জ্বালানি সঙ্কট

রংপুর বিভাগে লোডশেডিংয়ের প্রভাব পড়েছে কৃষিসহ দৈনন্দিন জীবনে

Printed Edition

সরকার মাজহারুল মান্নান রংপুর ব্যুরো

জ্বালানি তেল সঙ্কটে রংপুর বিভাগে প্রতিদিনই চাহিদার তুলনায় দেড় শ’ মেগাওয়াটেরও বেশি কম বিদ্যুৎ সরবরাহ পাচ্ছে নেস্কো। এ কারণে দিন রাতে চার থেকে পাঁচবার লোডশেডিং হচ্ছে। যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিভাগের কৃষি শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ দৈনন্দিন জীবনে।

নর্দার্ন ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো) সূত্র জানায় , রংপুর বিভাগের আট জেলায় পল্লী বিদ্যুৎ ও নেসকো মিলে রাতে চাহিদা থাকে প্রায় এক হাজার ২০০ মেগাওয়াট আর দিনে ৯৫০ থেকে এক হাজার এক হাজার ৫০ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে সরবরাহ কম পাওয়া যাচ্ছে দেড় শ’ থেকে ২০০ মেগাওয়াট। ফলে এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে গ্রাহক পর্যায়ে। এখন প্রতিদিনই চার থেকে পাঁচ দফায় লোডশেডিং হচ্ছে। যা কখনো আধ ঘণ্টা কখনো এক ঘণ্টা পর্যন্ত থাকছে। ফলে ব্যবসা-বাণিজ্য, অফিস আদালত এবং দৈনন্দিন জীবনে এর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। বিশেষ করে তাপমাত্রা বাড়ায় মানুষের দৈনন্দিন জীবনেও পড়ছে এর প্রভাব।

নীলফামারীর জলঢাকার ওষুধ ব্যবসায়ী মাহবুবুর রহমান মনি জানান, লোডশেডিংয়ের কারণে বেশ ধকল পোহাতে হচ্ছে। কারণ জেনারেটর চালাতে গিয়ে বাড়তি ডিজেলের প্রয়োজন হচ্ছে। সেটাও আবার পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে গ্রাহকরা দোকানে বেশিক্ষণ থাকতে পারছেন না। কর্মচারীরাও নাজেহাল হয়ে পড়েছেন।

রংপুর মহানগরীর আইডিয়াটিক প্রিন্টিং অ্যান্ড পাবলিকেশন্সের নির্বাহী পরিচালক মনজুরুল মান্নান বলেন, প্রিন্টিংয়ের প্রতিটি মেশিনই বিদ্যুতে চলে। বারবার লোডশেডিং হওয়ায় মেশিন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এ কারণে মেশিনেরও ক্ষতি হচ্ছে পাশাপাশি আমরা গ্রাহকদের সময়মতো মালামাল ডেলিভারি দিতে পারছি না। গৃহবধূ মুনিরা আক্তার জানান, ‘ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে ফ্রিজ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বাচ্চারা পড়া পড়াশোনায় মনোযোগী হতে পারছে না।

বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের সব থেকে বেশি প্রভাব পড়েছে কৃষি ক্ষেত্রে রংপুর বিভাগের ৭০ ভাগেরও বেশি পাম্প বিদ্যুৎচালিত। দিনে পাঁচ সাতবার লোডশেডিং হওয়ায় সেচ নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা।

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের শান্তিরাম ইউনিয়নের পরান গ্রামের কৃষক গোলাম আযম বলেন, ‘আমার নিজস্ব পাম্প আছে। তা দিয়ে আমার নিজের জমি এবং আরো অন্তত ৫০ জন কৃষকের জমিতে সেচ দেই। এবার এই সময়ে লোডশেডিং হওয়ায় সঠিকভাবেই সেচ দেয়া যাচ্ছে না। এতে লাইন পড়ে যাচ্ছে কৃষকদের। অনেক সময় ঝগড়াঝাঁটিও করতে হচ্ছে।

রংপুর বিতরণ বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী মো: শাহাদাত হোসেন সরকার জানান, এই বিভাগে চাহিদার তুলনায় দেড় শ’ থেকে ১৭০ মেগাওয়াট কম সরবরাহ মিলছে। তিনি জানান, জ্বালানি তেল সঙ্কটের কারণেই উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় সরবরাহ কম পাওয়া যাচ্ছে। আমরা রেশনিং করে লোডশেডিং করছি।