শাহরাস্তি (চাঁদপুর) সংবাদদাতা
চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার রায়শ্রী দক্ষিণ ইউনিয়নের বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুস সত্তারের বিরুদ্ধে প্রতারণা, অর্থ আত্মসাৎ ও সন্ত্রাসী হামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন একাধিক ভুক্তভোগী।
শুক্রবার (৭ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে শাহরাস্তি প্রেসক্লাবের সম্মেলন কক্ষে ভুক্তভোগীরা ওই সংবাদ সম্মেলন করেন।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী নাহারা গ্রামের মোশাররফ হোসেন বলেন, আমার বোনের কাছ থেকে ০.৬ শতাংশ জমি ক্রয়ের জন্যে ২ লাখ ৯০ হাজার টাকা প্রদানের মাধ্যমে ক্রয় করি। জমি ক্রয়ের পর তা বুঝিয়ে না দিয়ে টালবাহানা শুরু করে। বিষয়টি সমাধানের জন্য বিএনপির সেক্রেটারি ও সাবেক ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আব্দুস সত্তার ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা শাহজাহানের দ্বারস্থ হলে তারা বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দিয়ে আমার কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা নেন। তা সমাধান না করে তারাও টালবাহানা শুরু করে। এবং পাল্টা আমার ওপর হামলা চালায়। এরপর থেকে আমি আমার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।
আরেক ভুক্তভোগী বিজয়পুর গ্রামের মো: আব্দুল মালেক বলেন, ২০১১ সালে আব্দুস সত্তার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য তার কাছ থেকে ২ লাখ টাকা ধার নেন। নির্বাচনের পর তিন মাসের মধ্যে টাকা ফেরত দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তিনি টাকা ফেরত দেননি। বরং বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করে বর্তমানে আত্মগোপনে রয়েছেন।
আরেক ভুক্তভোগী নাহারা গ্রামের বিধবা শাহিন বেগম বলেন, আমার স্বামীর মৃত্যুর পর তার ওয়ারিশসূত্রে প্রাপ্ত সম্পত্তি আত্মীয়রা জবর দখল করে। এই সমস্যা সমাধানের জন্য ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুস সাত্তারের দ্বারস্থ হই। তা নিষ্পত্তির আশ্বাস দিয়ে আব্দুস সাত্তার আমার কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা নেন। আজ পর্যন্ত সমাধান না করে টাকা ফেরৎ না দিয়ে পাল্টা আমাকে হুমকি দিচ্ছে।
ভুক্তভোগীরা আরো বলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য ও শাহরাস্তি উপজেলা বিএনপি ও শাহরাস্তি মডেল থানা অফিসার ইনচার্জ বরাবর লিখিত অভিযোগ করেও দৃশ্যমান কোনো প্রতিকার পায়নি।
সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে শালিসের নামে অর্থ হাতিয়ে নেয়া প্রতারক আব্দুস সাত্তারের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দাবি জানান।
উল্লেখ্য, অভিযুক্ত বিএনপির নেতা আব্দুস সত্তার রায়শ্রী দক্ষিণ ইউপি চেয়ারম্যান থাকাকালীন তাহার বিরুদ্ধে (১৩ এপ্রিল, ২০১৬ খ্রিঃ) দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯ এর ধারা ৩৪(১) মোতাবেক বরখাস্ত করা হয়েছিলো।



