মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রকৃত ধর্ম খ্রিস্টধর্ম নয়, বরং তার আসল বিশ্বাস হলো ‘ইসরাইলবাদ’ বা ইসরাইল-ভক্তি। এমনই বিস্ফোরক দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক জনপ্রিয় ফক্স নিউজ সঞ্চালক এবং বর্তমান সময়ের প্রভাবশালী রক্ষণশীল রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও পডকাস্টার তাক্কার কার্লসন।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আরটির এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, কার্লসন মনে করেন ট্রাম্পের সমস্ত মধ্যপ্রাচ্য নীতি এবং রাজনৈতিক অবস্থান আসলে যিশুর বাণীর পরিবর্তে ইসরাইলকে রক্ষা করার এক অন্ধ ‘নাগরিক অন্ধ ধর্ম বিশ্বাসে’ রূপ নিয়েছে। তিনি সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে ইরানের বিরুদ্ধে যে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি করেছে বা যুদ্ধের উসকানি দিচ্ছে, তা মূলত ইসরাইলের হয়ে এবং ইসরাইলের সরাসরি প্ররোচনাতেই করা হচ্ছে।
কার্লসনের এই কঠোর সমালোচনার পেছনে রয়েছে গত সপ্তাহে পোপ লিও চতুর্দশের সঙ্গে ট্রাম্পের নজিরবিহীন বিবাদ। ইরানের সভ্যতা ধ্বংস করার বিষয়ে ট্রাম্পের হুমকির কড়া নিন্দা জানিয়ে পোপ বলেছিলেন যে, যারা যুদ্ধ উসকে দেয় ঈশ্বর তাদের প্রার্থনা শোনেন না বরং প্রত্যাখ্যান করেন। এর প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প পোপকে ‘দুর্বল’ এবং ‘পররাষ্ট্রনীতির জন্য ভয়াবহ’ বলে অভিহিত করেন। কার্লসন তার অনুষ্ঠানে এই ঘটনার উদাহরণ টেনে বলেন, ট্রাম্পের কর্মকাণ্ডে কোনো সুসংগত ধর্মতত্ত্ব নেই; তিনি আসলে ইসরাইলের স্বার্থ রক্ষা করাকেই নিজের জীবনের প্রধানতম বিশ্বাস বা ধর্মে পরিণত করেছেন। মার্কিন সরকারে এখন ইসরাইলপন্থী অবস্থান এতটাই প্রবল যে এটি একটি বাধ্যতামূলক রাজনৈতিক আচার-আচরণে পরিণত হয়েছে।
বিতর্কের আগুনে ঘি ঢেলেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্পের শেয়ার করা একটি বিতর্কিত ছবি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি সেই ছবিতে ট্রাম্পকে অনেকটা যিশুর মতো এক অলৌকিক অবয়বে উপস্থাপন করা হয়, যেখানে তিনি একজন মুমূর্ষু রোগীকে সুস্থ করছেন এবং তার পেছনে মার্কিন যুদ্ধবিমান, ঈগল ও সেনাদের মহড়া চলছে। ব্যাপক জনরোষ ও সমালোচনার মুখে ট্রাম্প পরে সেই পোস্টটি ডিলিট করে দেন এবং দাবি করেন যে মূলধারার ‘ভুয়া সংবাদমাধ্যম’ তার ছবিটিকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করেছে। তবে তাক্কার কার্লসন এই ঘটনাকে স্রষ্টার প্রতি চরম উপহাস এবং ‘ধর্মদ্রোহিতা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।
তিনি সাবেক মার্কিন কংগ্রেসওম্যান মার্জরি টেইলর গ্রিনের বক্তব্যের প্রশংসা করেন, যিনি ট্রাম্পের এই আচরণকে ‘অ্যান্টিক্রাইস্ট’ বা যিশু-বিরোধী মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ বলে উল্লেখ করেছিলেন।
পুরো পরিস্থিতি নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের অন্দরেও শুরু হয়েছে তীব্র মেরুকরণ। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ট্রাম্পের পক্ষে সাফাই গেয়ে বলেছেন যে, পোপের উচিত ধর্মতাত্ত্বিক বিষয়ে কথা বলার সময় আরো সতর্ক হওয়া। একই সাথে প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ ইরানের বিরুদ্ধে এই সংঘাতকে প্রায় ‘ধর্মযুদ্ধে’র রূপ দেয়ার চেষ্টা করছেন। তিনি মার্কিন নাগরিকদের ‘যিশু খ্রিস্টের নামে’ এই যুদ্ধে জয়ের জন্য প্রার্থনা করার আহ্বান জানিয়েছেন।
কার্লসন মনে করেন, ট্রাম্প প্রশাসন যেভাবে ধর্মীয় প্রতীক ব্যবহার করে ইসরাইলের স্বার্থে যুদ্ধকে বৈধতা দিচ্ছে, তা মূলত খ্রিস্টধর্মের মূল চেতনার পরিপন্থী। তার এই বক্তব্যের পর আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি কি আদৌ কোনো বাস্তব কৌশলের ওপর দাঁড়িয়ে আছে, নাকি এটি নিছকই কোনো আদর্শগত অন্ধ বিশ্বাসের দিকে ধাবিত হচ্ছে।



