।
সবকিছু ঠিক থাকলে যিনি নিয়োগ পাবেন, তাকে প্রতি মাসে ১৩ হাজার ডলার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত বেতন দিতে পারে বাফুফে।



