মিরসরাইয়ে সালিশি বৈঠকে প্রতিপক্ষের হামলায় বৃদ্ধ নিহত, আহত ৪

‘এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব সৃষ্টি করছে রিক্কু, রিপন ও রিজভী। প্রতিদিন মাদক সেবন করে এলাকায় নানা অপরাধ করছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে আমার চাচাত ভাই প্রতিবন্ধী ফকির আহমদকে মেরে রক্তাক্ত করেছে তারা।’

এম মাঈন উদ্দিন, মিরসরাই (চট্টগ্রাম)

Location :

Mirsharai
লাশের পাশে স্বজনের আহাজারি
লাশের পাশে স্বজনের আহাজারি |নয়া দিগন্ত

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে সালিশি বৈঠককে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় শফিউল আলম (৬৫) নামে এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গ্রামের সর্দার ও একই পরিবারের আরো তিনজন আহত হয়েছেন।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) দুপুর ২টার দিকে উপজেলার খৈয়াছরা ইউনিয়নের মধ্যম আমবাড়িয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে।

নিহতের স্বজনরা জানান, গতকালকের একটি বিরোধ মীমাংসার জন্য শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে সালিশি বৈঠকের আয়োজন করা হয়। বৈঠক চলাকালে প্রতিপক্ষের রিপন, রিংকুসহ কয়েকজন যুবক হঠাৎ করে শফিউল আলমের পরিবারের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় পরিবারের সদস্যদের রক্ষা করতে গেলে হামলাকারীদের কিল-ঘুষিতে গুরুতর আহত হন বৃদ্ধ শফিউল আলম। পরে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকেলে শফিউল আলমের ভাতিজা প্রতিবন্ধী ফকির আহমদকে মেরে রক্তাক্ত করে একই এলাকার রিক্কু, রিপন ও রিজভী। এ ঘটনার প্রতিবাদে এলাকার লোকজন নিয়ে শুক্রবার সালিশ বৈঠকে বসলে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র দিয়ে নিহত শফিউল আলমের ওপর হামলা করে। পরে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের ছেলে মো: আরাফাত হোসেন বলেন, ‘এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব সৃষ্টি করছে রিক্কু, রিপন ও রিজভী। প্রতিদিন মাদক সেবন করে এলাকায় নানা অপরাধ করছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে আমার চাচাত ভাই প্রতিবন্ধী ফকির আহমদকে মেরে রক্তাক্ত করেছে তারা। আজ শুক্রবার অপরাধীদের বিরুদ্ধে সালিশ বৈঠকের উদ্যোগ নেয়া হয়। সেই বৈঠকে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমার বাবার ওপর অতর্কিত হামলা করে তারা। পরে এলাকার মানুষকে ভয় দেখিয়ে তারা পালিয়ে যায়। আমি বাবার হত্যার বিচার চাই।’

মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মাহমুদা আক্তার জানান, একজন বৃদ্ধকে হাসপাতালে আনা হয়। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়েছে। পুলিশকে খবর দেয়া হয়েছে।

মিরসরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, ঘটনার খবর পাওয়ার সাথে সাথে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।