নয়া দিগন্ত ডেস্ক
দেশের বিভিন্ন স্থানে হাম ও উপসর্গ নিয়ে ১৫ মার্চ সকাল ৮টা থেকে ১৬ এপ্রিল সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় আরো আট শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে দু’জনের। এ সময়ে নতুন করে হামে আক্রান্ত হয়েছে ৯২ জন শিশু।
এ নিয়ে গত এক মাসে হাম ও উপসর্গ নিয়ে সারা দেশে ২০৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে ৩৪ জনের এবং উপসর্গ নিয়ে (হাম সন্দেহে) মারা গেছে ১৭২ জন শিশু। একই সময়ে হাম ও উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ভর্তি হয়েছে ১৩ হাজার ১২৯ জন শিশু এবং হাম শনাক্ত হয়েছে তিন হাজার ৬৫ জনের।
গতকাল স্বাস্থ্য অধিদফতরের সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের দেয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি। এ বিভাগে হাম ও হাম সন্দেহে ৯৮ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং আক্রান্ত হয়েছে ১০ হাজার ৬০৪ জন। এর পরই আছে রাজশাহী বিভাগ। এখানে হাম ও হাম সন্দেহে আক্রান্ত হয়েছে চার হাজার ৭৬৭ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ৬৮ জনের।
কুমিল্লা প্রতিনিধি জানান, কুমিল্লায় হামে আক্রান্ত হয়ে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল সকালে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রায়হান (৮) ওই শিশুর মৃত্যু হয়। সে চৌদ্দগ্রাম উপজেলার রামচন্দ্রপুর এলাকার ফারুকের ছেলে।
কুমেক হাসপাতালের শিশু বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা: মিয়া মনজুর আহমেদ বলেন, সকালে মারা যাওয়া শিশুটি সঙ্কটাপন্ন অবস্থায় ভর্তি হয়েছিল।
এ দিকে কুমিল্লায় হামের প্রাদুর্ভাব বাড়ায় কুমেক হাসপাতালে শিশু রোগীর চাপ কয়েকগুণ বেড়েছে। ২৪ ঘণ্টায় হামে আক্রান্ত হয়ে নতুন করে আরো ৩৬ শিশু এই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।
ময়মনসিংহ অফিস জানায়, হামের উপসর্গে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ (মমেক) হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে রোগীর চাপ ক্রমেই বাড়ছে। বুধবার সকাল থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরো ৩৩ শিশু ভর্তি হয়েছে। এতে ওয়ার্ডটিতে বর্তমানে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৮ জনে। একই সময়ে অবস্থার অবনতি হওয়ায় দুই শিশুকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে।
গতকাল দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন হাসপাতালের হাম মেডিক্যাল টিমের ফোকাল পারসন সহযোগী অধ্যাপক ডা: মোহা: গোলাম মাওলা। তিনি জানান, গত ১৭ মার্চ থেকে ১৬ এপ্রিল সকাল পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে এই হাসপাতালে মোট ৫১৫ শিশু ভর্তি হয়েছে। একই সময়ে সুস্থ হয়ে ৩১ শিশু হাসপাতাল ছেড়েছে। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত মোট ৪১৪ শিশু ছাড়পত্র পেয়েছে। এ ছাড়া গত এক মাসে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মোট ১৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) এলাকায় তিন লাখেরও বেশি শিশুকে হাম-রুবেলা টিকার আওতায় আনতে আগামী ২০ এপ্রিল থেকে মাসব্যাপী টিকাদান ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা হবে। গতকাল মেয়র ডা: শাহাদাত হোসেন চসিক পাবলিক লাইব্রেরি কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন। বক্তব্য রাখেন বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) শেখ ফজলে রাব্বী, সিভিল সার্জন ড. জাহাঙ্গীর আলম, চসিকের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা: মো: ইমাম হোসেন রানা, ডা: হোসনে আরা, ডা: তপন কুমার, ডা: খাদিজা আহমেদ, ডা: আবদুল মজিদ শিকদার, ইউনিসেফের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা: দেলোয়ার হোসেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিভাগীয় কো-অর্ডিনেটর ডা: ইমং প্রো চৌধুরী, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক ফাহমিদা বেগম।
মেয়র বলেন, এই ক্যাম্পেইনের আওতায় চসিক এলাকায় ৬ থেকে ৫৯ মাসের সব শিশুকে এক ডোজ হাম-রুবেলা টিকা দেয়া হবে। প্রতিদিন (শুক্রবার ও সরকারি ছুটির দিন ছাড়া) সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত টিকাদান কার্যক্রম চলবে।



