কোলেস্টেরল বৃদ্ধির লক্ষণ

Printed Edition

কোলেস্টেরল বাড়লে হৃদরোগের ঝুঁঁকি বাড়ে। কিন্তু কোলেস্টেরল বাড়ছে কি না, তা বোঝা সহজ নয়। এর জন্য রক্ত পরীক্ষা করানো জরুরি। পরিবারে উচ্চ কোলেস্টেরল এবং হৃদ্রোগের ইতিহাস থাকলে অনেকেই ভয় পান। রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল আদৌ বাড়ছে কি না, ত জানা যায় বেশ কিছু লক্ষণে। খেয়াল রাখতে হবে হাত ও পায়ে কী কী বদল আসছে।

অনেকের ধারণা চর্বি-জাতীয় খাবার বেশি খেলেই কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যায়। এ ধারণা কিছুটা ভুল। একই খাবার পরিবারের তিনজন খেলেও একজনের কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশি থাকতে পারে, অন্যদের স্বাভাবিক হতে পারে। এটি নির্ভর করে শরীরের বিপাকক্রিয়ার হার ও হজমশক্তি কেমন তার ওপর। কারো যদি ডায়াবেটিস থাকে, তারও ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা বৃদ্ধির ভয় থাকে।

হাত ও পায়ের কী কী লক্ষণ জানান দেয় কোলেস্টেরল বাড়ছে?

হাত-পায়ের অসাড়তা : ধমনীতে চর্বি জমার ফলে অক্সিজেনসমৃদ্ধ রক্ত ঠিকমতো হাত-পায়ের কোষে কোষে পৌঁছতে পারে না। ফলে হাত ও পা অবশ হয়ে যাওয়ার লক্ষণ দেখা দেয়। পেশির অসাড়তা বাড়ে। অনেক সময়ে হাত ও পায়ের পেশিতে সূচ ফোটার মতো অনুভূতি হয়।

পায়ের পাতায় ব্যথা : হাঁটার সময় বা সিঁড়ি দিয়ে ওঠার সময় পায়ের কাফ মাসল বা ঊরুতে তীব্র টান বা ব্যথার অনুভূতি হতে পারে। এটি উচ্চ কোলেস্টেরলের কারণে রক্তনালি সরু হয়ে যাওয়ার ফলে হয়। পায়ের পাতায় ব্যথা যদি তীব্র হয় এবং হাঁটাচলার সময়ে যন্ত্রণা বাড়ে, তা হলে সতর্ক হতে হবে।

নখের রঙে বদল : নখের রঙে বদল আসতে পারে। নখ পাতলা হয়ে ভেঙে যেতে পারে, রং ফ্যাকাশে হয়ে যেতে পারে। নখ ভঙ্গুর হয়ে যাবে, নখের কোণায় সংক্রমণও হতে পারে।

পায়ের পেশিতে টান : পায়ের পেশিতে টান ধরতে পারে যখন তখন।

পায়ের পাতার নিচে জ্বালা ভাব হতে পারে। রক্তে কোলেস্টেরল বাড়লে পায়ের স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তখন পায়ে টান ধরা, পায়ের আঙুল ফুলে যাওয়া ইত্যাদি লক্ষণ দেখা দিতে থাকে।

হাত ও পা ঠাণ্ডা হয়ে যাওয়া : রক্তে কোলেস্টেরল বেড়ে গেলে রাতের দিকে পা ক্রমাগত ঠাণ্ডা হতে থাকে। হাতের তালুও ঠাণ্ডা হয়ে যায়। শীত হোক বা গরম বা বর্ষা, সব ঋতুতেই রাতের দিকে পা ও হাতের তালু ঠাণ্ডা হয়ে এলে সাবধান হওয়া দরকার।

রক্তে কোলেস্টেরল বেড়ে গেলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ খেতে হবে। পাশাপাশি রোজের জীবনযাপনেও কিছু বদল আনা দরকার। যেমন, মদ্যপান ও ধূমপান এড়িয়ে চলুন।

শরীরচর্চা করতে হবে নিয়মিত। বাইরের খাওয়া, বেশি তেলমসলা দেয়া খাবার খেলে চলবে না। সবুজ শাকসব্জি, ফল বেশি করে খেতে হবে। মিষ্টিজাতীয় খাবার খাওয়াও কমাতে হবে। ইন্টারনেট।