ফুল ব্যবসায় ধস এক বছরে কমেছে ৬০ শতাংশ

Printed Edition

সাংস্কৃতিক প্রতিবেদক

দেশে ফুল ব্যবসায় ধস নেমেছে। এক বছরে ব্যবসা কমেছে ৬০ শতাংশ। এতে করে ব্যবসায়ীদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে। ঢাকা নগরীর ফুল ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।

শাহবাগের ফুল ব্যবসায়ীরা জানান, গত বছর বসন্ত থেকে বৈশাখ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত উৎসবে সব মিলিয়ে ৬০০ কোটি টাকার ফুল বাণিজ্য হয়েছিল। কিন্তু এবার পরিস্থিতি ভয়ানক। এই একই সময়ে এবার ব্যবসা হয়েছে প্রায় আড়াই শ’ কোটি টাকার একটু বেশি, যা গত বছরের চেয়ে প্রায় ৬০ শতাংশ কম।

ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, দোকানগুলোতে ফুল বিক্রি একেবারেই কমে গেছে। এবারের উৎসবগুলোতে ফুল কেনাবেচা ছিল অনেক কম। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার কারণে মানুষ জীবন-যাপনের মৌলিক বিষয়গুলো নিয়ে বেশি চিন্তিত। তাই বিনোদন বা উৎসবে লোকজন ফুলের মতো জিনিস বাদ দিতে বাধ্য হচ্ছে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক ইমামুল হোসেনের ভাষ্য, এবারের ভালোবাসা দিবসে অনেক কম দামে ফুল বিক্রি হয়েছে। এর আগের বছরগুলোতে এবারের মতো এত কমে আর কেউ ফুল কিনতে পারেনি। বলা যায় প্রথম তিনটা উৎসবই আমরা ব্যবসা করতে পারিনি। কম দামে ফুল ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছি।

কেন ব্যবসা লাভজনক হয়নি? জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রথমত, আমদানি বেশি হয়েছে। আর দ্বিতীয়ত, পহেলা ফাল্গুন ও ভালোবাসা দিবস একই দিনে পড়েছে। আগে দুই উৎসব পৃথক দিনে হতো। কয়েক বছর ধরে একসাথে হওয়ায় আমাদের এই দুই দিনের বাণিজ্য অর্ধেকে নেমেছে। এ ছাড়া বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েছে। কিন্তু ফুলের দাম বাড়েনি।

অপর দিকে বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার সোসাইটির সভাপতি বাবুল প্রসাদ বলেন, আমরা শুধুমাত্র বসন্ত উৎসবের দিনই ৩০০ কোটি টাকার ফুলবাণিজ্যের টার্গেট নিয়েছিলাম। সে রকম প্রস্তুতিও আমাদের ছিল। অনেক ফুলও আমরা রেখেছিলাম। কিন্তু ক্রেতা না থাকায় আমাদের টার্গেট পূরণ হয়নি। বসন্ত ও ভালোবাসা দিবস, মাতৃভাষা দিবস এবং স্বাধীনতা দিবসে সারা দেশে মাত্র ২৫০ কোটি টাকার ফুল বিক্রি হয়েছে। যেখানে শুধু পহেলা ফাল্গুনেই বিক্রি হয় ৩০০ কোটি টাকা। প্রতিবারের মতো এবারো আমাদের প্রত্যাশা ছিল পহেলা বসন্তেই ৩০০ কোটি টাকার ফুল বাণিজ্য হবে। কিন্তু হয়নি।

তিনি বলেন, এরপর পহেলা বৈশাখে আমাদের প্রত্যাশা ছিল যে, সারা দেশে শত কোটি টাকার ফুল বাণিজ্য হবে। কিন্তু সেখানে মাত্র ৩৫ কোটি টাকার ফুল বাণিজ্য হয়েছে। অর্থাৎ বসন্ত থেকে বৈশাখ জুড়ে মাত্র ২৮৫ কোটি টাকার ফুল বাণিজ্য হয়েছে। সেই হিসাবে আমাদের ফুল বাণিজ্য অর্ধেকে নেমে এসেছে।’

এই ক্ষতির জন্য বাবুল প্রসাদ রাজনৈতিক পরিস্থিতিকেই দায়ী করেন। তিনি বলেন, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে মানুষ উৎসবগুলোতে কম বের হয়েছেন। কেউ কেউ হয়তো ভয়েই বের হননি। সেজন্য ফুল বিক্রিও হয়েছে কম। আগের বছরগুলোর সাথে তুলনা করলে আমরা প্রায় ৪০ শতাংশ লোকসানে আছি। লসের আরেকটি কারণ হলো- দ্রবমূল্য বৃদ্ধি। মানুষ আগে খাওয়ার জন্য দ্রব্য কিনবে। ফুল হচ্ছে শৌখিন বিষয়। সেটি পড়ে কিনবে। আসলে বর্তমানে প্রয়োজন ছাড়া কেউ ফুল কিনছেন না।

সমাধানের বিষয়ে জানতে চাইলে ব্যবসায়ীরা বলেন, ফুলের এক্সপোর্ট বাড়াতে হবে। এ বিষয়ে সরকারকেও উদ্যোগ নিতে হবে। যে সিজনে যে ফুল উৎপাদন হয়, সেই ফুলের প্রদর্শনীর মাধ্যমে এক্সপোর্ট বাড়াতে হবে। করপোরেট বিজনেসম্যান যারা আছেন, তারা তখন এই ব্যবসায় ঝুঁকবেন। তখন রফতানিও বাড়বে। এতে প্রচুর পরিমাণে বৈদেশিক মুদ্রা দেশে আসবে।