কিছুদিন আগেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানান রুবেল হোসেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান জাতীয় দলের জার্সি তুলে রাখার সিদ্ধান্ত।
তার এমন সিদ্ধান্তের পরই বিসিবি জানায় রুবেলকে সম্মানিত করবে তারা। সেই লক্ষ্যে আজ সাবেক এই পেসারকে দেয়া হয় বিদায়ী সম্মাননা। যেখানে রুবেল উপস্থিত ছিলেন তার ছেলেকে নিয়ে।
খেলা মাঠে গড়ানোর আগে গ্র্যান্ড স্ট্যান্ডে সামনে জড়ো হন দলের ক্রিকেটার, টিম ম্যানেজমেন্টের সদস্যরা। সেখানে রুবেলের হাতে তুলে দেয়া হয় বিশেষ ক্রেস্ট ও বাধাই করা তিন সংস্করণের তিনটি জার্সি। যেখানে তার ক্যারিয়ারের পরিসংখ্যান লেখা রয়েছে।
মিরপুরে এ সময় উপস্থিত ছিলেন বোর্ড সভাপতি তামিম ইকবাল ও এডহক কমিটির দুই সদস্য ফাহিম সিনহা ও রফিকুল ইসলাম বাবু এবং সিইও নিজামউদ্দীন চৌধুরী সুজন।
২০১৫ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটি অবিস্মরণীয় হয়ে আছে রুবেলের জন্য। তার অসাধারণ দুটি ডেলিভারিতে প্রথমবারের মতো কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে বাংলাদেশ।
সেই স্মৃতি স্মরণ করে দলের পক্ষ থেকে রুবেলের প্রতি বিদায়ী বার্তা দেন তাসকিন আহমেদ। এরপর রুবেল আবেগঘন বক্তব্য রাখেন। কৃতজ্ঞতা জানান সতীর্থ, টিম ম্যানেজমেন্ট, কোচ, বোর্ডকর্তা ও পরিবারের প্রতি-
‘আমার কাছে খুবই গর্বের এবং আনন্দের ছিল যে আজ এত সুন্দর একটি পরিবেশ তৈরি করেছে, এত সুন্দরভাবে আমাকে সম্মানিত করেছে। এজন্য বিসিবি ও প্রেসিডেন্ট তামিম ইকবালকে আন্তরিক ধন্যবাদ এবং শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করছি।’
‘আমার আজকের রুবেল হোসেন হওয়ার পেছনে যে মানুষটার অবদান আমার কাছে অন্যরকম। আমাকে পেসার হান্ট থেকে নিয়ে এসে যে মানুষটা আমাকে ওপরে ওঠার সিঁড়ি ধরিয়ে দিয়েছেন, তিনি আমার প্রিয় কোচ আমার শ্রদ্ধেয় সরওয়ার ইমরান স্যার। স্যারের প্রতি সারা জীবন কৃতজ্ঞ থাকব।’- যোগ করেন তিনি।
রুবেল বলেন, ‘ছোটবেলা থেকে স্কুল টুর্নামেন্ট থেকে শুরু করে আমার সমস্ত কোচ এবং জাতীয় পর্যায় থেকে শুরু করে আমার ফিজিও এবং আমাদের গ্রাউন্ডসকর্মী থেকে শুরু করে সমস্ত কোচদেরকে সবাইকে আমি আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাই, যারা আমাকে অনেক সমর্থন দিয়েছেন, সাহস জুগিয়েছেন এবং আমার পাশে ছিলেন।’
মা-বাবার পাশাপাশি, বন্ধু, স্বজন, ভক্তদের কথাও স্মরণ করেন রুবেল- ‘আজকে এখানে দাঁড়াতে পেরেছি আমার দুইজন মানুষের জন্য, সে হচ্ছে আমার বাবা ও আমার মা, যারা আমাকে আন্তরিকভাবে আমাকে সাহস জুগিয়েছেন, আমার পাশে ছিলেন, আমাকে নিঃস্বার্থভাবে ভালোবেসেছেন, আমি তাদেরকে আজকে খুব মিস করছি।’



