মালেক আদনান টাঙ্গাইল
দেশে প্রথমবারের মতো ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান বলেছেন, দেশের আটটি জেলার ১১টি উপজেলায় পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে প্রথম পর্যায়ে প্রায় ২২ হাজার কৃষকের মাঝে এই কৃষক কার্ডের সুবিধা পৌঁছে দিচ্ছি। ইনশা আল্লাহ আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমিকভাবে আরো দুই কোটি ৭৫ লাখ কৃষকের কাছে আমরা এই ‘কৃষক কার্ড’ পৌঁছে দেবো।
মঙ্গলবার টাঙ্গাইলের শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে আয়োজিত বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এ কথা বলেন। এর আগে ডিজিটাল মাধ্যমে তিনি এই ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।
তারেক রহমান বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত একটি সরকার। নির্বাচনের আগে আমরা দেশের মানুষের কাছে যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, তার মধ্যে এই কৃষক কার্ডের প্রতিশ্রুতিও ছিল। এর বাইরেও আমরা কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করার কমিটমেন্ট দিয়েছিলাম। আল্লাহর রহমতে আমরা সেই কাজটি সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়েছি। যার মাধ্যমে সমগ্র বাংলাদেশে প্রায় ১২ লাখ কৃষক এই সুবিধাটি পেয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই দেশের প্রধান পেশাই হচ্ছে কৃষি। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিশ্বাস করে এই দেশের কৃষক যদি ভালো থাকে, তাহলে সমগ্র বাংলাদেশ ভালো থাকতে পারবে, বাংলাদেশের মানুষ ভালো থাকতে পারবে। বর্তমান সরকারের লক্ষ্যই হচ্ছে কৃষককে আত্মনির্ভরশীল হিসেবে গড়ে তোলা। সে জন্যই এই কৃষক কার্ড আমরা দিয়েছি। এই কার্ডের মাধ্যমে আমরা কৃষককে সরাসরি ১০টি সুবিধা পৌঁছে দেয়ার চেষ্টা করব। এই ১০টি সুবিধার মাধ্যমে কৃষক তার অবস্থা অনেক ক্ষেত্রেই পরিবর্তন করতে সক্ষম হবে।’
খাল খনন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সরকার গঠনের পর আমরা সারা দেশে খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছি। আমাদের লক্ষ্য রয়েছে আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল আমরা খনন করব ইনশা আল্লাহ। যার মাধ্যমে কৃষকদের কৃষিজমির জন্য পানির সমস্যা দূর হবে।’
তারেক রহমান বলেন, আপনারা গত নির্বাচনে বিএনপির ওপরে আস্থা রেখেছেন, ইনশা আল্লাহ এই সরকার আপনাদের আস্থার পূর্ণ মর্যাদা দিবে। এখন আমাদের দেশ গড়ার সময়। কৃষক ভাইদের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি আগামী পাঁচ বছরের ভেতরে আমরা বাংলাদেশের সব নারীপ্রধান পরিবারের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেয়ার চেষ্টা করব। আমরা দেশের জনগণকে সাথে নিয়ে সামনের দিকে বাড়তে চাই, দেশ গঠন করতে চাই।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. রফিকুল ই মোহামেদ। সভাপতিত্ব করেন কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর কৃষিবিষয়ক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী এবং টাঙ্গাইল সদর আসনের এমপি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। এ ছাড়া জাতিসঙ্ঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) বাংলাদেশ প্রতিনিধি মি. জিয়াওকুন শি বক্তৃতা করেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ১৫ জন কৃষক ও কৃষাণীর হাতে ‘কৃষক কার্ড’ ও বৃক্ষচারা তুলে দেন।
তারেক রহমান ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণ শেষে টাঙ্গাইল শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে আয়োজিত কৃষিমেলার উদ্বোধন করেন। সার্কিট হাউজে দুপুরের খাবার গ্রহণের পর বিকেলে টাঙ্গাইলের সন্তোষে মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর মাজার জিয়ারত করেন তিনি।
সেখানে এক আলোচনা সভায় সরকারপ্রধান বলেন, স্বৈরাচার পালিয়ে গেলেও স্বৈরাচারের ভূত এখন বিরোধী দলের ওপর চেপে বসেছে। এ জন্য সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। যারা বিএনপির বিভিন্ন জনকর্মসূচিকে বাধাগ্রস্ত করবে, বিএনপি জনগণকে সাথে নিয়ে তাদের প্রতিহত করবে।
জুলাই সনদ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে জুলাই সনদে বিএনপি সই করেছে, সেই জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর, শব্দ, লাইন ইনশা আল্লাহ আমরা বাস্তবায়ন করব।



