সৈয়দপুরে নালা দখল করে শিল্প কারখানা নির্মাণ : জলাবদ্ধতায় নষ্ট ফসল

Printed Edition
কারখানার বর্জ্যে ভরাট হয়ে আছে নালা	: নয়া দিগন্ত
কারখানার বর্জ্যে ভরাট হয়ে আছে নালা : নয়া দিগন্ত

মো: জাকির হোসেন সৈয়দপুর (নীলফামারী)

নীলফামারীর সৈয়দপুরে শতবর্ষী একটি পানি নিষ্কাশন নালা দখল করে শিল্পকারখানা গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে। এতে বিশাল এলাকায় পানি নিষ্কাশন বন্ধ হয়ে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি শিল্পকারখানার বর্জ্যে এলাকা দূষিত হয়ে কৃষিজমির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে। সেই সাথে কমে যাচ্ছে ফসলের উৎপাদন এবং ক্ষতির মুখে পড়ছেন এলাকার চাষিরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সৈয়দপুর-রংপুর মহাসড়কের পাশে কামারপুকুর কলাবাগান এলাকায় প্রায় এক যুগ আগে রানু এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ নামে একটি বহুমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, কয়েকটি গ্রামের পানি নিষ্কাশনের একমাত্র প্রাকৃতিক নালাটি দখল করে কারখানাটি নির্মাণ করা হয়। শুরুতে সেখানে পাটজাত পণ্য উৎপাদন করা হলেও পরবর্তীতে সুতলি কারখানা স্থাপন করা হয়। এতে সুতলির কারখানার ধুলা ও বর্জ্য আশপাশের জমিতে গিয়ে পড়ছে, সেই সাথে নষ্ট হচ্ছে জমির উৎপাদন ক্ষমতা।

কৃষকদের অভিযোগ, নালাটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানি ও কারখানার বর্জ্য জমে ফসলিজমি তলিয়ে যায়। বিষয়টি একাধিকবার জানানো হলেও কারখানা কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। পরে স্থানীয়দের প্রতিবাদের মুখে কারখানার পেছনের দেয়ালের পাশে ছোট আকারে একটি বিকল্প নালা তৈরি করা হয়, যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।

গত দুই বছরে ওই কারখানার সাথে নতুন করে একটি ‘সিমেন্ট-ঢেউটিন’ উৎপাদন ইউনিট যুক্ত হওয়ায় বর্জ্য উৎপাদন আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। এই ইউনিটের রাসায়নিকযুক্ত বর্জ্য ও সিমেন্ট-পাথরের গুঁড়ো নালায় জমে গিয়ে পানিপ্রবাহ প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। ফলে দূষিত পানি নালা উপচে পাশের জমিতে ছড়িয়ে পড়ছে। এই বর্জ্য মিশ্রিত পানি ফসলিজমিতে গিয়ে সারা বছরই হাঁটুসমান পানি জমে থাকে।

কামারপুকুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আবদুল জলিল জানান, রানু এগ্রোর পাশেই তার প্রায় সাড়ে তিন দোন জমি রয়েছে। গত দুই বছর ধরে সেখানে কোনো ফসলই ফলানো যাচ্ছে না। কারণ তার জমিতে সারা বছরই বর্জ্য-পানি জমে থাকে। পাশের পুকুরটিও বর্জ্য-পানিতে সারা বছর ভরাট হয়ে থাকে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, একাধিকবার কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

একই অভিযোগ করেন আরেক কৃষক জামান মাস্টার। তিনি জানান, বর্জ্য-আক্রান্ত এলাকায় তার প্রায় পাঁচ দোন আছে। সেই জমিতে আগে প্রতি দোনে ২০ মণ করে ধান উৎপাদন হতো। অথচ বর্জ্যরে কারণে এখন প্রতি দোনে পাঁচ মণ ধানও ফলে না। বর্ষাকালে অতিরিক্ত পানি জমে অনেক সময় পুরো জমিই অনাবাদি হয়ে পড়ে। কারখানার বর্জ্যে তার জমিগুলোর উর্বরতা দিন দিন নষ্ট হচ্ছে। তিনি জানান, এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে তার জমিতে কোনো ফসল ফলানোই সম্ভব হবে না।

কারখানার সেফটি অফিসার সাজ্জাদ হোসেন জানান, কারখানার ভেতরে বর্জ্য পরিশোধনের ব্যবস্থা আছে। কিন্তু তিনি নালা ভরাট ও পানি নিষ্কাশন বন্ধ হয়ে যাওয়ার ব্যাপারে কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। জেনারেল ম্যানেজার প্রকাশ চন্দ্র দাস বলেন, আমাদের সিমেন্ট ইউনিটের কোনো বর্জ্য বাইরে যাওয়ার কথা নয়। তার পরও যদি নালা ভরাট হয়ে থাকে, দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।