ছয় কলস রঙ চা : শাওন আসগর

Printed Edition

মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের কুমিল্লা জোনাল অফিস থেকে আব্বা এই শহরে বদলি হয়ে এলেন তখন আমি মায়ের পেটে। এ শহরে কোনো সরকারি বাসা ছিল না, বাধ্য হয়ে আব্বা শহর থেকে একটু দূরে বাসা ভাড়া করলেন। এ বাসার আঙ্গিনায় রয়েছে কামরাঙ্গা, বড়ই, দুটো নারকেল গাছ। আমার ভালোই লাগে। সারাদিন কাকপক্ষীর ডাকাডাকি, চড়ুই পাখির কিচিরমিচির। টিনের ঘর। ঝুমঝুম বৃষ্টির শব্দ আমাকে অনেক দূরে নিয়ে যায়- সেই কুমিল্লার দেবীদ্বারে, গ্রামের বাড়িতে। যেখানে সবুজ জমিজমা, পুকুরের চারপাশে বৃক্ষ তরুলতার সমাহার। যেখানে ছোট্ট খাল সাপের মতো পেঁচিয়ে পেঁচিয়ে চলে গেছে গোমতির কাছে। গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে গেলে আমাদের সেই প্রিয় দেবীদ্বারের অনেক স্মৃতি আমাকে জড়িয়ে ধরে আটকে রাখতে চায়। কিন্তু ফিরে আসতে হয় জীবনের টানে।

তখন তো আব্বার বেতন সুযোগ-সুবিধা খুবই কম ছিল। তাই মূল শহর থেকে একটু দূরে, এখানে আমাদের অস্থায়ী বসবাস। বাসা নেয়ার চার মাস পরে আমার জন্ম হলো। মায়ের প্রথম সন্তান। নরমাল ডেলিভারি, ঘরেই। শুধু একজন প্রতিবেশী এসে আম্মার সেবা করে গেলেন ।

যখন চিৎকার করে এলাকাবাসীকে জানিয়ে দিলাম আমি এসে গেছি, আব্বা তখনো অফিসে। আম্মা প্রসব বেদনায় কাতরাচ্ছেন। আব্বা আসতে আসতে আম্মার সব ব্যথাই প্রায় শেষ হয়ে গেল। তিনি আগে থেকেই সাধনা ঔষধালয়ের দুই বোতল হারবাল টনিক আম্মার জন্য ঘরে এনে রেখেছিলেন। ঘরের রেকে ওষুধ। ওই হারবাল টনিকে নাকি প্রসূতিদের রক্তশূন্যতা হ্রাস পায়।

আমি খুব সুন্দর ছিলাম। অসাধারণ রূপের ঝলকে পুরো ঘর আলোকিত হয়েছিল। উজ্জ্বল সাদা গায়ের রং, যেন সন্ধ্যা রাতে এই ঘরে এক পরী নেমে এসেছে। তখনকার এই মহাআনন্দের গল্প আম্মা পরবর্তী অনেক বছরই আত্মীয়স্বজনদের শুনিয়েছেন।

এভাবেই বাল্যকাল অতিক্রম হলো। আমার বয়স যখন পাঁচ ছয় বছর , আব্বা যে বাসাটি ভাড়া করেছিলেন সেই বাসার অদূরে বেশ কম দামে দশ শতক জমি ক্রয় করে ছোট্ট একটি একতলা টিনশেড ঘর করে দিলেন। তখন আমি প্রাইমারি স্কুলে ভর্তি হয়েছি মাত্র। বাড়ি বানিয়ে আব্বা মাকে বললেন, আমার এই মেয়েটি খুব ভালো মেয়ে , ভাগ্যবতী। দেখো না এ শহরে আমাদের একটি বাড়ি হয়ে গেল। সব আমার মেয়ের ভাগ্যে।

প্রাইমারি স্কুল অতিক্রম করতেই আব্বা আবার বদলি হয়ে গেলেন রংপুর জোনাল অফিসে। আমরা কি করব? আব্বা বললেন, টেনশন করার কিছু নেই রে মা। তোমরা বাড়িতেই থাকবে। এখানেই পড়াশোনা করবে। আমি সপ্তাহে সপ্তাহে একবার করে আসবো। আব্বা রংপুর চলে যাওয়াতে আমার মন খুবই খারাপ। আম্মা মিনমিন করে বলতে থাকেন- তোর বাবা কি খাবে কি পরবে কখন অফিসে যাবে কিভাবে যাবে এই টেনশনই আমি বাঁচি না মা।

আমার তত টেনশন নেই। বাবা কি খাবে কি পরবে কখন যাবে এসবের চেয়েও আমার আরো ভাবনার বিষয় রয়েছে। আমার টেনশন আমি যে বাবার স্নেহ থেকে বঞ্চিত হয়েছি। এটি আমি সহজভাবে মেনে নিতে পারছি না। কখনো খুব দেরি হলে মাঝেমধ্যে আব্বার দুই একটি চিঠিও চলে আসে। রংপুরের জোনাল অফিস থেকে আব্বা আম্মাকে সম্বোধন করে চিঠি লিখেন। সেই চিঠিতে আমার কথা জানতে চান- বাদিবা বেগম, কেমন আছে আমার কলিজার টুকরা চুমকি? চুমকি কি পড়াশোনা ঠিকমতো করছে? তার দিকে নজর দিও।

আমি তো পড়াশোনা করি না। একে তো বাবার শাসন নেই দ্বিতীয়ত, মা সবসময়ই মন খারাপ করে থাকেন আর তৃতীয়তও স্কুলে যাওয়ার পথেই সাজ্জাদ আমাকে খুব বিরক্ত করে। যাওয়ার পথে, স্কুল ছুটি হলেও পথে সে দাঁড়িয়ে থাকে। আমার কাছে এসে এটা ওটা জিজ্ঞেস করে মায়ের কথা বাবার কথা ঘরের কোন সমস্যা আছে কি না- এসব প্রশ্ন করতে করতেই একদিন আমি তার আপন হয়ে উঠি। তাকে আমিও সহজ করি গ্রহণ করি। তখন নবম শ্রেণীতে পড়ি মাত্র।

এই খবর কি গোপন থাকে? এই খবর গোপন থাকে না। এ খবর একদিন মায়ের কানে চলে যায়। মা তখন ঝাঁঝালো কণ্ঠে আমাকে শুনিয়ে রাখেন- শোন চুমকি যাই করিস কোন ছেলে মানুষের সাথে রিলেশন করলে তোকে আমি আস্ত রাখব না। মনে করিস না বাবার আদর আছে বলে বাবাও তোকে ছাড় দেবেন। কোনো ছাড় হবে না , মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা কর। কারণ তোকে নিয়ে আমাদের অনেক স্বপ্ন , তোকে ডাক্তার হতেই হবে।

ডাক্তার হতে হবে, ডাক্তার হতে হবে- এসব কথা শুনতে শুনতেই আমার কান ঝালাপালা। আমি স্টুডেন্ট হিসেবে খুবই ভালো, লেখাপড়া করছি। প্রতি বছর রেজাল্ট ভালো করি। এখনো সময় আছে। আমি সাজ্জাদকে আমার এই স্বপ্নের কথা বাবা মায়ের কথা বলে রাখি। সাজ্জাদ খুবই ভদ্র সভ্য ছেলে। সেও আমাকে পড়াশোনায় সাহায্য করে। কিন্তু সে যে অত্যন্ত গরিব সংসারের ছেলে- এ কথা আমার মা বাবা জানেন কি না আমি জানি না।

একদিন বাবা রংপুর থেকে এসে যখন আমাকে মুখোমুখি করে বসলেন আর বললেন, সাজ্জাদ কে? সব খবর নিয়েছি। ওর সাথে সম্পর্ক ত্যাগ করতে হবে। প্রয়োজনে আমি এই বাড়ি বিক্রি করে অনেক অন্যত্র চলে যাব, তবুও ওই বখাটে ছেলেদের সাথে তোমাকে মিশতে দেবো না।

সাজ্জাদ বখাটে ছেলে- এ কথা আমি বিশ্বাস করতে পারি না। তবে সে মাঝে মাঝে ধূমপান করে, তার আর কোনো বাজে সংশ্রব নেই, বাজে আড্ডা নেই, আজেবাজে মানুষের সাথে চলতে দেখিনি কখনো। তাহলে আব্বা কি করে জানলেন এই তথ্য?

দুই।

চূড়ান্ত ফয়সালা হলো বাড়ি বিক্রি করে দেয়া। কারণ আমি মার কাছে শুনেছি সাজ্জাদের সাথেও আব্বার কর্কশ বাতচিত হয়ে গেছে। কোনোভাবেই তাকে মেনে নেয়া যাবে না। অবশেষে বাড়ি বিক্রি করে দিয়ে ঢাকায় চলে এলাম সবাই। পেছনে ফেলে আসলাম আমাদের স্মৃতিময় রাউজান। চট্টগ্রামের এই রাউজান থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম- বান্দরবান দেখার যে সৌন্দর্য , যে প্রকৃতি, সবুজের যে অনিন্দ্য সুন্দর বিস্তৃত বিছানা, তা আমার জীবনের শেষ স্মৃতিজড়িত দুঃখের চিহ্ন হয়ে থাকল বাকি জীবন। বাড়ি বিক্রির টাকায় ঢাকার মোহাম্মদপুরে একটি ফ্ল্যাট কিনে নিলো আব্বা, একেবারেই শহুরে জীবন। গিজগিজ এ শহর, রিকশার শহর, হরেক রকম মানুষের গ্যাঞ্জামে ভরা এই শহর, এখানেই ভর্তি হয়ে গেলাম কলেজে।

মাঝে মাঝে মনের ভেতর টান পড়ে সাজ্জাদের জন্য। এক মহাশূন্যতা নিয়ে পড়ে থাকি ঘরে, নীরবে, বন্ধুহীন আনন্দহীন জীবনে। যে কয় বছরে সাজ্জাদকে আমি জেনেছি তাতে আমি বিশ্বাস করি সাজ্জাদ কখনোই হাল ছেড়ে দেয়ার পাত্র নয়। ও আমাকে সত্যি ভালোবাসতো বলেই একদিন সাথে করে দুজন লোককে নিয়ে ঢাকার বাসায় চলে আসে।

কি দুর্দান্ত, প্রচণ্ড ক্ষ্যাপা ছেলে সে। সাথে আরো দুজনকে নিয়ে আসে যখন, আমি কলেজে জীবন শেষ করেছি, মেডিক্যালে ভর্তি হবো মাত্র। তিনটি বছর কোনো যোগাযোগ ছিল না আমাদের। এভাবেই সাজ্জাদ ছাড়া জীবন প্রেম-ভালোবাসাহীন জীবন, সেই পুরনো পরিবেশ ছেড়ে আমাকে বাঁচতে হয়েছে। কিন্তু তিন বছর পর তাকে এখানে দেখে আমার ভেতর আবার সব লণ্ডভণ্ড হয়ে গেল। বুকের ভেতর ভূমিকম্প, সারা দেহ নড়ে চড়ে উঠল। তীব্র আবেগে চোখে পানি গড়িয়ে পড়ল।

সাজ্জাদ সাথে করে দুজন লোককে নিয়ে এসেছিল, তারা আব্বার সাথে কি কথা বলে আব্বাকে সোজা জানিয়ে দিলো- আপনার মেয়েকে আমাদের চাই-ই চাই। আর না হয় বড় কোনো সমস্যা হয়ে যাবে। এই দুর্বিনীত চাওয়ার কাছে, সাজ্জাদের আবেগ ত্যাগ এবং অসহায়ত্ব দেখে আমার আব্বা অবশেষে পরাজিত হলেন। আমি শুনেছি তিনি আম্মাকে বলছেন, চুমকির মা আমি হেরেই গেলাম। ঠিক আছে মেয়েকে তৈরি করে দাও।

তিন।

আমি চুমকি বিয়ে করে চলে এলাম আবার চাটগাঁ’য়ের রাউজানে। তবে আমাদের পুরনো ঠিকানায় নয়, সাজ্জাদের নতুন বাড়িতে। ইতোমধ্যে গ্রামটি আর গ্রাম নেই, এটি হয়ে উঠেছে উপশহর। হালদা নদীর পাড় ঘেঁষে বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্র-পার্ক। পথঘাট হয়েছে অনেক উন্নত। আমার আর ডাক্তার হওয়া হলো না। একজন সাধারণ গৃহিণী। তবু আমি সুখী, যাকে চেয়েছিলাম, তাকে পেয়েছি। সুখ তো আমার এখন প্রাপ্য। আমি সাজ্জাদের স্ত্রী, এ গ্রামে এই বাড়িতে।

চার।

অনেক বছরের সংসার হয়ে গেল আমার। আমার প্রথম সন্তানের বয়স এখন তেরো বছর। ছোট সন্তানের বয়স আড়াই। বিয়ের আগেই বার্ধক্যজনিত কারণে সাজ্জাদের আব্বা ইন্তেকাল করেছেন। ওর ছোট চাচা-ই এ সংসার দেখাশোনা করতেন, দায়িত্বে ছিলেন। আপৎকালীন কর্তা হওয়ার কারণে আমার ঘরের হাড়ি পাতিল আনাজপাতিসহ সংসারের অন্যান্য কক্ষে এবং বাড়ি ঘিরে রয়েছে তার অনেক স্মৃতি। তিনিও ইন্তেকাল করলেন সন্ধ্যায়। তার এই মৃত্যু আমাকে ভেতরে ভেতরে অনেকটাই কাবু করেছে কিন্তু আমি কাঁদিনি। বুকে পাথরচাপা ভার নিয়ে চুপ হয়ে বসে ছিলাম দীর্ঘক্ষণ। পরদিন সকালে তার জানাজা দাফন কাফন হবে বলে সন্ধ্যা থেকেই লোকজন আত্মীয়স্বজন আসা শুরু করেছে।

কেউ কেউ কাঁদেন, কেউ নীরব বিষণœ চেহারা নিয়ে বসে থাকেন। অনেকেই দু-চার কথা বলে স্মৃতিচারণ করেন। আগত লোকের ভিড় আর কমে না, প্রায় ২০০ হতে পারে। আমার উপরে দায়িত্ব এসেছে তাদেরকে চা-নাশতা খাওয়ানোর। এই আমি করছি সারারাত ভরে, ছয় কলস চা, রং চা, গুড়ের চা।

তীব্র শীত জেঁকে বসেছে। সবার শরীরেই গরম পোশাক। বাড়ির গাছ-গাছালি বৃক্ষ তরুলতা সবাই শীতে কাবু হয়ে আছে। বাড়ির উঠোনের মাটিও কি ঠাণ্ডা। খালি গায়ে হাঁটা যায় না কিন্তু আমি কতবার আসব আর যাব তার কোনো ঠিক নেই। রান্নাঘরে আসি আর বসত করে যাই আর রান্না ঘরের চুলায় বসিয়ে রাখছি কলসভর্তি চায়ের পানি। ছোট ননদ সবাইকে দিয়ে আসে। উজাগর রাত কাটে আমার এভাবেই আর কথার ফাঁকে ফাঁকে ছোট ননদ আমাকে বলে- এটি নাকি ইতিহাস হবে একদিন। আমি একা, কেবল একা সারারাত ধরে লাকড়ির চুলায় এই ছয় কলস চা প্রস্তুত করে ছোট ননদের হাতে দিয়ে মেহমানকে আপ্যায়ন করছি, আমার কোনো ক্লান্তি নেই।

কিন্তু এখন আমার মনে দুঃখের জল জমা হয়ে আছে বিস্তর। পাঁচ বছর আগেই সাজ্জাদ চলে গেছে দুবাইয়ে। দুবাই গিয়ে সাজ্জাদ প্রচুর পয়সা উপার্জন করেছে। প্রতি বছর যখন একবার করে ফিরে আসে তখন শুধু টাকার সাগরে ভাসতে থাকি। এই তিন বছর আগেও একটি জায়গা কিনে নতুন বাড়িও তৈরি হয়েছে আমাদের। বাড়িতে উঠে এসেছি দুই মাস হলো, এখানেই আমার দ্বিতীয় সন্তানের জন্ম কিন্তু এখন কোথায় সাজ্জাদ?

নতুন গড়ে তোলা এ সুন্দর প্রাচীর ঘেরা বাড়িতে সাজ্জাদ নেই। শুরু হয়েছে ইরান-ইসরাইল যুদ্ধ। আকাশে আগুনের উৎসব আর নিচে মৃত্যুর সারি। বর্বর দস্যু আমেরিকাকে বুঝানোর জন্য ইরান বারবার আমেরিকার মদদপুষ্ট পার্শ্ববর্তী মুসলিম দেশগুলোতে আক্রমণ করছে। আমেরিকা যে মধ্যপ্রাচ্যের চারপাশে নিজেদের সেনা ছাউনি করে রেখেছে তা সহজ হিসেবে নয়,এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের ইরান দখলের পরিকল্পনা। তাই বাহরাইন ওমান সৌদি আরব দুবাই আবুধাবি ইরানের মুসলিম বন্ধু হওয়ার পরও এখন শত্রু। এই যুদ্ধকালীন সময়ে বাংলাদেশের মধ্যপ্রাচ্যগামী সব আন্তর্জাতিক বিমান বন্ধ, কীভাবে সাজ্জাদ ফিরে আসবে স্ত্রী সন্তান আর মায়ের কাছে?

যুদ্ধের প্রথম তিন দিন সে ফোন দিয়ে সব জানিয়েছিল- চুমকি চিন্তা করো না। আমি ভালো আছি নিরাপদে আছি। আমাদের এখানে কোনো সমস্যা নেই, আমরা এখানে ভালো আছি, প্রয়োজনে বাংলাদেশে ফিরে আসব। তুমি মার দিকে খেয়াল রেখো সন্তানের দিকে নজর রেখো। নিজের দিকে খেয়াল রেখো। আমার সন্তান যেন সুস্থ থাকে, এটা তোমার পবিত্র দায়িত্ব।

আমার প্রথম সন্তান সুবাহ কোমলমতি সুন্দরী কিশোরী আর দ্বিতীয় সন্তান সাদিক তার বাবার চেহারা এখনো ভালোমতো দেখেনি।

মেয়ের জন্য ছেলের জন্য তার কী দরদ। এন্ড্রয়েড মোবাইলে মাঝে মাঝে কথা বলে ভিডিও কল দেয় আর মেয়ের দিকে তাকিয়ে থেকে হাসে। ছোট্ট ছেলে এখনো সব কিছু বুঝতে শিখেনি, তবু কত কথা বলে।

কিন্তু আজকে একসপ্তাহ হয়ে গেল সাজ্জাদের কোনো কল আসে না। প্রতিদিন টেলিভিশনে দেখি মধ্যপ্রাচ্য বিরাণ হয়ে যাচ্ছে। ইরানের তেহরানসহ আশেপাশে অনেকগুলো অংশের স্থাপনায় দাউ দাউ আগুন। সাজ্জাদ কি ভালো আছে? সে কি ফিরে আসবে? কীভাবে আসবে? বাংলাদেশের সব বিমান তো বন্ধ।

এই উপশহরে আকাশের মেঘ ছুঁয়ে দিয়ে প্রতিদিন বিমান উড়ে যায়। বিমানের শব্দ পেলে উপরের দিকে তাকিয়ে দেখি, আমার কন্যা সুবাহ মনোযোগ দিয়ে কান পেতে রাখে- সাজ্জাদ কি এসেছে? পজেটিভ কোনো সুসংবাদ না পেয়ে আবার দুঃখের নদীতে ডুব দিতে থাকি, হৃদয় ভেঙে চুরমার হয়। তারপরও অপেক্ষায় থাকি... সাজ্জাদ অবশ্যই একদিন ফিরে আসবে...