সহজ ম্যাচ কঠিন করে জিতলো বাংলাদেশ

১৪তম ওভারে বাংলাদেশকে প্রথম ব্রেকথ্রু এনে দেন রিতু মনি। লঙ্কান অধিনায়ক পেরেরাকে ব্যক্তিগত ২৭ রানে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন এই পেসার। নিজের পরের ওভারে হার্শিতা সামারাবিক্রমার উইকেটও নেন রিতু।

নয়া দিগন্ত অনলাইন

সহজ জয়ের পথেই ছিল বাংলাদেশ। জয়ের জন্য ৩৬ বলে প্রয়োজন মাত্র ৭ রান, হাতে ৭ উইকেট। হেসেখেলেই মাঠ ছাড়ার কথা ছিল টাইগ্রেসদের। তবে তা আর হয়নি।

এই সহজ কাজটাই হয়ে উঠলো অতি কঠিন! মাত্র ২ রানের মধ্যে পড়লো ৪ উইকেট। শেষ পর্যন্ত অবশ্য ৯ বল হাতে রেখে ৩ উইকেটের জয় পেয়েছে নিগার সুলতানা জ্যোতির দল।

রাজশাহীতে সফরকারীদের ২০৫ রান তাড়ায় ৪৮.৩ ওভারে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় জ্যোতি-নাহিদারা। একই মাঠে বুধবার সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে মুখোমুখি হবে দুই দল।

২০৬ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের। ইনিংসের পঞ্চম বলেই ফেরেন শারমিন সুলতানা (৫)। আর পরের ওভারেই ফেরেন ওপেনার জুয়াইরিয়া ফেরদৌস (০)।

পাঁচ রানেই দুই উইকেট হারিয়ে ফেলার পর অধিনায়ক নিগার সুলতানাকে সাথে নিয়ে ক্ষত মেরামতের লড়াইয়ে নামেন শারমিন সুলতানা, যদিও সেটি বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। নিগার ফেরেন ১৩ রান নিয়ে।

এরপর শারমিনের সাথে জুটি বাঁধেন সুবহানা মোস্তারি। দুই ব্যাটারের দারুণ ব্যাটিংয়ে ২২তম ওভারেই দলীয় ১০০ রানে পৌঁছে যায় বাঘিনীরা। ১১১ বলে ৮৭ রানের জুটি গড়েন তারা।

৫৬ বলে ছয়টি চারে ৪১ রানে ব্যাট করতে থাকা মোস্তারি ২৮তম ওভারে দলীয় ১২১ রানে রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে ড্রেসিংরুমে ফিরলে থামে এই জুটি। তবে তার অভাব বুঝতেই দেননি স্বর্ণা আক্তার।

এই দুই ব্যাটারের ১০২ বলে ৭৮ রানের আরো একটি দারুণ জুটিতে জয়ের কাছাকাছি পৌঁছে যায় বাংলাদেশ। তবে তখনই ফেরেন শারমিন। ১২৭ বলে ১৩ চারে ৮৬ রানে আউট হন তিনি।

জয় থেকে মাত্র সাত রান দূরে বাংলাদেশ। তবে এই সমীকরণ মেলাতে গিয়ে ফেরেন স্বর্ণাও। আউট হন ৪৮ বলে ৩৫ রান নিয়ে। এরপর এক রানের মাঝে ফেরেন রিতু মনি ও রাবেয়া খানও।

১ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরের কাছে গিয়েও তখন হারের শঙ্কা উঁকি দিচ্ছিলো। তবে শেষ পর্যন্ত সেই ধাক্কা সামলে ওঠে বাংলাদেশ। পেয়ে যায় কাঙ্ক্ষিত জয়।

এর আগে রাজশাহী বিভাগীয় স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে দারুণ সূচনা পায় শ্রীলঙ্কার মেয়েরা। উদ্বোধনী জুটিতে ৬৮ রান তোলেন অধিনায়ক হাসিনি পেরেরা ও ইমেশা দুলানি।

১৪তম ওভারে বাংলাদেশকে প্রথম ব্রেকথ্রু এনে দেন রিতু মনি। লঙ্কান অধিনায়ক পেরেরাকে ব্যক্তিগত ২৭ রানে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন এই পেসার। নিজের পরের ওভারে হার্শিতা সামারাবিক্রমার উইকেটও নেন রিতু।

পরে তৃতীয় উইকেটে ৬২ রানের জুটি গড়েন দুলানি ও হানসিমা করুনারত্নে। এই জুটি থামান সুলতানা খাতুন। ৫২ রান করে ফেরেন দুলানি। ৭১ বলে ৫৪ রানের ইনিংস খেলেন হানসিমা।

শেষদিকে কাভিশা দিলহারি ৩০ ও কৌশিনি নুথিয়াঙ্গানার ব্যাট থেকে আসে ১৮ রান। রিতুর ৩ উইকেট ছাড়াও নাহিদা আক্তারের ঝুলিতে জমা পড়ে ২ উইকেট।