গুমের শিকার নেতাকর্মীদের সন্ধান এবং এ বিষয়ে শক্তিশালী আইন প্রণয়নের দাবি জানিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
তিনি বলেন, ‘আমাদের নিত্যদিনের সহকর্মী, নেতা, সাবেক সংসদ সদস্য ও সংগঠকরা আজও নিখোঁজ। ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল রাতে ইলিয়াস আলীকে তুলে নেয়ার পর থেকে আজও তার কোনো খোঁজ মেলেনি—এই বেদনা এখনো আমাদের তাড়া করে।’
সোমবার (২০ এপ্রিল) সকালে নয়াপল্টনে বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচ তলায় বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াস আলীর সন্ধানের দাবিতে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে তিনি একথা বলেন। এতে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু।
রিজভী বলেন, ‘আমরা আল্লাহর কাছে দোয়া করি, ইলিয়াস আলীসহ সকল গুম হওয়া নেতাকর্মী যেন আমাদের মাঝে ফিরে আসেন। আমরা যে দুঃসময় পার করেছি, তা পেরিয়ে এখন একটি সুসময়ের দিকে এগোচ্ছি। তবে সেই সুসময় নিশ্চিত করতে হবে পুরো জাতির জন্য—আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে।’
তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার গুম সংক্রান্ত অধ্যাদেশ বাতিল করেছে, যা জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন।’
তবে এই অধ্যাদেশে ঘাটতি রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এখন প্রয়োজন একটি শক্তিশালী পার্লামেন্ট অ্যাক্ট, যাতে ভবিষ্যতে কোনো সরকার এই অমানবিক পন্থা ব্যবহার করতে না পারে।’
তিনি সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরেন। বলেন, নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড বিতরণ, খাল খনন কার্যক্রম এবং কৃষিঋণের সুদ মওকুফের মতো উদ্যোগ বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে।
এসব পদক্ষেপকে ইতিবাচক উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে দেরি হয়নি—এটি জনগণের জন্য আশাব্যঞ্জক।’
বাজার ব্যবস্থাপনা নিয়েও সতর্কবার্তা দেন রিজভী। তিনি বলেন, ‘এলপিজি, জ্বালানি তেল, চাল, সবজি—কোনো খাতে যেন সিন্ডিকেট তৈরি না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। শুধু কথায় নয়, বাস্তব পদক্ষেপের মাধ্যমে জনগণকে আস্থা দিতে হবে।’
তিনি অভিযোগ করেন, ‘অতীতে সিন্ডিকেট ও দুর্নীতির কারণে জনগণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’
বর্তমান সরকারকে সে পথ পরিহার করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সক্রিয়ভাবে বাজারে হস্তক্ষেপ করে অনিয়মকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।’
গুমের ঘটনায় জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার দাবিও জানান বিএনপির এই নেতা। তিনি বলেন, ‘যারা গুমের সাথে জড়িত, তাদের অনেকেই এখনো সমাজে রয়েছে। তাদের আইনের আওতায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে। জনগণ জানতে চায়—কিভাবে, কোথায় এসব গুম হয়েছে।’
সবশেষে তিনি সরকারের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘অত্যন্ত দ্রুততার সাথে ব্যবস্থা নিয়ে ইলিয়াস আলী, সাইফুল ইসলাম হিরু, সুমন পারভেজসহ সকল গুম হওয়া নেতাকর্মীর সন্ধান বের করতে হবে। এটাই এখন জাতির প্রত্যাশা।’



