নয়া দিগন্ত ডেস্ক
চলমান সংঘাত নিয়ে লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনের সাথে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ফোনালাপের খবর দিয়েছে ইসরাইলি গণমাধ্যম। স্থানীয় সময় গতকাল বৃহস্পতিবার এই ফোনালাপ হওয়ার কথা। ইসরাইলি মন্ত্রিসভার নিরাপত্তাবিষয়ক সদস্য গালিয়া গামলিয়েল ইসরাইলি আর্মি রেডিওকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সামাজিক মাধ্যমে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের করা একটি পোস্টের কয়েক ঘণ্টা পর গালিয়া গামলিয়েল এমন তথ্য দিলেন। বুধবার ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া পোস্টে ট্রাম্প লিখেছিলেন, ‘ইসরাইল ও লেবাননের নেতারা আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) আলোচনা করবেন।’
গামলিয়েলের ঘোষণার আগে লেবাননের প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের একজন কর্মকর্তা বৃহস্পতিবার বিবিসিকে জানিয়েছিলেন, ইসরাইলের সাথে কোনো যোগাযোগের বিষয়ে তারা কিছুই জানেন না। ফোনালাপ নিয়ে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের বক্তব্যের পর লেবানিজ গণমাধ্যম ‘আল-জাদিদ’-এর বরাত দিয়ে একটি খবর প্রকাশ করেছে টাইমস অব ইসরাইল (টিওআই)। এতে বলা হয়েছে, ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন এবং মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর মধ্যে ত্রিপক্ষীয় ফোনালাপ আয়োজনের তোড়জোড় চলছে।
এই ফোনালাপের মূল বিষয়বস্তু হতে পারে দুই দেশের মধ্যে একটি কার্যকর যুদ্ধবিরতি শুরু করা। এ ছাড়া একটি স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে কিছু পদক্ষেপ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরুর বিষয়েও আলোচনা হতে পারে। গতকাল বৃহস্পতিবার পৃথক একটি খবরে টাইমস অব ইসরাইল লিখেছে, লেবাননে সাময়িক যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনার জন্য নেতানিয়াহুর নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা বুধবার রাতে এক জরুরি বৈঠকে বসেছিল। এরপরই জেরুসালেমের রাজনৈতিক মহলে একটি ধারণা জোরালো হয়। সেটি হলো- যুক্তরাষ্ট্রের প্রচণ্ড চাপের মুখে যুদ্ধবিরতি মেনে নেয়া ছাড়া ইসরাইলের আর কোনো উপায় নেই।
টাইমস অব ইসরাইল জানিয়েছে, মন্ত্রী গালিয়া ইসরাইলের আর্মি রেডিওকে বলেন, ‘এত বছরের সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্নতার পর’ এ কথোপকথন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আশা করা যায়, এ পদক্ষেপ শেষ পর্যন্ত সমৃদ্ধির দিকে ধাবিত করবে। তবে কিছু সংবাদমাধ্যম লেবাননের কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছে, ইসরাইলের সাথে এমন কোনো যোগাযোগ বা আলোচনার বিষয়ে তারা অবগত নন।
ইসরাইলি বিমান হামলায় লেবাননের দুই শিশুসহ নিহত ৫
এ দিকে লেবাননে হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরাইল। দেশটি লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে বিমান হামলায় চালিয়েছে। এ সময় দুই শিশুসহ পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এপি নিউজের এক খবর থেকে এ তথ্য জানা যায়। তেমনি যুদ্ধবিরতির আলোচনা চললেও লেবাননে স্থল অভিযান আরো জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী। জবাবে সীমান্তে হিজবুল্লাহর পাল্টা হামলায় বেশ কয়েকজন ইসরাইলি সেনা আহত হয়েছে। এমতাবস্থায় ওয়াশিংটনের চাপে লেবাননে একসপ্তাহের যুদ্ধবিরতির বিষয়ে বিবেচনা করছে তেল আবিব।
পাঁচ সপ্তাহের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর ৭ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই সপ্তাহের অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে সম্মত হয় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। চুক্তিতে লেবাননের কথা থাকলেও ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সেটি প্রত্যাখ্যান করেন। একই সাথে হুঙ্কার দিয়ে বলেন, হামলা চলবে।
লেবাননের রাজধানী বৈরুতে বারবার হামলা চালাচ্ছে ইসরাইল বাহিনী। এই হামলায় ২,০০০-এর বেশি মানুষ নিহত এবং ১০ লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। পাল্টা জবাব দিচ্ছে হিজবুল্লাহও। লেবাননে ইসরাইলের আক্রমণ বন্ধ করতে আন্তর্জাতিকভাবে তীব্র চাপ তৈরি হয়েছে। ফলে মঙ্গলবার ওয়াশিংটন ডিসিতে লেবাননের সাথে আলোচনায় বসে ইসরাইল। আলোচনায় যুদ্ধবিরতির কথা উঠলে তা নাকচ করে দেয় ইসরাইলি প্রতিনিধি দল। তবে শান্তি ফেরাতে নিজেদের মধ্যে সরাসরি আলোচনা চালিয়ে যেতে সম্মত হয় উভয় পক্ষ।
এর আগে, বুধবার লেবাননের দক্ষিণ প্রান্তের সিডন জেলার আনসারিয়াহ শহরে ভয়াবহ বিমান হামলা চালায় ইসরাইল বাহিনী। এ বিষয়ে লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এনএনএ জানায়, এই হামলায় শিশুসহ কয়েকজন বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। আহত হয়েছেন আরো কয়েকজন। বৈরুত ও এর আশপাশের এলাকায় ইসরাইলের অব্যাহত এই আগ্রাসনে বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। এতে ওই অঞ্চলে মানবিক সঙ্কট আরো ঘনীভূত হয়েছে।
যুদ্ধবিরতির আলোচনার মধ্যেই লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে স্থল অভিযান আরো বিস্তৃত করার ঘোষণা দেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু। একই সাথে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ জাবেইল শহর দখলের খুব কাছাকাছি রয়েছে তার সেনাবাহিনী বলে দাবি করেন নেতানিয়াহু।
অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ সামলাতে এবং ইসরাইলের উত্তরাঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নেতানিয়াহু শক্তিমত্তা প্রদর্শনের এই পথ বেছে নিয়েছেন বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। ইসরাইলি হামলার মুখে কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তুলছে হিজবুল্লাহ। গত কয়েক ঘণ্টায় কিরিয়াত শহরে রকেট হামলা এবং জাবেইলে ইসরাইলি বুলডোজার ও ট্যাংকে হামলা চালানোর দাবি করেছে গোষ্ঠীটি।



