হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নবনির্মিত এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সেন্টারের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম।
সোমবার সকালে এর উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদ্জ্জুমান মিল্লাত।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) মুহাম্মদ কাউছার মাহমুদের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বলা হয়, এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সেন্টার চালু হওয়ার ফলে দেশের আকাশপথ ব্যবস্থাপনায় ব্যাপক ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। এর মাধ্যমে ফ্লাইট পরিচালনায় নির্ভুলতা ও সময়ানুবর্তিতা বৃদ্ধি পাবে, আকাশসীমার ধারণক্ষমতা বাড়বে এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে। উন্নত প্রযুক্তির সহায়তায় ট্রাফিক মনিটরিং ও কন্ট্রোল আরো কার্যকর হবে, যা আন্তর্জাতিক মানদণ্ড পূরণে সহায়ক হবে। পাশাপাশি এটি বৈদেশিক মুদ্রা আয় বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বেবিচকের সদস্য (এটিএম) এয়ার কমডোর মো: নূর-ই-আলম।
বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম তার বক্তব্যে বলেন, দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল খাতে আজ একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক অর্জিত হয়েছে। আধুনিক ও স্বয়ংক্রিয় এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম চালুর মাধ্যমে বাংলাদেশের আকাশসীমা আরো নিরাপদ, দক্ষ ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন হবে।
তিনি প্রকল্প বাস্তবায়নে ফ্রান্স সরকার ও সংশ্লিষ্ট সকলের অবদানের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং বলেন, থ্যালেসের সরবরাহ করা প্রযুক্তি আকাশসীমা ব্যবস্থাপনায় সক্ষমতা বহুগুণে বৃদ্ধি করবে। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ বিমান চলাচল খাতে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি অর্জন করবে।
প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, দেশের আকাশসীমা ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তিনির্ভর নতুন যুগের সূচনা হয়েছে। এই আধুনিক এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট ব্যবস্থা বিমান চলাচলকে আরো নিরাপদ, দক্ষ ও আন্তজার্তিক মানসম্পন্ন করে তুলবে।
অনুষ্ঠানে বিমান ও পর্যটন সচিব ফাহমিদা আখতার তার বক্তব্যে বলেন, আধুনিক ও স্বয়ংক্রিয় এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম চালুর মাধ্যমে দেশের আকাশসীমা ব্যবস্থাপনায় গুণগত পরিবর্তন সূচিত হয়েছে।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান তার বক্তব্যে বলেন, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রতিষ্ঠিত এই আধুনিক এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সেন্টার দেশের আকাশপথ ব্যবস্থাপনায় এক নতুন যুগের সূচনা করেছে। দীর্ঘদিনের সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর এটিএম-সিএনএস সিস্টেম চালুর মাধ্যমে নিরাপত্তা, দক্ষতা ও আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
বাংলাদেশে নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জিন-মার্ক সেরে-শার্লে তার বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের মধ্যে এই সহযোগিতা দুই দেশের পারস্পরিক আস্থা ও বন্ধুত্বের একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। ভবিষ্যতেও বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতের উন্নয়নে ফ্রান্স সরকারের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।



