অস্ত্রের মজুদ পুনর্গঠনে গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর শরণাপন্ন পেন্টাগন

Printed Edition

ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল

ইরান ও ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে মার্কিন সমরাস্ত্রের ভাণ্ডারে টান পড়ায় অস্ত্রের মজুদ দ্রুত পূরণ করতে জেনারেল মোটরস ও ফোর্ডের মতো শীর্ষ গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর শরণাপন্ন হয়েছে পেন্টাগন। সম্প্রতি পেন্টাগনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এই অটোমোবাইল জায়ান্টদের নির্বাহীদের সাথে এক গোপন বৈঠকে মিলিত হন।

ট্রাম্প প্রশাসন চাইছে প্রথাগত প্রতিরক্ষা ঠিকাদারদের পাশাপাশি সাধারণ মার্কিন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোও যেন অস্ত্র তৈরিতে বড় ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে যুদ্ধকালীন জরুরি প্রয়োজনে এই কোম্পানিগুলো কত দ্রুত তাদের সাধারণ কারখানাগুলোকে সামরিক সরঞ্জাম তৈরির উপযোগী করে গড়ে তুলতে পারবে, তা নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা শুরু হয়েছে। আলোচনায় জেনারেল মোটরস ও ফোর্ড ছাড়াও জিই অ্যারোস্পেস এবং ওশকোশ নামের আরো দু’টি বড় প্রতিষ্ঠানের নাম উঠে এসেছে। বিষয়টি নিয়ে রয়টার্সের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে পেন্টাগনের একজন কর্মকর্তা এক বিবৃতিতে জানান, যুদ্ধক্ষেত্রে মার্কিন বাহিনীর শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখতে সবধরনের বাণিজ্যিক প্রযুক্তি এবং সমাধান ব্যবহার করে প্রতিরক্ষাশিল্পকে দ্রুত প্রসারিত করতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

উল্লেখ্য, ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণ এবং গাজায় ইসরাইলি অভিযানের পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রাগার থেকে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের গোলাবারুদ, আর্টিলারি সিস্টেম এবং ট্যাংক বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের সাথে সরাসরি সঙ্ঘাত এই সঙ্কটকে আরো ঘনীভূত করেছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চলতি মাসেই সামরিক বাজেট ৫০০ বিলিয়ন ডলার বাড়িয়ে ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার প্রস্তাব দিয়েছেন। এর আগে গত মার্চ মাসে তিনি সাতটি বড় প্রতিরক্ষা ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের সাথে বৈঠক করেছিলেন। এখন সেই তালিকায় যুক্ত হতে যাচ্ছে সাধারণ গাড়ি নির্মাতারাও, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সেই ঐতিহাসিক সময়ের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে যখন ডেট্রয়েটের গাড়ি তৈরির কারখানাগুলো ট্যাংক ও যুদ্ধবিমানের ইঞ্জিনে সয়লাব হয়ে গিয়েছিল।