শিক্ষামন্ত্রীর সাথে জার্মান রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

Printed Edition
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের সাথে জার্মানির রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লোৎজ সাক্ষাৎকরেন। এ সময় প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ উপস্থিত ছিলেন : পিআইডি
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের সাথে জার্মানির রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লোৎজ সাক্ষাৎকরেন। এ সময় প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ উপস্থিত ছিলেন : পিআইডি

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের সাথে বাংলাদেশে নিযুক্ত জার্মানির রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লোৎজ গতকাল সচিবালয়ে তার অফিসকক্ষে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।

বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে শিক্ষা, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ এবং উচ্চশিক্ষা খাতে চলমান সহযোগিতা আরো জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা হয়। এ সময় প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ ও মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী বাংলাদেশের জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন নীতিমালা এবং ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড কাজে লাগাতে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরেন এবং জার্মানির ডুয়াল এডুকেশন সিস্টেমের আদলে বাংলাদেশে ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া লিংকেজ শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লোৎজ বলেন, জার্মানি বাংলাদেশের অন্যতম উন্নয়ন অংশীদার। বাংলাদেশের তরুণ জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করতে কারিগরি শিক্ষা, শিক্ষক প্রশিক্ষণ এবং যৌথ গবেষণা প্রকল্পে জার্মানির সহায়তা অব্যাহত থাকবে। তিনি বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের জন্য জার্মানিতে উচ্চশিক্ষা ও স্কলারশিপের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়েও আশ্বাস দেন।

বৈঠকে উভয়পক্ষ বাংলাদেশ-জার্মানি যৌথ কমিশনের আওতায় শিক্ষা খাতে নতুন প্রকল্প গ্রহণ, জার্মান ভাষা শিক্ষার প্রসার এবং গ্রিন স্কিল ও চতুর্থ শিল্পবিপ্লব উপযোগী কারিকুলাম প্রণয়নে কারিগরি সহায়তার বিষয়ে একমত হন।

উল্লেখ্য, জার্মানি দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা খাতে জিআইজেডের মাধ্যমে সহযোগিতা দিয়ে আসছে।

সংসদে শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর লক্ষ্য হলো দেশের সব উপজেলায় একটি করে কারিগরি স্কুল প্রতিষ্ঠা করা। গতকাল জাতীয় সংসদে কারিগরি শিক্ষার সম্প্রসারণে সরকারের অগ্রাধিকার তুলে ধরে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী জানান, অতীতে খালেদা জিয়া ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে দায়িত্ব পালনকালে দেশের ৬৪ জেলায় টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, যা বর্তমানে কার্যকর রয়েছে। একই সময়ে এসএসসি পর্যায়ে ভোকেশনাল শিক্ষাও চালু করা হয়েছিল।

কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি আনন্দিত প্রধানমন্ত্রী এই খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন। জুলাই চব্বিশের বিপ্লবের পর কারিগরি শিক্ষা নিয়ে সবার মধ্যে নতুন করে উপলব্ধি তৈরি হয়েছে, যা অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে কারিগরি শিক্ষার বিকল্প নেই এবং এ খাতের উন্নয়নে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

কারিগরি প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা ইস্যুতে বরিশাল-৩ আসনের এমপি জয়নুল আবেদীনের নোটিশের বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে এসব কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী। পরে সংসদে বরিশাল জেলার মুলাদী উপজেলায় একটি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার বিষয়ে সংসদে বিল পাস হয়।