নতুন বোর্ডের প্রথম অ্যাসাইনমেন্ট সফল করতে চান মিরাজ

Printed Edition

ক্রীড়া প্রতিবেদক

একে তো ঘরের মাঠে টাইগাররা অপ্রতিরোধ্য, তার ওপর নিউজিল্যান্ডের এই দলটাকে কেউ কেউ যেন আন্তর্জাতিক দলের কাতারে ফেলতেই নারাজ। সেই দলের বিপক্ষে সিরিজ জয় ছাড়া আর কোনো কিছু কি থাকতে পারে ভাবনায়? পা হড়কালে এর প্রতিক্রিয়া তাই কতটা মারাত্মক হবে, সেই আশঙ্কা নিয়েই মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে আজ বেলা ১১টায় তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের প্রথমটি খেলতে মাঠে নামছে টাইগাররা।

নিউজিল্যান্ড যতই সাদামাটা দল নিয়ে নামুক না কেন- বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই, র‌্যাংকিংয়ের হিসাব-নিকাশ, ক্যাপ্টেন মিরাজের নিজেকে নতুন করে প্রমাণ, নতুন বোর্ড ও নতুন সিলেকশন প্যানেলের প্রথম অ্যাসাইনমেন্ট উপলক্ষ্যে মাঠে নামতে হবে নিজেদের সেরাটা নিয়ে। গতকাল প্রি-ম্যাচ সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক মিরাজ জানালেন খোলামেলা অনেক বিষয়।

হোম কন্ডিশনে অ্যাডভান্টেজ দোষের না

অপবাদ ঘুচাতে এখন স্পোর্টিং উইকেটের দিকে ঝুঁকছে বিসিবি। ওয়ানডে অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ মনে করেন, ‘আমরা যদি নড়বড়ে অবস্থায় বিশ্বকাপে যাই, পজিশন কিভাবে থাকবে? এই সিরিজগুলোতে আত্মবিশ্বাস কুড়িয়ে নিলে ভালো প্রস্তুতি হবে বিশ্বকাপে। পাকিস্তান সিরিজে খুব ভালো উইকেটে খেলেছি। চেষ্টা করব এই সিরিজও ভালো উইকেটে খেলার। পাকিস্তানের বিপক্ষে ট্রু উইকেটে আমরা দ্বিতীয় ম্যাচে দ্রুত অলআউট হয়েছি। আবার প্রথম ম্যাচে ট্রু উইকেটে পাকিস্তান ১১৪ রানে অলআউট হয়েছিল। পারফর্ম করতে পারলে উইকেট ম্যানেজ করে খেলতে হয়। মানসিকতার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। পেসাররা ধারাবাহিকভাবে ভালো করছে কয়েক বছর ধরে। ওরকম পরিস্থিতি এলে অবশ্যই কাজে লাগানোর চেষ্টা করব। হোম কন্ডিশনে অ্যাডভান্টেজ দোষের না, পৃথিবীর সব দেশই নিয়ে থাকে।’

আলোচনার কেন্দ্রে উইকেট

নির্বাচক হাসিবুল হোসেন শান্ত জানিয়েছিলেন, উইকেট একটু স্লো হতে পারে। তার ওপর বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের ভাবনা থেকে পুরো ম্যাচই হবে দিনের আলোয়। বোলারদের সুবিধা তাই একটু-আধটু থাকতেই পারে। সাম্প্রতিক অতীতে ওয়ানডে ম্যাচগুলো দিবারাত্রির হলেও দর্শকদের এই ম্যাচ দেখতে বসতে হবে বেলা ১১টায়। দীর্ঘদিন পর পুরনো দিনের অনুভূতি ফেরার সাথে সাথে নিশ্চয়ই জয়ের ছকও কষবে সবাই।

ক্রিকেটারদের খারাপ সময় আসতেই পারে

পিএসএলে সময়টা ভালো কাটেনি রিশাদ হোসেনের। গতবার লাহোর কালান্দার্সকে চ্যাম্পিয়ন করা এই লেগ স্পিনার এবার খেলছিলেন রাওয়ালপিন্ডির হয়ে। যদিও ফর্ম হারিয়ে একপর্যায়ে একাদশ থেকে বাদ পড়েন। তার এই ফর্ম নিয়ে অবশ্য চিন্তিত নয় টিম ম্যানেজমেন্ট। মিরাজ বলেন, ‘পেসাররা খুব ভালো বল করছে। রিশাদের ক্ষেত্রে আমি আত্মবিশ্বাসী অধিনায়ক হিসেবে। এক-দুই ম্যাচ যে কারো খারাপ যেতে পারে, প্রত্যেকেরই যায়। আমি বিশ্বাস করি ও যে মানের বোলার যদি ভালো জায়গায় বল করে ও অনেক ভালো করবে।’

নিজের পজিশন নিয়ে মিরাজ

আমি তো ওপরে খেলছি না। এক পজিশনেই খেলছি। যে পরিস্থিতি থাকে, অনেক সময় ৪-৫ ওভার ব্যাটিং থাকে। তখন যে বেশি পাওয়ারফুল, কার্যকরী তাকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করি। দলের যখন দ্রুত রান তোলা প্রয়োজন, তখন রিশাদকে ব্যাটার হিসেবে নিজের চেয়েও এগিয়ে রাখেন ক্যাপ্টেন।

লম্বা সময় অধিনায়কত্ব টিকবে তো!

লম্বা সময়ের জন্য ওয়ানডে দলের অধিনায়কত্ব পাওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ২০২৭ বিশ্বকাপ পর্যন্ত অধিনায়কত্বের মেয়াদ বাড়ানো হয়। যদিও যে বোর্ড মিরাজের মেয়াদ বাড়িয়েছে, সেই বোর্ড এখন দায়িত্বে নেই। মিরাজ বলেন, লম্বা সময়ের জন্য নেতৃত্বে পেলে দলে ভালো বন্ডিং থাকে। আমি কখনই চাই না কেউ অল্প সময়ের জন্য অধিনায়ক হোক। লম্বা সময়ের দায়িত্ব দেয়া হলে পরিকল্পনাগুলো ভালোমতো করা যায়। খেলোয়াড়রাও মানসিকভাবে ফুরফুরে থাকে। ২০২৭ বিশ্বকাপ অনেক দূর। ওই পর্যন্ত যেতে গেলে প্রক্রিয়া মেনে যেতে হবে। সিরিজ ধরে ধরে ভালো খেলতে হবে। গত দুই সিরিজে খুব ভালো ক্রিকেট খেলেছি। খেলোয়াড়রাও আত্মবিশ্বাসী। ভালো জয়গুলো ক্যাপ্টেন্সি দীর্ঘায়ূ হয়।

জয়ে আশাবাদী

নিউজিল্যান্ড সিরিজে ভালো করার আশা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, অধিনায়ক হিসেবে আমি অবশ্যই বিশ্বাস রাখি। আমরা ভালো ক্রিকেট খেলছি এবং ভালো ফলাফল করতে পারব। অনেক কঠিন পরিস্থিতি আসবে, এসব পার করতে হবে। সবাই যে যার জায়গায় পারফর্ম করার চেষ্টা করলে সহজ হয়ে যাবে। ক্রিকেট ব্যক্তিগত খেলা না, দলগতভাবে ভালো খেললে সহজ হয়ে যাবে। দল ভালো শেইপে আছে এবং বন্ডিং খুব ভালো। গত দুই সিরিজ এর উদাহরণ। ব্যাটাররা রান করছিল না এটি নিয়ে চিন্তিত ছিলাম। এখন সবাই ভালো শেইপে আছে এবং রান করছে।

সভাপতি পরিবর্তনে প্রভাব পড়েনি

বোর্ডের পরিবর্তন আর ক্রিকেট অঙ্গনের অস্থিরতা ক্রিকেটারদের ওপর প্রভাব ফেলছে কি না জানতে চাইলে অধিনায়কের উত্তর, আমরা তো প্র্যাকটিস করেছি। বাইরে কী হয়, পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে তা আমাদের ওপর প্রভাব ফেলে না। আমাদের কাজ পারফর্ম করা। বাইরে কী হয়েছে কখনই চিন্তা করিনি।

সতীর্থ বোর্ডপ্রধান হওয়া ইতিবাচক

২০২৩ সালেও তামিম জাতীয় দলের অধিনায়ক ছিলেন। এখানেই বাড়তি একটা ভরসা পাচ্ছেন ওয়ানডে অধিনায়ক মিরাজ। ‘যেহেতু আমরা একসাথে ক্রিকেট খেলেছি, তিনি আমাদের সম্পর্কে বেশি ভালো জানবেন। উনি যেহেতু সাম্প্রতিক সময়ে খেলা ছেড়েছেন, আমাদের কী চাহিদা আছে, আমরা কী পছন্দ করি (তা জানেন)। এটি খেলোয়াড়দের জন্য একটা ইতিবাচক দিক।’

ব্যাটিং বোলিং পরিকল্পনা ও একাদশ

ওপেনিংয়ে সাইফ হাসানকে নিয়েই নামছেন তানজিদ হাসান তামিম। সৌম্য সরকার এবারো থাকবেন বেঞ্চে। তৌহিদ হৃদয় ও নাজমুল হোসেন শান্তর সাথে অভিজ্ঞতা বিচারে লিটন দাস হয়ে উঠতে পারেন ব্যাটিং ইউনিটের তুরুপের তাস। আফিফ হোসেন ধ্রুব সুযোগ পেতে পারেন আরো একবার। মেহেদী হাসান মিরাজ ও রিশাদ হোসেন দৃঢ়তা বাড়াবেন ব্যাটিং-বোলিং দুই দিকেই।