কালবৈশাখীর ঝড়ে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে রংপুরের গঙ্গাচড়ার নোহালী ইউনিয়নের শতাধিক বাড়িঘর। খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছে পরিবারগুলো। তবে, ইউনিয়ন পরিষদ বা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো তাদের খোঁজ নেয়নি কেউ।
ভুক্তভোগীরা জানান, বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) মধ্যরাতে কালবৈশাখী ঝড় বয়ে যায় ইউনিয়নটির ২, ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের চর নোহালী, চর বাগডহরার নিজ পাড়া, চকিদারপাড়া, মেম্মারপাড়া এলাকা দিয়ে। এতে প্রায় শতাধিক বাড়িঘর কালবৈশাখী ও শিলাবৃষ্টিতে লন্ডভন্ড হয়ে যায়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ওই এলাকার বাক প্রতিবন্ধী মুন মিয়াসহ সুজা মিয়া, রফিকুল, সুমন, জাহানুর, লাভলু , রহেল, আসেদা বেগমসহ অনেকের ঘর লন্ডভন্ড হয়ে গছে। তাদের রান্না করে খাওয়ারও কোনো সুযোগ নেই। দিনের বেলা এ বাড়ি-ও বাড়ি আশ্রয় নিতে পারলেও রাতে ঘুমানোর কোনো জায়গা নেই। বাধ্য হয়ে খোলা আকাশের নিচেই রাত কাটাতে হবে তাদের।
সরেজমিনে আরো দেখা গেছে, ঝড়ে উপরে গেছে আশপাশের বহু গাছ। নষ্ট হয়ে গেছে উঠতি ভুট্টাসহ অনেক জমির ফসল। বাড়িঘর, জমির ফসল নষ্ট হওয়ায় দিশেহারা সেখানকার সাধারণ মানুষ।
ক্ষতিগ্রস্ত রহেল উদ্দিন বলেন, ‘আমি অসুস্থ। তবুও কর্ম করে খাই। রাত ১টার দিকে বাড়িতে এসে খাওয়া-দাওয়া করার পরপরই ঝড়বৃষ্টি শুরু হয়। টিনের চাল যে কোথায় উড়ে গেছে তা বলতে পারব না। অনেক খুঁজেছি কিন্তু পাই নাই। এখন কি করব? কোথায় থাকব? কিছুই বুঝতে পারছি না।’
ক্ষতিগ্রস্ত সুজা মিয়া বলেন, ‘আমার তিনটা ঘড় আছিল। সব বাতাসে উড়ি নিয়ে গেইছে। বউ-বাচ্চা নিয়ে রাতে কোথায় থাকব তার কোনো উপায় নাই। এক দোন (বিঘা) জমিতে ঋণ করে ভুট্টা লাগাইছিলাম, সেটাও শ্যাষ (শেষ)। বাড়িঘর ঠিক করার মতো ক্ষমতাও নাই আমার। মেম্বার, চেয়ারম্যানরা তো আমাদের খোঁজও নিলো না।‘
ক্ষতিগ্রস্ত রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমার থাকার দু’টি ঘর। সব উড়ে গেছে। থাকার কোনো জায়গা নাই। মানুষের বাড়িতে কাজ করে খাই। এখন ঘড় তুলব না পেটের ক্ষুধা মেটাব, কিছুই বুঝতে পারছি না। কেউ একটু সহযোগিতা করবে সেটাও নাই। সরকারও দেখে না। আমি বউ-ছাওয়া (ছেলে-মেয়ে) নিয়া কোথায় যাব। এখন পর্যন্ত মেম্বার, চেয়ারম্যান কেউ দেখার জন্যও এলো না।’
স্থানীয় বাগডহরা সততা কল্যাণ সংস্থার সভাপতি মো: আল-আমিন বলেন, ‘রাত ১টার দিকে ঝড়ে এলাকার অন্তত ১০০ পরিবারের বাড়িঘর লণ্ডভন্ড হয়ে গেছে। অনেকেই আহত হয়েছেন। কিন্ত স্থানীয় মেম্বার বা চেয়ারম্যান বা ইউএনও কেউই খোঁজ খবর নেয়নি, সহযোগিতা করেনি।’
তিনি আরো বলেন, ‘এই এলাকার মানুষ খুবই অসহায়। নদী ভাঙনকবলিত এলাকা এটি। তারা দিন আনে দিন খায়। এখন বাড়িঘর তোলার বন্দোবস্ত না করতে পারায় পরিবার-পরিজন নিয়ে তাদের খোলা আকাশের নিচেই বসবাস করতে হচ্ছে। জরুরি ভিত্তিতে তাদের জন্য টিনের বন্দোবস্ত করা প্রয়োজন।’
এ বিষয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য (মেম্বার) রেজাউল ইসলাম বুলেট ও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আশরাফ আলীর সাথে একাধিকবার মোবাইলফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
একই অবস্থা গঙ্গাচড়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারেরও। তাদের সরাসরি মোবাইলফোন ও ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়েও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।



