যুদ্ধবিরতির আড়ালে ইসরাইল আসলে লেবাননের অংশ দখলের নীলনকশা চূড়ান্ত করছে কি না, তা নিয়ে এখন আলোচনা শুরু হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক আবেদ আবু শাহাদেহ আল জাজিরাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ইসরাইল বর্তমানে দুটি ভিন্ন কৌশলে এগোচ্ছে। একদিকে তাদের সেনাবাহিনী বলছে যে, দক্ষিণ লেবাননে লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে এবং এখন লেবানন সরকারের সাথে আলোচনায় বসা প্রয়োজন। অন্যদিকে কট্টরপন্থী বসতি স্থাপনকারীরা লিটানি নদীর দক্ষিণ তীর পর্যন্ত এলাকা দখল করে সেখানে বসতি গড়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করছে।
মূলত এই যুদ্ধবিরতির সুযোগ নিয়ে ইসরাইল লেবাননের একটি অংশ স্থায়ীভাবে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়ার বৈধতা খুঁজছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এই সংকটের গভীরতা আরো স্পষ্ট হয়েছে ইসরাইলি সেনাবাহিনীর প্রকাশিত একটি মানচিত্রের মাধ্যমে। সেই মানচিত্রে লেবাননের পানিসীমাকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা দুই দেশের মধ্যকার ২০২২ সালের গ্যাস চুক্তিকে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে ফেলে দিতে পারে। বিশেষ করে সমুদ্রসীমা নিয়ে এই নতুন দাবি আলোচনার টেবিলে উত্তাপ বাড়াবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সেনাবাহিনী যখন আলোচনার কথা বলছে, তখন বসতি স্থাপনকারীরা কোনো ধরনের কূটনীতির ধার ধারছে না। তারা চায় সরাসরি ভূখণ্ড দখল।
প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু বর্তমানে একটি দোদুল্যমান অবস্থায় রয়েছেন। তিনি ভালো করেই জানেন যে ইসরাইলের জনমতের একটি বড় অংশ দক্ষিণ লেবানন দখলের পক্ষে। তবে চূড়ান্ত কোনো পদক্ষেপ নেয়ার আগে তিনি ইরান ও আমেরিকার মধ্যকার সম্পর্কের সমীকরণটি দেখে নিতে চাইছেন। যুদ্ধবিরতির এই সময়টাকে তিনি মূলত শক্তি সঞ্চয় এবং আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করছেন। শেষ পর্যন্ত কূটনৈতিক আলোচনা নাকি স্থায়ী দখলদারিত্বের পথে ইসরাইল হাঁটবে, তা অনেকটা নির্ভর করছে ওয়াশিংটন ও তেহরানের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর।
সূত্র: আল জাজিরা



