টানা দুই ওয়ানডে সিরিজ জিতে খানিকটা স্বস্তিতে ছিল বাংলাদেশ। তবে সেই স্বস্তি উবে গেছে, নিউজিল্যান্ডের কাছে বড় ধাক্কা খেয়েছে টাইগাররা। যদিও তা থেকে বেড়িয়ে আসার সুযোগও পাচ্ছে।
তিন ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে আজ সোমবার মাঠে নামছে বাংলাদেশ। সিরিজের প্রথম ম্যাচ হেরে যাওয়ায় ম্যাচটা এখন বাঁচা-মরার লড়াই। মিরপুরে এই লড়াই শুরু বেলা ১১টায়।
প্রথম ম্যাচে তেমন একটা সুবিধা করতে পারেনি বাংলাদেশ। ঘরের মাঠে চেনা সমর্থকদের সামনে হেরে যায় ২৬ রানের ব্যবধানে। যেখানে হারের চেয়েও প্রশ্নবিদ্ধ হারের ধরন।
আগে ব্যাট করে শুরুতে চাপে থাকলেও শেষ পর্যন্ত ৮ উইকেটে ২৪৭ রান তুলে নিউজিল্যান্ড। লক্ষ্য তাড়ায় ব্যাটিং ব্যর্থতায় হেরে যায় বাংলাদেশ। পারেনি পুরো ৫০ ওভার খেলতেও।
প্রথম ২৫ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ১২৪ রান তোলার পরও ৪৮.৩ ওভারে ২২১ রানে গুটিয়ে যায় টাইগাররা। তাতে সিরিজে পিছিয়ে পড়ে ১-০ ব্যবধানে।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও পাকিস্তানের বিপক্ষে টানা দু’টি দ্বিপক্ষীয় সিরিজ জিতে যে ধারা তৈরি করেছিল দল, তা ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ নিয়েই আজ মাঠে নামবে টাইগাররা। যদিও তা বেশ কঠিন হবে।
ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ডকে ধবলধোলাই করতে পারলে বেশ কিছু রেটিং পেত অবশ্য বাংলাদেশ। যদিও এখন আর ধবলধোলাই আর করা হচ্ছে না, তবে সুযোগ আছে সিরিজ জয়ের।
সেই জন্য ঘুরে দাঁড়াতে হবে ব্যাটারদের। প্রথম ম্যাচে যারপরনাই ব্যর্থ ছিল টপঅর্ডার। ওপেনার থেকে লোয়ার অর্ডার, কেউ পারেনি ভালো করতে। দায়িত্ব নিতে পারেনি কেউ, পারেনি ইনিংস বড় করতে।
২০২৩ বিশ্বকাপের পর থেকে গত ১৮ ইনিংসে কোনো ফিফটিই করতে পারেননি লিটন দাস। অন্যদিকে ১৭ ইনিংস ধরে ফিফটি নেই আফিফ হোসেনের ব্যাটে। রানে নাজমুল হোসেন শান্তও।
শান্ত সবশেষ ফিফটি পেয়েছিলেন গত বছর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে (৭৭)। এরপর টানা ১৩ ইনিংস আর ব্যাট উঁচু করে ধরা হয়নি। এই সময়ে তার ব্যাটিং গড় ১৪.৯২, স্ট্রাইক রেট ৬৭.৫৯।
ব্যাটারদের এমন দুরাবস্থা যেমন ভাবাচ্ছে দলকে, ভাবাচ্ছে পরিসংখ্যানও। ইতিহাস বলছে, ওয়ানডেতে এখন পর্যন্ত তিন ম্যাচের সিরিজের মধ্যে ৪১টিতে প্রথম ম্যাচ হেরেছে বাংলাদেশ।
এর মাঝে ৩৯টিতেই আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি তারা, হেরে গেছে সিরিজ। যেখানে ২৮টিতেই তারা হয় হোয়াইটওয়াশ। মাত্র দু’বার ঘুরে দাঁড়িয়ে সিরিজ জিতে দল। তবুও তা শেষবার ঘটে ২০১৫ সালে।
অর্থাৎ সিরিজ জিততে হলে ইতিহাস গড়তে হবে বাংলাদেশকে। পাড়ি দিতে হবে কঠিন বৈতরণী।



