ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার পলিয়ানপুর সীমান্তের ইছামতি নদী থেকে চার দিনের ব্যবধানে অজ্ঞাত পরিচয় দুই ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। একটি নদীর কচুরিপানার নিচে পচে ফুলে ওঠার পর ও আরেকটি নদীর পাড়ে পড়ে থাকায় বিষয়টি জানাজানি হয়।
গত সোমবার (১৩ এপ্রিল) ও বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) একই জায়গা থেকে অজ্ঞাত পরিচয় ওই দুই ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
এদিকে চার দিনের ব্যবধানে দু’টি লাশ উদ্ধারের ঘটনায় সীমান্ত এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। অনেকে ধারণা করছেন টার্গেট করে এই দুই ব্যক্তিকে হত্যা করা হতে পারে।
মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে গ্রামবাসী পচা দুর্গন্ধ পেয়ে নদীর পাড়ে ভিড় জমাতে থাকেন। গ্রামবাসী পানিতে নেমে লাশটি দেখতে পায় এবং পুলিশ ও বিজিবিকে জানায়। খবর পেয়ে পুলিশ ও বিজিবি সীমান্তের জিরো লাইন থেকে আনুমানিক ১০ মিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভাসমান অবস্থায় লাশটি উদ্ধার করে।
নিহত যুবকের পরিচয় এখনো শনাক্ত করা যায়নি। তবে তার পকেটে একটি পাসপোর্ট পাওয়া গেছে। সেখানে রাতিকান্ত জয়ধর (৪৬), বাবা: দেবেন্দ্র নাথ জয়ধর, গ্রাম: পোলাটানা, ভাংগারহাট, উপজেলা: কোটালিপাড়া, জেলা: গোপালগঞ্জ ঠিকানা আছে।
ওসি জানান, পাসপোর্টের ব্যক্তিটি উদ্ধারকৃত লাশের পরিচয় কি-না তা পরে জানা যাবে। লাশ উদ্ধারের পরে সুরতহাল প্রতিবেদন সম্পন্ন করার পরে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
মহেশপুর ৫৮ বিজিবি ব্যাটেলিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রফিকুল আলম বলেন, অজ্ঞাত লাশটি বাংলাদেশের ১০ গজ অভ্যন্তরে ইছামতী নদীতে কচুরিপানার নিচে ভাসমান অবস্থায় ছিল। মহেশপুর থানা পুলিশ লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করেছে।
উল্লেখ্য, গত সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে একই জায়গায় ইছামতী নদীর পাড় থেকে অপর এক অজ্ঞাত যুবকের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওইদিন বিজিবির একটি টহল দল সীমান্তে টহলরত অবস্থায় লাশটি পড়ে থাকতে দেখে। সীমান্তের জিরো লাইন থেকে আনুমানিক ৫০ মিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে লাশটি পড়ে ছিল। তবে, উদ্ধারকৃত লাশের পরিচয় এখনো মেলেনি।



