অনলাইনে শিশুদের নিরাপত্তা জোরদারে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানিগুলোর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাথে বৃহস্পতিবার বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার।
যুক্তরাজ্যে ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার দাবি জোরালো হওয়ার প্রেক্ষাপটে এই বৈঠক হতে যাচ্ছে। মেটা, টিকটক, এক্সসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধিরা বৈঠকে অংশ নেয়ার কথা রয়েছে।
বৈঠকের আগে স্টারমার বলেন, ‘বৈঠকের বিষয় হলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানিগুলো যেন এ বিষয়ে এগিয়ে আসে এবং দায়িত্ব নেয়।’
তিনি বলেন, ‘কোনো পদক্ষেপ না নেয়ার পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে। শিশুদের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেয়ার জন্য আমরা অভিভাবক ও আগামী প্রজন্মের কাছে দায়বদ্ধ। কারণ আমরা যদি তা না করি, তারা আমাদের ক্ষমা করবে না।’
ব্রিটিশ সরকার জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাপগুলোর ওপর নতুন বিধিনিষেধ আরোপের বিষয়টি বিবেচনা করছে। অস্ট্রেলিয়ার মতো নিষেধাজ্ঞা জারির ক্ষেত্রে কিছু মহলের চাপ রয়েছে।
গত ডিসেম্বরে অস্ট্রেলিয়া প্রথম দেশ হিসেবে ১৬ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। স্টারমার এখনো এমন নিষেধাজ্ঞা জারি করেননি। তবে ২৬ মে শেষ হতে যাওয়া জনপরামর্শ প্রক্রিয়ার ফলাফলের অপেক্ষায় আছেন।
গত মাসে স্টারমার বলেন, আসক্তিমূলক ফিচারগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে তিনি অত্যন্ত আগ্রহী।
স্টারমারের কার্যালয় জানায়, ‘অভিভাবকদের জন্য বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিশুরা নিরাপদ ও সহায়ক পরিবেশে বড় হবে, নাকি দায়িত্বহীন ক্ষতির মুখে পড়বে, সেটিই মূল প্রশ্ন।’
এদিকে, বিষয়টি নিয়ে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের দুই কক্ষের মধ্যে মতবিরোধ তৈরি হয়েছে। উচ্চকক্ষ হাউস অব লর্ডস গত মাসে দ্বিতীয়বারের মতো ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধের পক্ষে ভোট দিয়েছে। এতে সরকারের ওপর চাপ বেড়েছে।
তবে স্টারমারের লেবার পার্টির বড় সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকা নিম্নকক্ষ হাউস অব কমন্সে প্রস্তাবটি দুইবার প্রত্যাখ্যাত হয়েছে।
সূত্র : এএফপি/বাসস



