ক্রীড়া প্রতিবেদক
এশিয়ান গেমস বা এশিয়ান বিচ গেমস। দুই গেমসেই সবচেয়ে বেশি পদক এসেছে কাবাডিতে। এবার ২২-৩০ এপ্রিল চীনের সানিয়া শহরে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ৬ষ্ঠ এশিয়ান বিচ গেমস। এতে ৬ ডিসিপ্লিনে বাংলাদেশের ৩১ জন খেলোয়াড় ও ১০ কর্মকর্তাসহ ৪১ জন অংশ নিচ্ছেন। তবে বিওএর কর্মকর্তা, ডেলিগেট ক্রীড়া পরিষদ/ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিসহ এ সংখ্যা ৫৬ জন। অবশ্য এ বহরের মধ্যে শুধু কাবাডিতেই পদকের আশা দেখছে বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন (বিওএ)। তা পুরুষ ও নারী উভয় বিভাগেই। গতকাল এশিয়ান বিচ গেমস উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান বিওএর সহসভাপতি মেজর (অব:) ইমরোজ আহমেদ। অবশ্য অ্যাথলেটিক্স এবং হ্যান্ডবল ফেডারেশন কর্মকর্তারাও পদক জয়ের কথা শুনিয়েছেন। গেমসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মার্চ পাস্টে বাংলাদেশের পাতাকা হাতে থাকবে বিচ হ্যান্ডবল দলের খেলোয়াড় রবিউল আওয়াল ও ¯িপ্রন্টার সুমাইয়া দেওয়ানের। আর সমাপনীর মার্চ পাস্টে এই পতাকা বহনের দায়িত্ব বর্তাবে ভলিবল খেলোয়াড় হরষিৎ বিশ্বাসের ওপর।
বিচ গেমস। তাই বাংলাদেশ দলেরও অনুশীলন হওয়া দরকার ছিল বিচে। এ ক্ষেত্রে কক্সবাজারের বিচই ছিল যথাযথ। কিন্তু ৬ ডিসিপ্লনই অনুশীলন করেছে ঢাকায়। কখনও পন্টন ময়দানে। এখনও ঢাকার ৩০০ ফিটের পাশে বসুন্ধরা এলাকায়। এতে মোটেই সমুদ্র সৈকতের আবহ পাওয়া যায়নি। এরপরও ফেডারেশনের সাথে বিওএও স্বপ্ন দেখছে এশিয়ান বিচ গেমসে পদক জয়ের। অবশ্য শুধু মাত্র সাঁতারু ফয়সালই কক্সবাজারের টেকনাফে গিয়ে পাঁচদিন অনুশীলন করেছেন। উল্লেখ্য ফয়সাল বিচ গেমসে দূরপাল্লার সাঁতারে অংশ নেবেন।
এবারের গেমসে বাংলাদেশ অংশ নিচ্ছে অ্যাথলেটিক্স, ওপেন ওয়াটার সুইমিং, হ্যান্ডবল, পুরুষ ও নারী কাবাডি, কুস্তি ও ভলিবলে। অংশ নেয়ার কথা ছিল বিচ বাস্কেটবল দলেরও। সেভাবে প্রস্তুতিও শুরু হয়েছিল তাদের। তবে তারা কোয়ালিফাই করতে না পারায় বাদ। জানান মেজর ইমরোজ। এ দলের শেভ ডি মিশন হিসেবে যাওয়ার কথা ছিল আবদুস সালামের। তবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের গুরু দায়িত্ব পালন করায় তার পক্ষে দলের সাথে চীন যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ফলে মেজর ইমরোজই যাচ্ছেন শেভ ডি মিশন হিসেবে।
বাংলাদেশ পুরুষ কাবাডি দল প্রথম বিচ গেমসে ব্রোঞ্জ পদক অর্জন করেছিল। যদিও এরপর তাদের আর পাঠানো হয়নি। এ নিয়ে গতকাল বিস্ময় প্রকাশ করেন ইমরোজও। পরের দুই বিচ গেমসে নারী কাবাডি দল ব্রোঞ্জ পদক জয় করে। এরপর তাদের পক্ষেও তা ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। এবার সেই পদক পুনরুদ্ধারের মিশন নারী ও পুরুষ কাবাডি দলের। জানান পুরুষ দলের কোচ বাদশা মিয়া ও নারী দলের কোচ শাহনাজ পারভীন মালেকা। কাবাডি ফেডারেশন সেক্রেটারি নেওয়াজ সোহাগের আশা এবার ব্রোঞ্জ ছাড়িয়ে রৌপ্য জয় করবে বাংলাদেশ।
অ্যাথলেটিক্সে ৬০ মিটারে দৌড়াবেন সুমাইয়া দেওয়ান ও আবদুল মোতালেব। যদিও তারা ট্র্যাকে ১০০ মিটারে দৌড়ান। কাল সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম জানান, যেহেতু ৬০ মিটারের স্পিন্ট এ ইভেন্টে। এ ৬০ মিটার পর্যন্ত প্রত্যেক ¯িপ্রন্টারের ব্যবধান থাকে খুবই কাছে। তাই আমি আশা করি এবার রেজাল্ট (পদক জয়) হতেও পারে।
হ্যান্ডবল দল মালদ্বীপে গিয়ে কমনওয়েলথ বিচ হ্যান্ডবলে টাইব্রেকারে মালদ্বীপের কাছে হেরে পদকের দেখা পায়নি। যদিও তারা লিগ পর্বের ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকা, ভারত ও মালদ্বীপকে হারিয়েছিল। তবে এবার মঙ্গোলিয়া, থাইল্যান্ড, মালদ্বীপ ও জর্দানের বিপক্ষে ভালো করবে বাংলাদেশ। সে সাথে কাতার ও পাকিস্তানের বিপক্ষে লড়াই করার কথা জানান হ্যান্ডবল ফেডারেশন সেক্রেটারি সালাউদ্দিন আহমেদ।
ভলিবল ফেডারেশনের সেক্রেটারি বিমল দাস বুলুও আশাবাদ ভালো করার। তবে এখনো তার অজানা কোন গ্রুপে পড়বে তারা। কারণ গ্রুপে জাপান ও কোরিয়া পড়লে কঠিন হয়ে যাবে জেতাটা। বাংলাদেশ রেসিলং ফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদক আবদুল মোবিনও জানেন না কোন দেশের সাথে বাংলাদেশের খেলা পড়বে। ফলে নির্দিষ্ট কিছু বলতে পারলেন না টার্গেট সম্পর্কে। তবে জানান, কুস্তিতে আমরা নেপাল ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বরাবরই ভালো করি।
গেমসের জন্য বিওএর ব্যয় হচ্ছে তিন কোটি ৩৯ লাখ টাকা। এ অর্থ এ মুহূর্তে বিওএর নিজস্ব তহবিল থেকেই ব্যয় হচ্ছে। যদিও এ অর্থ চাওয়া হয়েছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের কাছে জানান মেজর (অব:) ইমরোজ।



