জ্বালানি সঙ্কট মোকাবেলায় এশিয়াকে ১০ বিলিয়ন ডলার দিচ্ছে জাপান

Printed Edition

বিবিসি

ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান সঙ্ঘাতের জেরে জ্বালানি সরবরাহে সৃষ্ট সঙ্কট মোকাবেলায় এশীয় প্রতিবেশীদের বড় অঙ্কের আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে জাপান। বিশেষ করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এক হাজার কোটি (১০ বিলিয়ন) ডলার দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে দেশটি। এই তহবিল মূলত অপরিশোধিত তেলসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি আমদানিতে ব্যবহৃত হবে।

বুধবার এশিয়ার বিভিন্ন দেশের নেতাদের সাথে এক ভার্চুয়াল বৈঠকের পর জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি এই নতুন সহযোগিতা কাঠামোর ঘোষণা দেন। এ দিকে তেলের দাম বৃদ্ধিতে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে চরম উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ফিলিপাইন ইতোমধ্যে জাতীয় জ্বালানি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। জ্বালানি সাশ্রয়ে অনেক দেশে জনগণকে কারপুলিং করা এবং এয়ারকন্ডিশনার ব্যবহারে মিতব্যয়ী হওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। জাপানের আয়োজিত ওই বৈঠকে ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে জ্বালানি ভাগাভাগি চুক্তি সক্রিয় করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘এশিয়ার কোনো একক দেশের পক্ষে এত বড় সরবরাহ সঙ্কট একা মোকাবেলা করা সম্ভব নয়।’

এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘এশিয়ার দেশগুলোর সাথে জাপান সরবরাহ চেইনের মাধ্যমে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত এবং আমরা পারস্পরিকভাবে একে-অপরের ওপর নির্ভরশীল।’ হরমুজ প্রণালীতে চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ায় এশিয়া জ্বালানি সরবরাহে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। বিশ্বে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে যে তেল ও গ্যাস পরিবাহিত হয়, তার প্রায় ৯০ শতাংশই এশিয়ার দেশগুলোর জন্য নির্ধারিত। জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আসিয়ানভুক্ত (দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোট) দেশগুলো এক বছরে যে পরিমাণ অপরিশোধিত তেল আমদানি করে, জাপানের দেয়া এক হাজার কোটি ডলারের এই সহায়তা প্রায় তার সমান।