কাল ভোট হলেও এক মাস পর ফলাফল ঘোষণার প্রতিবাদ

রিহ্যাব নির্বাচন নিয়ে সংবাদ সম্মেলন

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) ২০২৬-২৮ সেশনের নির্বাচন কাল শনিবার অনুষ্ঠানের আয়োজন সম্পন্ন হলেও নির্বাচন কমিশন ফলাফল ঘোষণা করবেন একমাস পর। ৬৭৪ জন রিহ্যাব সদস্য এবার ভোটার হলেও কেন একমাস পর নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করা হবে এর কোনো জবাব না পাওয়ায় গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সংবাদ সম্মেলন করে প্রতিবাদ করেছেন নির্বাচনে তিনজন প্রেসিডেন্ট (সভাপতি) প্রার্থী। আসন্ন নির্বাচনটি অদ্ভুত ও নজিরবিহীন আখ্যায়িত করে তিন প্রেসিডেন্ট প্রার্থীই নির্বাচনের কমিশনের কাছে একটি স্বচ্ছ নির্বাচনের আবেদন জানালেও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে প্রার্থীদের কিভাবে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হবে এর কোনো পরিস্কার জবাব দেননি।

গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন শনিবারের নির্বাচনের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী মো: মোকাররম হোসেন খান, ড. আলী আফজাল এবং মো: আবুল খায়ের সেলিম। একই সাথে প্রার্থীদের পক্ষে তাদের প্যানেলের অন্যান্য ক্যান্ডিডেট উপস্থিত ছিলেন। এবার রিহ্যাবের নির্বাচন পরিচালনা করবেন তিন সদস্যের একটি কমিশন। বোর্ডের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন জহিরুল হক ভূঁইয়া। অপর সদস্যরা হলেন আব্দুল কাইয়ুম তালুকদার মনি ও মো: শরিফুল ইসলাম।

তিন প্রেসিডেন্ট প্রার্থী অভিন্ন বক্তব্যে বলেছেন, শনিবারের নির্বাচনে ভোটার মাত্র ৬৭৪ জন। কিন্তু নির্বাচন কমিশন ম্যানুয়ালি ভোট নিলেও ভোটগুলো গুনতে চান ডিজিটালি। নির্বাচন কমিশনের এই প্রস্তাবটি উল্লেখিত তিন প্রার্থীই নাকচ করে দিয়েছেন। তারা বলেন, প্রচলিত পদ্ধতিতে ভোট (ম্যানুয়ালি) হলেও কেন গুনতে হবে মেশিনের মাধ্যমে, এরও কোনো সদুত্তর দিতে পারছেন না নির্বাচন কমিশন।

আবার এবার নির্বাচনে কোনো প্রার্থীরই কোনো নির্বাচনী এজেন্ট থাকতে পারবে না বলে নির্বাচন কমিশন প্রার্থীদের জানিয়েছেন। এমনকি নির্বাচনে ভোট দেয়ার পর কোনো প্রার্থী অথবা কোনো ভোটার ভোট কেন্দ্রে থাকতে পারবে না বলে জানিয়ে দেয়া হয়েছে নির্বাচন কমিশন থেকে। এই প্রস্তাবও এই তিন প্রার্থী নাকচ করে দিয়েছেন। তারা বলছেন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার জন্যই প্রার্থীদের নির্বাচনী এজেন্ট থাকতে হবে। তারা বলছেন, নির্বাচনী এজেন্ট না থাকলে ভোট যেভাবেই গণনা করা হোক এর বিরুদ্ধে যদি অনিয়ম হয়, তাহলে অনিয়ম ধরা অথবা প্রতিবাদ করার কেউ থাকবে না। প্রার্থীরা সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ভোট কেন্দ্রে অবশ্যই সিসি ক্যামেরা থাকতে হবে, তাহলে আরো বেশি স্বচ্ছতা সৃষ্টি হবে। কিন্তু নির্বাচন কমিশন সিসি ক্যামেরাও রাখতে চাইছে না। শনিবারের রিহ্যাব নির্বাচনে তিন প্রেসিডেন্ট প্রার্থীই একযোগে বলেছেন, নির্বাচনী এজেন্ট থাকলে ভুলগুলো ধরতে পারবেন, এটা কেন নির্বাচন কমিশনের স্বচ্ছ নির্বাচনের খাতিরে চাইছেন না তা বোধগম্য নয়।

নির্বাচনে তিন প্রার্থী অভিন্ন ভাষায় বলেন, ভোট কেন্দ্রের সব স্থানে অবশ্যই সিসি ক্যামেরা থাকতে হবে। একই সাথে ভেতরের সিসি ক্যামেরার লাইভ ফুটেজ বাইরে দেখানোর ব্যবস্থা করতে হবে। ভোট গণনার পর ব্যালট নষ্ট না করে সংরক্ষণ করতে হবে, পরে প্রয়োজনে যেন পুনঃগণনা করা যায় বা ভেরিফাই করা যায়। তারা বলেন, ভোট গণনার করে সংখ্যা মিলিয়ে নিতে হবে। ব্যালট পেপার নেয়ার সময় স্বচ্ছতার জন্য ভোটারদের স্বাক্ষর ও টিপসই নেয়ারও ব্যবস্থা করতে হবে। ভোট দেয়া শেষ হলে ব্যালট বইয়ের মুড়ি এজেন্ট ও কমিশনারের স্বাক্ষর করা ও এজেন্টদের টিক দেয়া সংখ্যা মিলিয়েই কাস্টিং ভোট কত হয়েছে নির্ধারণ করতে হবে। এর মধ্যে কোনো অমিল থাকলেও এর সমাধান করতে হবে। তারা বলেন, ব্যালট পেপারের বই, মুড়ি নির্বাচনী এজেন্ট ও প্রার্থীদের সামনে যাচাই করতে হবে। তারা বলেন, ভোট গণনা শেষ হলে রেজালশিটে নির্বাচন কমিশন ও উপস্থিত এজেন্টদের স্বাক্ষর থাকতে হবে।

তিন প্রার্থীই অভিন্ন ভাষায় বলেন, স্বচ্ছ নির্বাচনে যেই বিজয়ী হোক আমরা তা মেনে নেব; কিন্তু আমরা কোনো ত্রুটিপূর্ণ ভোট চাই না। শনিবার নির্বাচন; কিন্তু আজ বৃহস্পতিবার কেন এসব অভিযোগ নিয়ে এসেছেন, আগে কেন করেননি? এই প্রশ্নের জবাবে প্রার্থীরা বলেন, নির্বাচন কমিশনের সাথে কথা বলা যায়নি। শনিবার নির্বাচন হলেও বৃহস্পতিবার রিহ্যাব অফিসে কাউকে পাওয়া যায়নি। তারা বলেন, এবার নির্বাচনে ৬৫ লাখ টাকা নির্বাচনের উদ্দেশ্যে বরাদ্দ করা হয়েছে; কিন্তু নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের জন্য বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মাত্র একজন কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়েছে। একজন কর্মকর্তা দিয়ে কিভাবে কমিশন নির্বাচন পরিচালনা করবে, যদিও এই নির্বাচন কমিশন গত বছর নভেম্বরে গঠন হয়েছে। তারা বলেন, দেখে-শুনে মনে হচ্ছে শনিবারের রিহ্যাব নির্বাচনে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং হতে যাচ্ছে; কিন্তু আমরা তা মানব না। তারা বলেন, ৬৭৪ জনের সবাই হয়তো উপস্থিত হবেন না; কিন্তু উপস্থিত হলেও সব ভোট তিন ঘণ্টায় শেষ হয়ে যাবে তাহলে কেন ফলাফল ঘোষণা করতে এক মাস লাগবে?

এ ব্যাপারে নির্বাচনের নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যান জহিরুল হক ভূইয়ার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।