শিক্ষা প্রশাসনের শীর্ষ তিন পদ ফঁাঁকা

মাউশি, এনসিটিবি ও মাদরাসা অধিদফতরে স্থবিরতা

শাহেদ মতিউর রহমান
Printed Edition

এক ব্যক্তিকে একাধিক পদে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব প্রদান

শিক্ষাপ্রশাসনের মাঠ পর্যায়ের সার্বিক কাজের তদারকির মূল দায়িত্বে থাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতর (মাউশি), জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) এবং মাদরাসা শিক্ষা অধিদফতরের শীর্ষ তিনটি পদেই ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের দিয়েই চলছে নিয়মিত কার্যক্রম। দীর্ঘ কয়েক মাস আগে থেকেই শীর্ষ এ তিন প্রতিষ্ঠানের প্রধান তথা চেয়ারম্যান বা মহাপরিচালকের পদে এখনো কাউকেই নিয়মিত দায়িত্ব দেয়া হয়নি। ফলে এ তিনটি প্রতিষ্ঠানের নিয়মিত কাজে স্থবিরতাসহ জরুরি সিদ্ধান্ত গ্রহণেও তৈরি হচ্ছে নানা জটিলতা।

সর্বশেষ গতকাল বৃহস্পতিবার মাউশির মহাপরিচালক হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে এখানকার মাধ্যমিক শাখার পরিচালক প্রফেসর ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেলকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। যদিও তিনি বর্তমানে মাউশির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি শাখার দায়িত্বে রয়েছেন। একই সাথে এই কর্মকর্তা গত ফেব্রুয়ারি মাসে বিএনপি সরকার দায়িত্বভার গ্রহণের পর শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পিএস হিসেবেও অতিরিক্ত দাািয়ত্ব পালন করছেন। ফলে তাকে নিয়মিত মন্ত্রনালয়েই বেশির ভাগ সময় ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, মাউশির মাধ্যমিক শাখার নিয়মিত কাজে ইতোমধ্যে স্থবিরতাও নেমে এসেছে। ফলে একই ব্যক্তিকে আবারো মাউশির মতো প্রতিষ্ঠানের ডিজি হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব অর্পণের মাধ্যমে মূলত শিক্ষা প্রশাসনের মূল কেন্দ্রবিন্দু অর্থাৎ মাউশিতে ফাইলজট এবং কাজের স্থবিরতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

একইসাথে দেশে প্রতিবছর ত্রিশ কোটির বেশি পাঠ্যপুস্তক পরিমার্জন ও মুদ্রণের কাজের দায়িত্বে থাকা এনসিটিবিতে এক বছরের অধিক সময় থেকে নিয়মিত চেয়ারম্যানের পদটি ফাঁকা। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন যুগ্মসচিব মো: মাহবুবুল হক পাটোয়ারীকে এনসিটিবির চেয়ারম্যানের অতিরিক্তি দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। প্রশাসন ক্যাডারের এ কর্মকর্তাকেও নিয়মিতভাবে মন্ত্রণালয়ের নানা কাজে ব্যস্ত থাকতে হয়। ফলে একজন কর্মকর্তাকে দুই দিকের দায়িত্ব পালন যেমন দৃষ্টিকটু একইসাথে সব কাজের সমন্বয় করাও একটু জটিল এবং কষ্টসাধ্যও বটে।

অপর দিকে মাদরাসা শিক্ষা অধিদফতরের ডিজি হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন এখানকার একজন পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) মুহাম্মদ মাহবুবুল হক। তিনিও যুগ্মসচিব পদমর্যাদার। অধিদফতরের প্রশাসর ও অর্থ শাখার গুরুত্বপূর্ণ কাজের বাইরেও তাকে ডিজির দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।

গতকাল মাউশির পরিচালককে (মাধ্যমিক) ডিজির অতিরিক্ত দায়িত্ব দেয়ার প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত এ অধিদফতরের মাধ্যমিক শাখার পরিচালক পদে কর্মরত প্রফেসর ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেলকে ট্রেজারি ও সাবসিডিয়ারি আইনের ভলিউম-১, বিধি ৬৬ মোতাবেক মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালকের অতিরিক্ত দায়িত্বসহ আর্থিক ক্ষমতা দেয়া হলো।

এনসিটিবির সূত্র জানায়, ২০২৭ সালের প্রায় ৩০ কোটি পাঠ্যবই পরিমার্জন এবং মুদ্রণের মতো অতিগুরুত্বপূর্ণ কাজের এ সময়টাতে একজন চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থাকা অত্যন্ত জরুরি। মানসম্পন্ন বইয়ের টেন্ডার এবং মুদ্রণ কাজের যাবতীয় কাজের যাচাই বাছাই করতে নিয়মিত চেয়ারম্যান থাকা জরুরি। কিন্তু মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তার মাধ্যমে অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়ে এমন গুরুত্বপূর্ণ কাজের তদারকি করা সহজ হবে না বলেও জানান সংশ্লিষ্টরা। এ বিষয়ে এনসিটিবির একটি সূত্র জানায়, বর্তমানে চেয়ারম্যান হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করা মো: মাহবুবুল হক পাটোয়ারিকে সম্প্রতি মৌখিকভাবে পূর্ণভাবে চেয়ারম্যানের দায়িত্বভার দেয়া হয়েছে। ফলে এখন থেকে তিনি আর মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালন করছেন না। নিয়মিত এনসিটিবিতে তিনি চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করবেন।

অবশ্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র এ বিষয়ে নয়া দিগন্তকে জানান, শিক্ষা প্রশাসনের বিভিন্ন সেক্টরে অচিরেই বড় ধরনের নিয়োগ বদলি ও পদায়নের সিদ্ধান্ত আসছে। আর সেকারণেই এ মুহূর্তে বদলি বা পদায়নের বড় কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে না। তবে শীর্ষ কিছু পদের জন্য কাকে কোথায় পদায়ন বা বদলি করা হবে তার একটি তালিকা নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে। প্রয়োজনে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে মতামত বা পরামর্শ নিয়ে এর পরেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। সূত্র আরো জানায়, দীর্ঘ ১৭ বছরে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের অনেক কর্মকর্তা ঢাকার প্রধান প্রধান পদগুলোতে দখল করে ছিলেন। এখন বিএনপির দলীয় লোকজনকে যারা দীর্ঘ দিন দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে দুর্গম এলাকায় কাজ করেছেন তাদেরকেই যাচাই বাছাই করে পদায়নের চিন্তা করা হচ্ছে। এ জন্যই মূলত সময়ও একটি বেশি লাগছে।