বি এম রবিউল ইসলাম উজিরপুর (বরিশাল)
বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলায় একটি আয়রন ব্রিজ নির্মাণে রডের পরিবর্তে বাঁশের কঞ্চি ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে। ব্রিজ নির্মাণের নামে অর্থ আত্মসাৎ এবং নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। কিন্তু রহস্যজনকভাবে উপজেলা এলজিইডি বিভাগ এ বিষয়ে এখনো কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি বলে জানা গেছে।
জানা যায়, উপজেলার রতœপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সোহেল মোল্লা দুশমী-করিমবাজার খালের ওপর বারপাইকা গ্রামের রুহুল হোসেনের বাড়ির সামনে ইউনিয়ন পরিষদের অর্থায়নে ৪৫ ফুট দৈর্ঘ্য ও সাড়ে ৫ ফুট প্রস্থের একটি আয়রন ব্রিজ নির্মাণ করেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মাণকাজে শুরু থেকেই নানা অনিয়মের কথা প্রচার হতে থাকে।
অভিযোগে বলা হয়, সরকারি নিয়মানুযায়ী ব্রিজের ঢালাই ৫ ইঞ্চি পুরু হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তা করা হয়েছে মাত্র তিন বা সাড়ে তিন ইঞ্চি। পাশাপাশি নির্ধারিত দূরত্ব বজায় না রেখে প্রায় ১ ফুট পরপর রড বসানো হয়েছে, যা কাঠামোর স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ঢালাইয়ের সময় স্থানীয় বাসিন্দারা এসব অনিয়মের প্রতিবাদ করলে ঠিকাদার পক্ষ থেকে নামমাত্র কয়েকটি রড এনে দায়সারা কাজ করার চেষ্টা করা হয়।
এ ছাড়া নির্মাণকাজের একপর্যায়ে সিমেন্টের ঘাটতি দেখা দিলে স্থানীয়দের কাছ থেকেই পাঁচ বস্তা সিমেন্ট সংগ্রহ করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, গত মঙ্গলবার ব্রিজের উত্তর পাড়ে বাঁশের কঞ্চি ব্যবহার করে ঢালাই সম্পন্ন করা হয়, যা একটি আয়রন ব্রিজের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
স্থানীয় বাসিন্দা হিমু মোল্লা জানান, ব্রিজটির নির্ধারিত দৈর্ঘ্য ছিল ৫৫ ফুট, কিন্তু বাস্তবে নির্মাণ করা হয়েছে মাত্র ৪৫ ফুট। এ ছাড়া ইউনিয়ন পরিষদ থেকে এক লাখ টাকা বরাদ্দ থাকলেও ইউপি সদস্য সোহেল মোল্লা সুবিধাভোগীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত আরও প্রায় ৮৫ হাজার টাকা আদায় করেছেন বলে জানা যায়।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ইউপি সদস্য সোহেল মোল্লা বলেন, আমরা কোনো অনিয়ম করিনি। ব্রিজের বাইরে কিছু জায়গায় বাঁশ ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে, তবে সেটা আমাদের কাজের অংশ নয়। রতœপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা সরদার জানান, ব্রিজ নির্মাণের জন্য প্রথম পর্যায়ে দেড় লাখ টাকা এবং পরে ঢালাই কাজের জন্য আরো এক লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী রবীন্দ্র চক্রবর্তী বলেন, ‘এলজিইডির অনুমতি ছাড়া কোনো ব্রিজের ঢালাই দেয়ার সুযোগ নেই। ওই ব্রিজের ঢালাইয়ের সময় আমাদের কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন না।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিখন বনিক জানান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি তার নজরে এসেছে। তিনি বলেন, ‘সরেজমিন তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’ এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে এবং দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি উঠছে।



