একই পরিবারের বাবা, তিন মেয়ে, দুই জামাই ও এক পুত্রবধূসহ মোট সাতজনের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা দায়ের করেছে সিআইডি। পারিবারিক এ চক্রটি অবৈধ মাদক কারবারির সিন্ডিকেট গড়ে তুলে মাদক কারবারের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ ব্যাংকিং চ্যানেলে লেনদেন করতো বলে সিআইডির অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।
সোমবার (২০ এপ্রিল) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খানের স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০০৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময়ে তারা মোট পাঁচ কোটি ১৭ লাখ ২৭ হাজার ৩৭৭ টাকা নিজেদের ব্যাংক হিসাবে লেনদেন করেছে। এছাড়া অভিযুক্তদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় এক বা একাধিক মামলা রয়েছে।
সিআইডি গাজীপুরের টঙ্গী পূর্ব থানায় মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ (সংশোধনী ২০১৫) এর ৪(২) ধারায় মামলাটি দায়ের করে। মামলায় অভিযুক্তরা হলেন মো: কামাল উদ্দিন (৩৩), জাহানারা বেগম (৩৩), মো: মানিক মিয়া (৩৬), মো: আ: আওয়াল (৬৫), মোসা: আসমা (৪৩), রেশমা খাতুন (৩৯) ও লিজা বেগম ওরফে লিপি আক্তার (৩১)।
মামলার তথ্যে উল্লেখ করা হয়, ৫, ৬ ও ৭ নম্বর অভিযুক্ত তিন বোন—আসমা, রেশমা ও লিজা—গাজীপুরের টঙ্গী পূর্ব থানাধীন দত্তপাড়া এলাকায় মাদক কারবারির একটি সিন্ডিকেটের মূলহোতা হিসেবে পরিচিত। তাদের সাথে বাবা মো: আব্দুল আওয়াল, আসমার স্বামী মানিক মিয়া, লিজার স্বামী কামাল উদ্দিন এবং ভাবি জাহানারা বেগম মিলে একটি সঙ্ঘবদ্ধ চক্র গড়ে তোলে।
পারিবারিকভাবে চাঁদপুর জেলার বাসিন্দা হলেও তারা বর্তমানে গাজীপুরের টঙ্গী এলাকায় বসবাস করে। চক্রটি দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে অবৈধ মাদক সংগ্রহ করে গাজীপুরসহ ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ ও বিক্রি করতো। স্থানীয় সহযোগীদের মাধ্যমে তারা এ কার্যক্রম পরিচালনা করতো।
সিআইডির অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, অভিযুক্তদের কোনো বৈধ আয়ের উৎস না থাকলেও তাদের ব্যাংক হিসাবে বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেন হয়েছে। মাদক কারবারি থেকে অর্জিত অর্থ স্থানান্তর, হস্তান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে তারা মানিলন্ডারিং করেছে। এদের মাধ্যমে অন্তত ৭৯ লাখ ৭৩ হাজার টাকার জমি ক্রয়ের তথ্য পাওয়া গেছে। অবশিষ্ট অর্থের একটি অংশ মাদক ক্রয় ও ভোগ-বিলাসে ব্যয় করা হয়েছে বলেও জানা যায়।
অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। এর মধ্যে রেশমা খাতুনের বিরুদ্ধে ১০টি, লিজা বেগম ওরফে লিপি আক্তারের বিরুদ্ধে সাতটি, মো: মানিক মিয়ার বিরুদ্ধে পাঁচটি এবং মোসা: আসমার বিরুদ্ধে তিনটি মামলা রয়েছে। এছাড়া মো: আব্দুল আওয়ালের বিরুদ্ধে একটি অস্ত্র মামলা এবং মো: কামাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে একটি মাদক মামলা রয়েছে।
মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২ (সংশোধনী ২০১৫) অনুযায়ী, অবৈধ মাদক ও নেশাজাতীয় দ্রব্যের কারবারি মানিলন্ডারিং অপরাধের একটি সম্পৃক্ত অপরাধ। বর্তমানে সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট মামলার তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
সিআইডি জানিয়েছে, অপরাধের পূর্ণাঙ্গ তথ্য উদ্ঘাটন, অজ্ঞাত পরিচয় সদস্যদের শনাক্তকরণ এবং প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে তদন্ত ও অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে।



