টঙ্গিবাড়ী ও চুয়াডাঙ্গায় বজ্রপাতে ৪ জনের মৃত্যু

Printed Edition

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

মুন্সীঞ্জের টঙ্গিবাড়ী এবং চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা ও জীবননগরে বজ্রপাতে ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, মুন্সীগঞ্জের টংগিবাড়ী উপজেলায় পৃথক বজ্রপাতে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার আড়িয়াল ইউনিয়নের ফজুসার গ্রামে জমিতে কাজ করার সময় বজ্রপাতে গুরুতর আহত হন কৃষক রিজান ঢালী। স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে টংগিবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। একই সময়ে দিঘিরপাড় ইউনিয়নের হাইয়ারপাড় এলাকায় বজ্রপাতে আহত হন ডা: নূরে আলম। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসক তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

একই দিনে পৃথক স্থানে বজ্রপাতে দুইজনের প্রাণহানিতে স্থানীয়দের মধ্যে শোকের পাশাপাশি আতঙ্কও ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে খোলা স্থানে কাজ করা কৃষক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে বজ্রপাতের ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

দামুড়হুদা (চুয়াডাঙ্গা) সংবাদদাতা জানান, চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা ও জীবননগর উপজেলায় পৃথক স্থানে বজ্রপাতে এক স্কুলছাত্রসহ দুইজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা থেকে বেলা ১টার মধ্যে ঝড়ো বৃষ্টির সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- দামুড়হুদা উপজেলার পারকৃষ্ণপুর গ্রামের তাজিমুল ইসলামের ছেলে আজিমুল ইসলাম (১৩) এবং জীবননগর উপজেলার ঘোষনগর গ্রামের রেজাউল ইসলামের ছেলে রাসেল আলী (২৫)। আজিমুল স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থী ছিল।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুপুরে আজিমুল ইসলাম মাঠে কাজ করা বাবার জন্য দুপুরের খাবার নিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় হঠাৎ বজ্রসহ বৃষ্টি শুরু হলে বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দর্শনার একটি ক্লিনিকে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে জীবননগর উপজেলার রাসেল আলী নিজের ভুট্টাক্ষেতে কাজ করার সময় বজ্রপাতের শিকার হন। তাকে দ্রুত উদ্ধার করে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

দর্শনা থানার ওসি (তদন্ত) মোহাম্মদ হিমেল রানা ও জীবননগর থানার ওসি শেখ সোলাইমান বজ্রপাতে নিহতের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। আকস্মিক এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে দুই পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।