চট্টগ্রামে কলেজছাত্র সাজিদকে লিফটের ফাঁকা গর্তে ফেলে খুন করা হয়

আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দ্বন্দ্ব

Printed Edition

চট্টগ্রাম ব্যুরো

চট্টগ্রাম নগরের চকবাজার থানাধীন ডিসি রোড এলাকায় নির্মাণাধীন একটি ভবনে কলেজছাত্র আশফাক কবির সাজিদ (১৭) খুন হন এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট দ্বন্দ্বে। তাকে গত মঙ্গলবার লিফটের ফাঁকা গর্তে ফেলে হত্যা করা হয়। দুইপক্ষই ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে জড়িত। এ ঘটনায় ভবনের এক নিরাপত্তাকমীসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

নিহত আশফাক কবির সাজিদ বাংলাদেশ এয়ার ফোর্স শাহীন কলেজের একাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থী ছিলেন। তার বাড়ি কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় হলেও তিনি চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়া এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন।

গত বুধবার নিহতের বাবা আবুল হাশেম সিকদার বাদি হয়ে চকবাজার থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় সাতজনকে আসামি করা হয়েছে। এরা হলেন আইমন (২৪), অনিত (২০), মাইকেল রানা (২১), ইলিয়াছ (২২), এনায়েত উল্লাহ (৪৮) ও মিসকাতুল কায়েস (১৯)। এর মধ্যে পুলিশ আইমন, এনায়েত উল্লাহ, এনামুল হত ও মিসকাতুল কায়েসকে গ্রেফতার করেছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১২ এপ্রিল বিকেলে তার বন্ধু ফারদিন হাসান ফোন করে তাকে চকবাজার থানার ডিসি রোডের মৌসুমি আবাসিক এলাকায় ডেকে নেয়। সেখানে পৌঁছানোর পর কয়েকজন তরুণ তাকে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। তাদের হাত থেকে রক্ষা পেতে আশফাক পাশের একটি নির্মাণাধীন ভবনে আশ্রয় নিয়ে আটতলায় উঠে যান এবং নিচের গেট বন্ধ করে দেন। তবে হামলাকারীরা গেটে চাপ দিলে ভবনের নিরাপত্তাকর্মী এনামুল হক গেট খুলে দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এরপর হামলাকারীরা ওপরের তলায় গিয়ে তাকে মারধর করে এবং এক পর্যায়ে লিফটের ফাঁকা গর্তে ফেলে দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার পরপরই পুলিশ নিরাপত্তাকর্মী এনামুল হককে গ্রেফতার করে। অন্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান চালানো হচ্ছে।

চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বাবুল আজাদ জানান, হত্যাকাণ্ডের পেছনের কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে। এটি কিশোর গ্যাংয়ের দ্বন্দ্বজনিত ঘটনা কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এ দিকে নিহতের বাবা আবুল হাসেম সিকদার দাবি করেছেন, তার ছেলে কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল না। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।