জ্বালানি সঙ্কটে বিপাকে মীরগঞ্জ ফেরিঘাট

Printed Edition

বাবুগঞ্জ (বরিশাল) সংবাদদাতা

তীব্র জ্বালানি সঙ্কটে বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার মীরগঞ্জ গুরুত্বপূর্ণ ফেরিঘাটে ফেরি ও ট্রলার চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। প্রয়োজনীয় তেল সরবরাহ না থাকায় নির্ধারিত সময়সূচি ভেঙে পড়েছে, ফলে যাত্রীদের দুর্ভোগ যেমন বাড়ছে, তেমনি সংশ্লিষ্টরা পড়ছেন লোকসানের মুখে।

ঘাট সূত্রে জানা গেছে, একটি ফেরি সচল রাখতে প্রতিদিন প্রায় ২৫০ থেকে ২৬০ লিটার তেলের প্রয়োজন হলেও বর্তমানে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ২০০ লিটার। এতে প্রতিদিন ৫০ থেকে ৬০ লিটার তেলের ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। সপ্তাহ শেষে এই ঘাটতি ৩০০ লিটারেরও বেশি হয়ে দাঁড়াচ্ছে, যা ফেরি চলাচলে বড় ধরনের বিঘœ সৃষ্টি করছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশের চলমান জ্বালানি সঙ্কটের প্রভাবেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিদিনই ফেরি চলাচলে অনিয়ম দেখা দিচ্ছে। ফেরির ইজারাদার প্রতিষ্ঠানের পরিচালক রাকিবুল ইসলাম মামুন বলেন, প্রয়োজনীয় তেল না পাওয়ায় ফেরি পরিচালনা ব্যাহত হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে শিগগিরই ফেরি চলাচল বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

একই ঘাটে যাত্রী পারাপারের ট্রলারগুলোও তীব্র সঙ্কটে পড়েছে। একটি ট্রলার চালাতে প্রতিদিন প্রায় ৬০ লিটার তেলের প্রয়োজন হলেও তারা কোনো আনুষ্ঠানিক সরবরাহ পাচ্ছে না। স্থানীয়ভাবে ২০-২৫ লিটার তেল সংগ্রহ করে সীমিতভাবে চলাচল চালানো হলেও এতে নিয়মিত ট্রিপ ব্যাহত হচ্ছে এবং আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন চালকরা।

ট্রলার সংশ্লিষ্টরা জানান, তেলের অভাবে প্রতিদিন কয়েকটি ট্রিপ বাতিল করতে হচ্ছে। এতে প্রতিদিন হাজার হাজার টাকার লোকসান হচ্ছে এবং যাত্রীদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।

এ পরিস্থিতিতে দ্রুত প্রয়োজনীয় তেল সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ঘাট সংশ্লিষ্টরা। অন্যথায় ফেরি ও ট্রলার চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা উল হুসনা বলেন, বর্তমানে প্রতিদিন ২০০ লিটার তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। অতিরিক্ত চাহিদা থাকলে যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কামিনী ফিলিং স্টেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ অফিসার ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, সারা দেশের মতো বাবুগঞ্জেও জ্বালানি সঙ্কট রয়েছে। তিনি বলেন, সীমিত সরবরাহের মধ্যেই সুষম বণ্টনের মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দেয়ার চেষ্টা চলছে।