আলফ্রেড লর্ড টেনিসন-এর ‘লাইট ব্রিগেডের আক্রমণ’

Printed Edition

তরজমা : আফসার নিজাম

আলফ্রেড, লর্ড টেনিসন রানী ভিক্টোরিয়ার আমলের একজন অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং প্রভাবশালী ইংরেজ কবি, যিনি দীর্ঘ সময় যুক্তরাজ্যের রাজকবি ছিলেন। তার কবিতায় গভীর আবেগ, শোক ও প্রকৃতির বর্ণনা ফুটিয়ে তুলেছিলেন। এই কবি ১৮০৯ সালের ৬ আগস্ট লিংকনশায়ারের সমার্সবিতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি কেমব্রিজের ট্রিনিটি কলেজে পড়ার সময় সাহিত্য ক্লাবের ‘অ্যাপোস্টলস’ সদস্য ছিলেন। ১৮২৯ সালে ‘টিমবুকটু’ কবিতার জন্য চ্যান্সেলর গোল্ড মেডেল জিতেছিলেন। তার উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে ‘ইন মেমোরিয়াম’, ‘দ্য লেডি অব শ্যালট’, ‘দ্য লোটাস-ইটারস’, ‘ইউলিসিস’ এবং ‘চার্জ অব দ্য লাইট ব্রিগেড’। ১৮৯২ সালের ৬ অক্টোবর তিনি মারা যান।

লাইট ব্রিগেডের আক্রমণ কবিতাটি ১৮৫৪ সালের ২৫ অক্টোবর ক্রিমীয় যুদ্ধের বালাক্লাভার যুদ্ধে রুশ কামান অবস্থানের ওপর ব্রিটিশ হালকা অশ্বারোহী বাহিনীর একটি বিপর্যয়কর ও আত্মঘাতী আক্রমণ করে। ভুল নির্দেশের কারণে, প্রায় ছয় শতাধিক ব্রিটিশ অশ্বারোহী কামান দ্বারা পরিবেষ্টিত উপত্যকার মধ্য দিয়ে সরাসরি আক্রমণ চালায়, যার ফলে অর্ধেক সৈন্য হতাহত হয়। সেই প্রেক্ষাপটে কবিতাটি লিখা হয়।

১.

অর্ধেক সৈনিক, অর্ধেক সৈনিক

অর্ধেক সৈনিক এগিয়ে চলো

মৃত্যুর উপত্যকার বুকে

ছুটে চলো ছয় শ’ বীর।

‘অগ্রসর হও, লাইট ব্রিগেড!

তোপের দিকে এগিয়ে যাও!’

মৃত্যুপুরীর বুকের ভেতর

ছুটে চলো ছয় শ’ বীর।

২.

‘অগ্রসর হও, লাইট ব্রিগেড!’

কেউ কি ছিল ভীত ও হতাশ?

যদিও জানো সেনা ব্রিগেড

ভুল হয়েছে কমান্ডিংয়ে।

প্রশ্ন করার নেই অধিকার

কারণ খোঁজার নেই অধিকার

দায়িত্বটা মরা ও মারা

মৃত্যুপুরীর গহিন মাঝে

ছুটে চলো ছয় শ’ বীর।

৩.

ডানে তোমার গর্জে তোপ

বামে তোমার গর্জে তোপ

সামনে কামান বজ্রধ্বনি।

গর্জে ওঠে অবিরাম

গুলির বৃষ্টি ও শেলের ঝড়

তবু সৈনিক সামনে ছুটো

মৃত্যুমুখো চোয়াল মাঝে

জাহান্নামের মুখের ভেতর

ছুটে চলো ছয় শ’ বীর।

৪.

কামান বারুদ ঝলসে ওঠে

বাতাস চিরে ঝলকে যায়

বন্দুকধারীদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে

ধ্বংস করে বিশাল সেই বাহিনী

বিশ্ব তাকিয়ে থাকে বিস্ময়ে।

নিমজ্জিত ব্যাটারির ধোঁয়ায়

ভেঙে ফেলে শত্রুর সারি

কসাক আর রুশ সৈন্যদল

র‌্যাল্ড থেকে সাবার স্ট্রক

ছিন্নভিন্ন হয়ে ভেঙে পড়ে সর্বত্র

তারা ফিরে এলো শেষে-

কিন্তু ছয় শ’ জনের সবাই নয়।

৫.

ডানে তোপ, বামে তোপ

পেছনেও তোপের গর্জন

বজ্রের মতো নিরন্তর

গুলির ঝড়, শেলের আঘাত

ঘোড়া আর বীর একে একে লুটায়

যারা লড়েছিল বীরের মতো

ফিরে এলো মৃত্যুর চোয়াল পেরিয়ে

জাহান্নামের মুখ থেকে

ফিরে এলো কোনো কোনো সৈন্য

ছয় শ’র মধ্যে যারা বেঁচেছিল।

৬.

কবে মøান হবে তাদের অহঙ্কার?

এই ধ্বংসকারী বন্য উন্মাদের!

বিশ্ব আজও বিস্মিত।

সম্মান জানাও সেই সৈনিকদের

সম্মান জানাও লাইট ব্রিগেডকে

সেই মহিমান্বিত ছয় শ’ বীরকে!