সংসদ প্রতিবেদক
জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো: আব্দুল বারী সংসদকে জানিয়েছেন, বিগত আওয়ামী লীগ আমলে বিসিএস ক্যাডার নিয়োগে দুর্নীতি, দলীয়করণের বিষয়ে দুদকসহ আইন প্রয়োগকারী সংস্থা অনুসন্ধান ও তদন্ত করছে। তিনি জানান, সব মন্ত্রণালয় ও সরকারি অফিসগুলোতে শূন্যপদের সংখ্যা চার লাখ ৬৮ হাজার ২২০টি। শূন্যপদ পূরণের জন্য ইতোমধ্যে ছয় মাস, এক বছর এবং পাঁচ বছর মেয়াদি কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে। প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর সরকারি চাকরির নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধাকোটা ৯৩ শতাংশ বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১৫তম দিনের প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রতিমন্ত্রী এসব তথ্য জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।
পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো: শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের লিখিত প্রশ্নের জবাবে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো: আব্দুল বারী বলেছেন, আওয়ামী লীগের সময় বিসিএস ক্যাডার নিয়োগে দুর্নীতি দলীয়করণের বিষয়ে দুদকসহ আইন প্রয়োগকারী সংস্থা অনুসন্ধান ও তদন্ত করছে। তদন্ত প্রতিবেদন ও সুপারিশপ্রাপ্তির পর আইনানুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার গত ১৬ বছর বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের ১২ জন কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসর প্রদান, ৩৯ জন কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত এবং ৫৬৪ জন কর্মকর্তাকে ওএসডি করেছে।
৫ বছরের মধ্যে ৩১১০টি শূন্যপদে নিয়োগ দেয়া হবে : চট্টগ্রাম-১৩ আসনের সরকারি দলের সদস্য সরওয়ার জামাল নিজামের টেবিলে উপস্থাপিত তারকাচিহ্নিত এক প্রশ্নের জবাবে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো: আব্দুল বারী বলেন, শূন্যপদ পূরণের জন্য ইতোমধ্যে ছয় মাস, এর বছর এবং পাঁচ বছর মেয়াদি কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে। ছয় মাসের মধ্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দুই হাজার ৮৭৯টি, এক বছরের মধ্যে চার হাজার ৪৫৯টি এবং পাঁচ বছরের মধ্যে ১১০টি শূন্যপদে নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, কর্মপরিকল্পনায় বর্ণিত ‘স্বচ্ছতা ও দ্রুততার সাথে পাঁচ লাখ সরকারি কর্মচারীর নিয়োগ’ এর বিষয়ে অন্যান্য মন্ত্রণালয়/বিভাগের নিয়োগের সর্বশেষ অবস্থা এবং শূন্য পদে নিয়োগের তথ্য প্রেরণের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় হতে পত্র প্রেরণ করা হয়েছে।
জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী জানান, ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সরকারি কর্মচারীদের জনবল সংক্রান্ত হালনাগাদকৃত তথ্যের ভিত্তিতে সর্বশেষ প্রকাশিত স্ট্যাটিসটিক্স অব পাবলিক সার্ভেন্ট ২০২৪ মোতাবেক সব মন্ত্রণালয় ও সরকারি অফিসগুলোর শূন্যপদের সংখ্যা চার লাখ ৬৮ হাজার ২২০টি। এর মধ্যে প্রথম গ্রেড থেকে ৯ম গ্রেডে ৬৮ হাজার ৮৮৪ টি, ১০ম গ্রেড থেকে ১২তম গ্রেডে এক লাখ ২৯ হাজার ১৬৬টি, ১৩তম গ্রেড থেকে ১৬তম গ্রেডে এক লাখ ৪৬ হাজার ৭৯৯টি, ১৭তম গ্রেড থেকে ২০তম গ্রেডে এক লাখ ১৫ হাজার ২৩৫টি এবং অনারারি, নির্দিষ্ট বেতনভুক্ত ও চুক্তিভিত্তিক- যারা বিভিন্ন শ্রেণীতে অবস্থান করে এমন আট হাজার ১৩৬টি শূন্যপদ রয়েছে।
প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর চাকরিতে মেধাকোটা ৯৩ শতাংশ : বিরোধী দলের সদস্য (জামায়াতে ইসলামী) মো: নূরুল ইসলাম বুলবুলের টেবিলে উত্থাপিত লিখিত প্রশ্নের জবাবে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো: আব্দুল বারী জানান, প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর সরকারি চাকরির নিয়োগে কোটা অনুসরণ করা হচ্ছে, এ ক্ষেত্রে মেধাকোটা ৯৩ শতাংশ।
প্রতিমন্ত্রী জানান, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ২০২৪ সালের ২৩ জুলাই তারিখের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী কোটা নিম্নরূপ : মেধা ভিত্তিক ৯৩ শতাংশ, মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনার সন্তান ৫ শতাংশ, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ১ শতাংশ এবং শারীরিক প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গ ১ শতাংশ।



