রাজধানীর সাভারের আমিনবাজারে তিতাস গ্যাস চালুর দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করেছেন আমিনবাজার ইউনিয়নের ২২টি গ্রামের তিতাস গ্যাস গ্রাহকরা।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বাদ জুমা আমিনবাজার এলাকার আর অ্যান্ড আর এন্টারপ্রাইজ (সিএনজি) পাম্পের সামনে ব্যস্ততম মহাসড়কের সবগুলো লেন বন্ধ করে ২টা থেকে পৌনে ৩টা পর্যন্ত পৌনে এক ঘণ্টা অবরোধ করেন তারা। এতে ব্যস্ততম মহাসড়কটিতে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
পরে খবর পেয়ে যৌথবাহিনী ঘটনাস্থলে এলে তাদের অনুরোধে বিক্ষুদ্ধ তিতাস গ্যাস গ্রাহকরা চলে যান এবং পৌনে ৩টার পর থেকে যানচলাচল স্বাভাবিক হয়।
গ্রাহক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘ প্রায় ১০ মাস আগে সাভারের আমিনবাজারে মহাসড়কে কাজ করার সময় তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিসন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশনের পাইপ লিকেজ হয়। অদ্যবধি সেই লিকেজ মেরামত না করায় আমিনবাজার ইউনিয়নের ২২টি গ্রামের গ্রাহকদের গ্যাস সাপ্লাই বন্ধ হয়ে যায়।
বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে দাবি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের কাছে গেলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। তাই ইউনিয়নের বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিত ও সব শ্রেণি-পেশার মানুষ বাদ জুমা আমিনবাজার মসজিদ মার্কেটের সামনে মানববন্ধন করার পরিকল্পনা করেন। নামাজ শেষে ভুক্তভোগীরা প্রথমে মানববন্ধন পরে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে মহাসড়কের আমিনবাজার এলাকার আর অ্যান্ড আর এন্টারপ্রাইজ (সিএনজি) পাম্পের সামনে ব্যস্ততম মহাসড়ক অবরোধ করলে সবগুলো লেন বন্ধ হয়ে যায়।
এতে দূরপাল্লার ও স্থানীয় সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ হলে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে যৌথবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভুক্তভোগী বিক্ষুদ্ধ জনতার সাথে কথা বলে। পরে সমস্যা সমাধানে আশ্বাস দেয়া হলে বিক্ষুব্ধ জনতা সড়ক থেকে চলে যায় এবং যানচলাচল শুরু হয়।
ভুক্তভোগী গ্রাহক সৌদি প্রবাসী মোস্তাকিম হোসেন শাহরিয়ার জানান, আমরা প্রায় ১০ মাস ধরে মানবেতর জীবনযাপন করছি। আমিনবাজার ইউনিয়নের ২২টি গ্রামের মধ্যে একমাত্র সালেহপুর গ্রামে গ্যাস রয়েছে। হাইওয়ের কাজ করার সময় গ্যাস পাইপ লিকেজ হলে অদ্যবধি তা মেরামত করছে না সংশ্লিষ্টরা।
সাভার থানার বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির মো: আব্দুল কাদের বলেন, ‘আমিনবাজার এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কৃত্রিমভাবে তৈরি করা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ এক মাসের মধ্যে গ্যাস সঙ্কট সমাধানের কথা বললেও অদ্যবধি তারা কোনো সমাধান করছে না। আমি আগামী ৭ দিনের মধ্যে গ্যাস সঙ্কট সমাধান করে তা সরবরাহ করার জোর দাবি জানাচ্ছি।’



