দাম বাড়লেও গ্রাহকদের লাইন কমেনি পাম্পে

জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও কমেনি গ্রাহকদের দীর্ঘ লাইন। প্রতিদিনের মতো গতকালও সব পাম্পেই ছিল উপচে পড়া ভিড়। লাইনে থাকা অনেকেই রাত্রিযাপনের প্রস্তুতি হিসেবে খাবার, বিছানা, মশার কয়েল, লুঙ্গি-গামছা সাথে নিয়ে অপেক্ষা করছেন। গ্রাহকরা বলছেন, তেলের মূল্য যতই বাড়ানো হোক প্রয়োজন তো মেটাতেই হবে। তাই দামের পাশপাশি সরবরাহ না বাড়ানো পর্যন্ত ভোগান্তি কমবে না।

নিজস্ব প্রতিবেদক
Printed Edition
তেল সংগ্রহের জন্য মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরের একটি পাম্পে কৃষকদের লম্বা লাইন
তেল সংগ্রহের জন্য মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরের একটি পাম্পে কৃষকদের লম্বা লাইন |নয়া দিগন্ত

দেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও কমেনি গ্রাহকদের দীর্ঘ লাইন। প্রতিদিনের মতো গতকালও সব পাম্পেই ছিল উপচে পড়া ভিড়। লাইনে থাকা অনেকেই রাত্রিযাপনের প্রস্তুতি হিসেবে খাবার, বিছানা, মশার কয়েল, লুঙ্গি-গামছা সাথে নিয়ে অপেক্ষা করছেন। গ্রাহকরা বলছেন, তেলের মূল্য যতই বাড়ানো হোক প্রয়োজন তো মেটাতেই হবে। তাই দামের পাশপাশি সরবরাহ না বাড়ানো পর্যন্ত ভোগান্তি কমবে না।

রোববার রাজধানীর বেশ কয়েকটি পেট্রল পাম্প ঘুরে যানবাহনের এমন দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। লাইনে থাকা অনেকেই এসেছেন শনিবার দুপুরে বা বিকেলে। তারা একটু একটু করে সামনের দিকে এগিয়ে মাঝপথে আসার পর তেল শেষ হয়ে যাওয়ায় পাম্প বন্ধ হয়ে যায়। যার কারণে অনেকেই সারা রাত লাইনে থাকার প্রস্তুতি নিয়ে এসেছেন।

শনিবার রাতে আগারগাঁও রায়হান ফিলিং স্টেশনের লাইনে থাকা প্রাইভেট কার চালক আরমানকে দেখা যায় গাড়ি ডাস্টার দিয়ে পরিষ্কার করে কাভার দিয়ে ঢেকে দিলেন। তার আগে পেছনের ডালা খুলে একটি ব্যাগ বের করেন। তিনি জানান, ওই ব্যাগে তার রাত্রিযাপনের সব সামগ্রী রয়েছে। টিফিন ক্যারিয়ারে রাতের খাবার, বিছানার চাদর, একটি ছোট বালিশ, লুঙ্গি, গামছা, মশার কয়েল, টুথব্রাশ, পেস্ট সবই নিয়ে এসেছেন।

তিনি বলেন, ঘুম হবে না; তবুও একটু বিশ্রামের চেষ্টা করব। কারণ এখন লাইন ছেড়ে চলে গেলে পরদিন আবার এখানে আসতেই তেল শেষ হয়ে যাবে। তাই লাইন ছাড়বেন না। রোববার দুপুরে তেল দেয়া শুরু হলে ২০-২৫টি গাড়ির পরই তেল পাবো বলে আশা করি।

সকাল ৮টার দিকে একটি প্রাইভেট কারের মালিক বেসরকারি ব্যাংক কর্মকর্তা রিপন খান বলেন, গত দুই দিন রাতে লাইনে অপেক্ষা করে চালক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাই ভোরে নিজেই গাড়ি নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়েছি। একটু বেলা গড়ালে চালক আসবে। তখন আমি অফিসে চলে যাবো। এভাবে চলতে পারে না। একটি নীতিমালায় আসা প্রয়োজন। দামের পাশাপাশি সরবরাহ না বাড়ালে ভোগান্তি কমবে না। যতই বাড়ানো হোক, যাদের প্রয়োজন তারা তো কিনবেনই। যদিও এর প্রভাব পড়বে বাজারে।

সোনার বাংলা ফিলিং স্টেশনের সামনে মোটরসাইকেল নিয়ে তেলের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে ছিলেন শাহীন। তিনি বলেন, শনিবার সন্ধ্যায় এসে দাঁড়িয়েছিলাম। রাত ১১টা পর্যন্ত পাম্প থেকে তেল দিয়েছে। তারপর তেল শেষ হয়ে গেছে। আজ (রোববার) আবার তেল দেয়া শুরু হলে তেল নিয়ে তারপর বাসায় যাবো। হাফিজ নামে আরেকজন মোটরসাইকেল চালক বলেন, শনিবার বেলা ৩টার সময় লাইনে দাঁড়িয়েছি। তখন লাইনের শেষ মাথা ছিল টাউন হল পর্যন্ত। পরে টাউন হল থেকে আসাদগেট পর্যন্ত আসতে আসতেই তেল শেষ। রাত থেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। আজ সকাল হলেও এখন পর্যন্ত পাম্প খোলেনি।

মেজবাহ উদ্দিন বলেন, সকাল ৭টার সময় এসে লাইনে দাঁড়িয়েছি। অনেক পেছনে রয়েছি। কারণ শনিবার রাত থেকেই সবাই লাইনে দাঁড়িয়ে আছে। ভাবছিলাম তেলের দাম বাড়ার খবরে হয়তো লাইন কমবে; কিন্তু আগের মতোই আছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পাম্পের এই চাপ কমাতে হলে সরকারের উচিত বন্ধ হয়ে যাওয়া সব পাম্পে তেল সরবরাহ করে চালু করা। তাহলে পাম্পের চাপ কমবে। অথচ সরকার বলছে তেল পর্যাপ্ত আছে। তেল পর্যাপ্ত আছে তাহলে পাম্প বন্ধ কেন? তেল পর্যাপ্ত থাকলে দাম বাড়ল কেন? মানুষ কেন তেল মজুদ করছে? কারণ সরকার তেল দিতে পারছে না। পাম্পগুলো বন্ধ থাকছে। এ জন্য তেল পর্যাপ্ত মজুদ আছে বললেও মানুষ বিশ্বাস করতে পারছে না। যার কারণে মানুষ অবৈধভাবে তেল মজুদ করছে।

নিলয় বলেন, সরকার দাম বাড়িয়েছে। এক দিক থেকে ভালো করেছে। অনেকেই দাম বাড়ার আশঙ্কায় তেল মজুদ করছিল। আবার কেউ কেউ ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নিয়ে তা বেশি দামে বাইরে বিক্রি করত। যার কারণে কিছু মানুষ বারবার লাইনে দাঁড়াত। সরকার তেলের দাম বাড়িয়েছে এখন আর এই সিন্ডিকেটের চাপটা থাকবে না। আশা করা যায়, দুই-এক দিনের মধ্যে এই সমস্যা কেটে যাবে।

এ দিকে গতকাল জ্বালানি মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে এপ্রিল মাসে ভোক্তাপর্যায়ে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১১৫ টাকা, অকটেনের দাম ১২০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৪০ টাকা, পেট্রলের দাম ১১৬ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা এবং কেরোসিন ১১২ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রতি লিটার ডিজেল ১৫ টাকা, অকটেন ২০ টাকা, পেট্রল ১৯ টাকা ও কেরোসিনের দাম ১৮ টাকা বেড়েছে।