মিরসরাইয়ে প্রকাশ্যে চিত্রা হরিণ জবাই

Printed Edition
মিরসরাইয়ের মুহুরী প্রকল্পের এলাকায় প্রকাশ্যে একটি চিত্রা হরিণ জবাই করা হচ্ছে	: নয়া দিগন্ত
মিরসরাইয়ের মুহুরী প্রকল্পের এলাকায় প্রকাশ্যে একটি চিত্রা হরিণ জবাই করা হচ্ছে : নয়া দিগন্ত

মিরসরাই (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে প্রকাশ্যে একটি চিত্রা হরিণ জবাইয়ের ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এ ঘটনায় চারজনকে অজ্ঞাত আসামি করে চট্টগ্রাম বন আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ঘটনার ভিডিওতে দেখা যায়, এক ব্যক্তি হরিণটির পা চেপে ধরে রেখেছেন, আরেকজন ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে ফেলতে চেষ্টা করছেন। কাছেই দাঁড়িয়ে আরেকজন পুরো ঘটনাটি পর্যবেক্ষণ করছেন। মাত্র ৭ সেকেন্ডের ভিডিওটি ঘটনাস্থলের কাছাকাছি স্থান থেকে ধারণ করা হয়েছে। ভিডিও ধারণের সময় জবাইকারী ব্যক্তি আপত্তি জানালে ধারণকারী পাল্টা প্রশ্ন করেন, এতে সমস্যা কী। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয় এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও শাস্তির দাবি ওঠে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটে গত ১১ এপ্রিল বিকেলে মিরসরাই উপজেলার ইছাখালী ইউনিয়নের মুহুরী প্রকল্প এলাকায়, যা জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের পাশেই অবস্থিত।

বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, এক সময় মিরসরাইয়ের উপকূলীয় প্রায় ২০ কিলোমিটারজুড়ে বিস্তৃত ম্যানগ্রোভ বন ছিল, যেখানে হাজারো হরিণসহ বিভিন্ন বন্য প্রাণীর আবাস ছিল। তবে অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের পর থেকে বন উজাড় হওয়ায় বন্য প্রাণীর আবাসস্থল সঙ্কুচিত হয়ে পড়ে। ধারণা করা হচ্ছে, জবাই হওয়া হরিণটি দলছুট হয়ে ওই এলাকায় চলে এসেছিল।

উপকূলীয় বন বিভাগের মিরসরাই রেঞ্জ কর্মকর্তা শাহেনশাহ নাওশাদ জানান, ভিডিওটি তাদের নজরে এসেছে এবং প্রাথমিকভাবে তিনজন জড়িত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। অভিযুক্তদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান চলছে। এ ঘটনায় বামনসুন্দর বিট কর্মকর্তা সুজন চন্দ্র দাশ বাদি হয়ে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (চট্টগ্রাম বন আদালত)-এ মামলা দায়ের করেছেন।