হামিদুল ইসলাম সরকার
দেশের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি হলেও বাজেটে অর্থচাহিদায় কমতি নেই। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে (বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি) উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য চাহিদার ঢল নেমেছে। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের এডিপিতে এক শ’টি প্রকল্পের বিপরীতে ৩৩ হাজার ৭৬৭ কোটি টাকা চেয়ে পরিকল্পনা কমিশনের সচিবকে চিঠি দিয়েছে। এখানে মেট্রোরেল লাইন-৫ এবং লাইন-২ প্রকল্পের ১০ বছরের জন্য মোট এক লাখ দুই হাজার ৯৯০ কোটি টাকা চাওয়া হয়েছে। ভাঙ্গা-যশোর-বেনাপোল মহাসড়ক প্রকল্পের জন্য ২৪ হাজার ৯২৩ কোটি ৬৪ লাখ টাকা এবং বিআরটিসির জন্য একতলা এসি ইলেকট্রিক বাস কিনতে এক হাজার ২৮১ কোটি টাকা চাওয়া হয়েছে।
সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ প্রকল্পের তালিকাসহ চাহিদা চেয়ে গত ৪ মার্চ পরিকল্পনা কমিশনে চিঠি দিয়েছে। ওই চিঠিতে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের আওতায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরের এডিপি-তে নতুন অনুমোদিত প্রকল্পের অনুকূলে বরাদ্দ প্রস্তাব, অননুমোদিত নতুন প্রকল্প ও সম্ভাব্য সমাপ্য প্রকল্পের তালিকা প্রেরণ করা হয়েছে। বিভাগটি চিঠিতে বলছে, ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের এডিপিতে এক শ’টি প্রকল্পের অনুকূলে মোট ৩৩ হাজার ৭৬৭ কোটি টাকা প্রয়োজন। এখানে জিওবি ১৬ হাজার ৭৬৭ কোটি টাকা ও প্রকল্প ঋণ ১৭ হাজার কোটি টাকা। প্রস্তাবনায় ১৫৪টি অননুমোদিত নুতন প্রকল্পের তালিকা (বিনিয়োগ এবং বৈদেশিক অর্থায়ন প্রাপ্তির সুবিধার্থে অননুমোদিত নতুন প্রকল্প) এবং ১৯টি সম্ভাব্য সমাপ্য প্রকল্প তালিকা এএমএস-এ ইনপুট দেয়াসহ পররবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বলা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবনা ও পরিকল্পনা কমিশনের তথ্য থেকে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের সংশোধিত এডিপিতে এই বিভাগের জন্য ১১৩টি প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ ছিল ৩১ হাজার ৭৭২ কোটি টাকা। আর ২০২৪-২৫ অর্থবছর ১৩১টি প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ ৩৩ হাজার ২৬৮ কোটি ৭৭ লাখ টাকা ছিল। চলতি অর্থবছরের চেয়ে আগামী অর্থবছরের এডিপিতে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের জন্য চাহিদা এক হাজার কোটি টাকা বেশি চাওয়া হয়েছে।
এক শ’ প্রকল্পের মধ্যে উল্লেখযোগ্য বড় ও মেগা চলমান প্রকল্পের এবং নতুন প্রকল্পের জন্য বড় আকারের বরাদ্দ পাঁচ বছরের জন্য চাওয়া হয়েছে। যার মধ্যে মেগা প্রকল্প মেট্রোরেল লাইন-৫ সাউদার্ন রুট (জুলাই-২৬ থেকে জুন ২০৩৩ ) প্রকল্পের জন্য ৪৭ হাজার ৬৪৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা প্রয়োজন। প্রকল্পটি উচ্চ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত। ইতোমধ্যে পরিকল্পনা কমিশনের মূল্যায়ন কমিটির সভায় প্রকল্পটি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। মেট্রোরেল লাইন-২ প্রকল্পের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৫ হাজার ৩৪৬ কোটি টাকা। এটি ডিসেম্বর ২০২৫ সাল থেকে ডিসেম্বর ২০৩৫ সাল মেয়াদে বাস্তবায়নের প্রস্তাব করা হয়েছে। এটিও উচ্চ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ও ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে মূল্যায়ন কমিটির সভায় আলোচনা হয়েছে। তিন হাজার ৬৬৬ কোটি ৩৬ লাখ ৭৩ হাজার টাকা ব্যয়ে তিন পার্বত্য জেলায় সীমান্ত সড়ক নির্মাণ প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে। এটিও চলতি বছরের জুলাই থেকে আগামী ২০৩১ সলের জুন মেয়াদের বাস্তবায়নের কথা বলা হেেয়ছে। আর বিআরটিসির জন্য তিন বছর মেয়াদে ইলেকট্রিক একতলা এসি বাস কেনা হবে। যাতে ব্যয় হবে এক হাজার ২৮১ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ক্লিন এয়ার প্রজেক্ট এর জন্য দুই হাজার ৪৮২ কোটি টাকা খরচ ধরা হয়েছে।
প্রস্তাবনা অনুযায়ী, সাসেক চট্টগ্রাম পোর্ট এক্সেস সড়ক প্রকল্পে পাঁচ বছরের জন্য চার হাজার ৩৭৬ কোটি ৮২ লাখ টাকা ধরা হয়েছে। সার্ভিস লেনসসহ মিরপুর-ধউর এবং পোস্তগলা-চাষাঢ়া চার লেন করতে ব্যয় হবে দুই হাজার ৬৩১ কোটি টাকা। ময়মনসিংহে জলবায়ু সহিষ্ণু পাঁচটি সেতু নির্মাণ প্রকল্পে ব্যয় পৌনে চার হাজার কোটি টাকা। হাটিকামরুল-বনপাড়া-ঝিনাইদহ মহামড়ক প্রকল্পে ১৬ হাজার ১৫৮ কোটি টাকা ধরা হয়েছে, যা পাঁচ বছরে বাস্তবায়ন করা হবে।



