হাসান হাফিজ
জেনেশুনে বিষ পান
মৃত্যু হয়তো অক্টোপাস, আক্রমণ সাঁড়াশিসদৃশ
তথাপি জীবন কাম্য, যদিও তা বহুলাংশে বিষ!
জীবন তোমাকে বলি কুটুম্ব আরাধ্য কাক্সক্ষা প্রিয়
আগ্রাসী চুমুক দিয়ে আকণ্ঠ তা পান করে নিয়ো।
মর্মে মর্মে উপলব্ধ জীবন-মৃত্যুর এই দ্বন্দ্ব দোলাচল
কী যে তার আহত ও অন্ধ প্রীতি মারাত্মক ছল।
বুঝি না জানি না,
নিষেধ মায়াবী হুমকি রক্তচোখ পুরোটা মানি না।
জানি মৃত্যু আসবেই
জয়পুষ্প হাসবেই
অমোঘ সে অনিবার্য ধ্যানীমৌন পূর্ণাঙ্গ মরণ
মাঝখানে পর্যুদস্ত ধুঁকতে থাকা মননের বিবাগী ক্ষরণ
জীবন তোমার নাম, আশা অন্য নাম
অসম্পূর্ণ প্রতিবন্ধী তাও কিন্তু তোমাকেই ভালোবাসিলাম!
শাহীন রেজা
সম্মতি
দিয়েছ সম্মতি তবে মন থেকে নয়
তোমার কথার নিচে চাপা পড়ে গেছে ওই
সারিসারি কথার কবর
বিশ্বাস এমনই মিথ
আমাকেও করেছে সম্মোহিত লতার মতন
ঝাউয়ের নীরব ডালে কাল রাতে কেঁদেছিল
কোনো এক ক্ষুধার্ত বাদুড়
শিশুর কান্না ভেবে গুটিসুটি আমিও নিয়েছি
তুলে গায়ে এক মখমলি ভয়ের চাদর
এভাবে উড়ায় ঘুড়ি চাঁদের জাহাজ
নীরবে ছড়ায় ঘ্রাণ বনে অঘ্রাণে
ঘাসের যুবতী দেহে নীল-সাদা ফুলের মাতম
কথায় কথায় সত্য ঘুমিয়ে পড়ে জাগে এক গোয়েবলস্ দেহ
কথার সলতে পুড়ে আঁকে সেই মায়ার প্রাসাদ
সেই কথা কাক হয়
কথায় কথায় ছোটে মৃত্যুর ভ্রূণ
ছোটে নিকষ আঁধার
পৃথিবীর একদিকে থাকে যদি আলো
বাকি দিক জেনে রাখো রাতের আহার
দিয়েছ সম্মতি তুমি দ্বীন ও দিনের
বৈশাখে কেন হাসে শরতের প্রাণ।
ফেরদৌস সালাম
বোশেখের প্রেম
জানি কিছুই দেবে না। অবাক বিস্ময়ে তবু
তাকিয়ে তাকিয়ে প্রহর গুনছি..যদি অন্তত
কিছুটা সময় মুখোমুখি বসো
ক্ষেতের বাতরে সবুজ বাতাসে চিবুকের তিল
কী গভীর অন্তহীন কবিতার শব্দাবলী
আকুলিত করে দেবে স্নিগ্ধতার ঘাসের বাথান।
উড়াল মেঘও এমন সুন্দর দেখে নেমে যাবে
এ জমিনে হঠাৎই ধানের পাতারা ছন্দে ছন্দে
গাইবেই বোশেখের আগমনী গান
অনতিদূরেই বিলজলে সারিবদ্ধ শিকারি বকেরা
অমন সৌন্দর্যের আবাহনে ভুলে যাবে শিকারের কথা...
আমিও তোমাকে একটিবার দেখব বলে
অপেক্ষায় বসে আছি আশাবাদী ফিলিস্তিনি শরণার্থী
নেতানিয়াহুর বারুদ বৃষ্টির মধ্যেও যেভাবে প্রত্যাশা করে নিরাপদ ত্রাণ
আহা তবুও কী আসবে না বাংলার সবুজাভ কবিতায় রিমঝিম মুখর ময়ূরী।
হিকমাত জহুর
আবারও উত্তাল হতে দেখেছি
সমুদ্র উত্তাল ছিল
ওরা মৃত্যুকে স্বচক্ষে দেখেছিল
ওরা কাঁদছিল; শিশুদের মতো--কাউকে খুঁজছিল
এবং কেঁদে কেঁদে বলছিল...
এ যাত্রায় আমাদের রক্ষা করো, প্রভু
অতঃপর আলবাট্রস পাখিরা তাদের উদ্ধারে ঝাঁপিয়ে
পড়েছিল...
মৃত্যুর ছায়া প্রত্যক্ষ-করা যাত্রীরা যখন তীরে ফিরছিল
তাদের চোখগুলো কৃতজ্ঞতায় গলে পড়ছিল
অতঃপর তারা যখন মৃত্যুর ছায়া অতিক্রম করে
ঘরে ফিরলো, কৃতঘœ হলো--অঙ্গীকার ভুলে গেলো এবং
আলবাট্রস পাখিদের দিকে বন্দুক তাক করলো...
তাদের, যারা উদ্ধার করেছিল।
তারা কি জানে না, সমুদ্র মানুষ নয়;
সমুদ্রের কাছে--এই মানুষেরে, বার বার যেতে হয়?
হে কৃতঘœ প্রাণ ভাঁড়, সমুদ্র ফুঁসবে আবার
রোজকার মতো। মৃত্যুও আসবে--
ফণা তুলে। আবারও তুমি চিৎকার করবে শিশুর মতো।
কিন্তু; আলবাট্রস পাখিরা আসবে না আর
এক শতাব্দীতে আলবাট্রস পাখিরা একবারই আসে
আলবাট্রস প্রতিদিন আসে না--কখনো...
অথচ সমুদ্রকে আমি আবারও উত্তাল হতে দেখেছি।
আবু জুবায়ের
ক্যালেন্ডার ও কালবৈশাখী
সকালে নতুন বছরের ক্যালেন্ডারটা দেয়ালে ঝোলালাম, ঠিক গত বছরের সেই একই পুরনো, জং-ধরা পেরেকটায়।
রেডিওতে কে যেন গলা কাঁপিয়ে গাইছে
“এসো হে বৈশাখ, উড়িয়ে নাও সব জীর্ণতা!”
আমি খুব আশা নিয়ে জানালার পাশে দাঁড়িয়ে রইলাম, যদি সত্যি সত্যি কালবৈশাখী এসে আমার মুদি দোকানের বকেয়া খাতাটা উড়িয়ে নেয়!
কিন্তু দমকা হাওয়া এসে শুধু আমার পুরনো শার্টের ছেঁড়া বোতামটা খসিয়ে দিয়ে গেল।
বুঝলাম, এই শহরে প্রকৃতিও বড্ড হিসেবি;
সে শুধু গরিবের শার্ট ওড়ায়, মহাজনের খাতা ছোঁয় না।
সাব্বির উদ্দিন আহমেদ
নববর্ষের বার্তা
বাংলার মাটি, বাংলার মানুষ
নববর্ষে উড়াই নতুন দিন
জীবনে আনি নব জোশ রাখি নব সাহস
রক্তের দাবি মিটাই, জুলাই উৎসবে।
শহীদদের স্বপ্ন এবং গণ-রায়কে জানাই সম্মান
স্বাগত জানাই নতুনকে।
শপথ নিই নতুন বাংলাদেশের
আর নয় ফ্যাসিবাদ অপশাসন
সুশাসের তৃষ্ণায় কাতর বাংলাদেশ।
নববর্ষ এসেছে নিয়ে নতুন বার্তা
এবার শুরু হোক নবযাত্রার ঢেউ।



