মার্কিন রণতরী আইজেনহাওয়ারে রহস্যময় আগুন: নিছক দুর্ঘটনা নাকি অন্য কিছু?

ইরানের প্রভাবশালী সংবাদ মাধ্যম তাসনিম নিউজ অ্যাজেন্সির বরাতে জানা গেছে, ভার্জিনিয়ার পোর্টসমাউথে অবস্থিত নরফোক নেভাল শিপইয়ার্ডে মেরামত কাজ চলার সময় এই সপ্তাহের শুরুর দিকে রণতরীটিতে একটি ‘রহস্যময়’ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
বিমানবাহী মার্কিন রণতরী ইউএসএস ডোয়াইট ডি. আইজেনহাওয়ার
বিমানবাহী মার্কিন রণতরী ইউএসএস ডোয়াইট ডি. আইজেনহাওয়ার |সংগৃহীত

মার্কিন নৌবাহিনীর অন্যতম শক্তিশালী যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস আইজেনহাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা বিশ্বজুড়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ইরানের প্রভাবশালী সংবাদ মাধ্যম তাসনিম নিউজ অ্যাজেন্সির বরাতে জানা গেছে, ভার্জিনিয়ার পোর্টসমাউথে অবস্থিত নরফোক নেভাল শিপইয়ার্ডে মেরামত কাজ চলার সময় এই সপ্তাহের শুরুর দিকে রণতরীটিতে একটি ‘রহস্যময়’ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

মার্কিন নৌবাহিনীর একজন মুখপাত্র গত মঙ্গলবার এই আগুনের খবর নিশ্চিত করেছেন। জাহাজটির নাবিক এবং নরফোক বন্দর কর্তৃপক্ষের কর্মীদের দ্রুত পদক্ষেপে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হলেও এই ঘটনা নিয়ে বেশ কানাঘুষা চলছে। অগ্নিকাণ্ডের ফলে অন্তত তিনজন নাবিক আহত হয়েছেন, যাদের জাহাজের মেডিকেল টিম তাৎক্ষণিকভাবে চিকিৎসা সেবা দিয়েছে।

মার্কিন সামরিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, ২০২৩-২৪ সালে মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সাথে গুরুত্বপূর্ণ মিশন শেষ করে গত বছরের ৮ জানুয়ারি থেকে আইজেনহাওয়ার এই শিপইয়ার্ডে ১৬ মাসের দীর্ঘমেয়াদী মেরামতের অধীনে রয়েছে।

এদিকে, লোহিত সাগর এবং বাব আল-মানদাব প্রণালীতে ইয়েমেনের হুজি বিদ্রোহীদের ক্রমবর্ধমান ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে মার্কিন রণতরীগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

তাসনিম নিউজ অ্যাজেন্সির দাবি অনুযায়ী, আইজেনহাওয়ারের এই আগুন নিছক কারিগরি ত্রুটি নাকি কোনো নাশকতা, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে কারণ মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার সময়ে মার্কিন নৌসম্পদগুলো বারবার হুমকির মুখে পড়ছে। মার্কিন নৌবাহিনী আইজেনহাওয়ারের এই অগ্নিকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে বলে আশ্বস্ত করলেও, পরিস্থিতির সংবেদনশীলতার কারণে ঘটনাটি আন্তর্জাতিক মহলে বেশ গুরুত্ব পাচ্ছে।

উল্লেখ্য যে, একই অঞ্চলে উত্তেজনার কারণে মার্কিন রণতরী 'বুশ' সম্প্রতি লোহিত সাগর ও বাব আল-মানদাব প্রণালী এড়িয়ে নিরাপদ পথ বেছে নিয়েছে। আইজেনহাওয়ারের মতো দানবীয় রণতরীর সুরক্ষায় সামান্যতম ফাটলও ওয়াশিংটনের জন্য সামরিক এবং কৌশলগতভাবে বড় চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।