বার্সার পর রিয়ালেরও বিদায়

Printed Edition

ক্রীড়া ডেস্ক

চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের ফিরতে লেগ। জার্মানির আলিয়াঞ্জ এরিনায় উত্থান-পতনের দুর্দান্ত এক লড়াইয়ে দুই পাশেই বিব্রতকর ভুল দুই গোলরক্ষকের। গোলের পর গোলে ম্যাচের মোড় পরিবর্তন হলো বারবার। রোমাঞ্চকর লড়াইটি আবার নতুন মোড় নিলো এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গার লাল কার্ডে। এতে রিয়াল মাদ্রিদ ১০ জনের দলে পরিণত হলে আরো দুই গোল হজম করে। এতেই সেমিফাইনাল নিশ্চিত হয় বায়ার্ন মিউনিখের। প্রথম লেগে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে ২-১ ব্যবধানে জয়ের পর ফিরতি লেগে আলিয়াঞ্জ এরিনায় ৪-৩ ব্যবধানে লস ব্লাঙ্কোসদের হারিয়ে দুই লেগ মিলে ৬-৪ এগ্রিগেটে শেষ চার নিশ্চিত করল বাভারিয়ানরা। কোয়ার্টার ফাইনালে আগের দিন অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদের কাছে হেরে বিদায় নিয়েছিল বার্সেলোনা। এবার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়ালকে ইউরোপ সেরার প্রতিযোগিতা থেকে ছিটকে দিলো ভিনসেন্ট কোম্পানির বায়ার্ন।

দিনের অপর ম্যাচে পর্তুগালের ক্লাব স্পোর্টিং সিপির বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে আর্সেনাল। কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে পর্তুগালের মাঠে ১-০ ব্যবধানে জয়ী হয়েছিল ইংলিশ ক্লাবটি। দুই লেগ মিলে ১-০ ব্যবধানে স্পোর্টিংকে পেছনে ফেলে সেমিতে স্প্যানিশ ক্লাব অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদকে পেল মিকেল আর্তেতার দল।

চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের ফিরতি লেগে আলিয়াঞ্জ এরিনায় গত পরশু পুরো ম্যাচে বল দখলের লড়াইয়ে ৬৭ শতাংশ এগিয়ে ছিল বায়ার্ন মিউনিখ। এ সময় আক্রমণের আধিপত্য দেখিয়ে গোলের জন্য নেয়া ২১ শটের ৯টি লক্ষ্যে রেখে ৪বার জাল স্পর্শ করে বায়ার্ন। অপর দিকে পাল্টা আক্রমণ-নির্ভর ফুটবল খেলা ১২টি শটের পাঁচটি লক্ষ্যে রেখে ৩টি গোল আদায় করে রিয়াল। তবে বল মাঠে গড়ানোর পার কিছু বুঝে উঠার আগেই গোল হজম করে স্বাগতিকরা। পোস্ট ছেড়ে গোলরক্ষক ম্যানুয়েল ন্যূয়ার অনেকটা এগিয়ে ডান দিকে আরেক সতীর্থকে খুঁজে নেয়ার চেষ্টায় বল বাড়ালে এতে ঠিকঠাক গতি ছিল না। মাঝপথে বল ধরেই দারুণ বাঁকানো শট ক্রসবার ঘেঁষে জালে জড়িয়ে দেন আর্দা গুলার। ৩৫ সেকেন্ডে করা এই গোলে এগিয়ে যায় রিয়াল। ওই ধাক্কা সামলে পাঁচ মিনিট পরই ম্যাচে সমতা টানে বায়ার্ন। জসুয়া কিমিচের কর্নারে একেবারে গোলমুখে হেডে গোল করেন আলেকজান্ডার পাভলোভিচ।

২৬ থেকে ২৭ মিনিটের মধ্যে পরপর তিনটি কর্নার পায় বায়ার্ন। তৃতীয় কর্নার ঠেকিয়ে পাল্টা আক্রমণে উঠলে ডি বক্সের বাইরে ব্রাহিম দিয়াজ ফাউলের শিকার হলে ফ্রি কিক পায় রিয়াল। অসাধারণ বাঁকানো শটে দুর্দান্ত গোলে দলকে আবার ম্যাচে এগিয়ে নেন গুলের। ৩৮ মিনিটে আবার স্বাগতিকদের ২-২-এ সমতায় হ্যারি কেন। উপামেকানোর পাস ডি-বক্সে ফাঁকায় পেয়ে কোনাকুনি শটে মৌসুমে গোলের হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন ইংলিশ এই ফরোয়ার্ড। ৪ মিনিট পর সফরকারীদের এগিয়ে নেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। ভিনিসিয়াস জুনিয়ারের পাসে ডি-বক্সে বল পেয়ে প্লেসিং শটে গোলটি করেন ফরাসি এই ফরোয়ার্ড।

দ্বিতীয়ার্ধেও মাঠে নেমেই আক্রমণের ঝড় তুলে বায়ার্ন। প্রথম আট মিনিটের প্রায় পুরোটাই খেলা হয় রিয়ালের অর্ধে। এরপর নিজেদের কিছুটা পাল্টা আক্রমণে উঠে রিয়াল। কিন্তু এতে গোলমুখে উঠে কোনো দলই কার্যকর হতে পারছিল না। ৭৯ মিনিটে জামাল মুসিয়ালাকে জার্সিতে টেনে ধরে হলুদ কার্ড পান এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গা। ৮৬ মিনিটে বায়ার্ন তারকা হ্যারি কেনকে ফাউল করে বল ধরে রেখে খেলা পুনরায় শুরু করতে দেরি করায় দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখেন ফ্রান্সের এই মিডফিল্ডার। ১০ জনের দলে রিয়াল পরিণত হলে এর পরই পাল্টে যায় ম্যাচের চিত্র। এরপরই রিয়ালের সব প্রতিরোধ ভেঙে ৮৯ মিনিটে গোল পেয়ে যায় বায়ার্ন। দিয়াজের নেয়া জোরাল শটের বল একজনের পা ছুঁয়ে দিক পাল্টে জালে জড়ায়। আর নির্ধারিত সময় শেষে যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে মাইকেল ওলিসের গোল করলে সব আশা শেষ হয়ে যায় রেকর্ড ১৫বারের ইউরোপ চ্যাম্পিয়নদের। শেষ বাঁশি বাজতেই উল্লাসে ফেটে পড়ে বায়ার্ন শিবির।

উল্লেখ্য, বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে ম্যাচে রেফারিং নিয়ে কড়া সমালোচনা রিয়াল মাদ্রিদের কোচ ও খেলোয়াড়রা। আর সবচেয়ে বেশি ক্ষুব্ধ ছিলেন রিয়ালের হয়ে দুই গোল করা আর্দা গুলের। ম্যাচ শেষে সেই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখাতে গিয়ে লাল কার্ড দেখেন তুরস্কের ‘মেসি’ খ্যাত এই মিডফিল্ডার। ফলে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের আগামী মৌসুমের প্রথম ম্যাচটি মিস করবেন গুলের।