নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলায় নির্মাণাধীন পাওয়ার গ্রিডে চার পাহারাদারকে বেঁধে রেখে প্রায় দুই কোটি টাকার মালামাল লুটের ঘটনায় পুলিশ বিভিন্ন জেলা ও গাজীপুর জেলার শ্রীপুরের গভীর জঙ্গল ও গজারী বনে অভিযান চালিয়ে প্রায় দেড় কোটি টাকার লুণ্ঠিত মালামালসহ ১৩ জন ডাকাতকে গ্রেফতার করেছে।
শুক্রবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে নাটোর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার (এসপি) মুহম্মদ আবদুল ওয়াহাব জানান, ডাকাত সর্দার রুহুল আমিন ও অপর দলের ডাকাত সর্দার সৈকত জেলে থাকা অবস্থায় অরক্ষিত বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়ায় নির্মাণাধীন পাওয়ার গ্রিডে ডাকাতির পরিকল্পনা করে।
তিনি আরো জানান, জেল থেকে ছাড়া পেয়েই গত ২৫ মার্চ গভীর রাতে দু‘টি সঙ্ঘবদ্ধ ডাকাতদল যৌথভাবে নির্মাণাধীন ওই গ্রিডে কর্মরত চারজন অপেশাদার পাহারাদারকে বেঁধে রেখে এক কোটি ৯৩ লাখ টাকার মালামাল ট্রাকে লুট করে নিয়ে চলে যায়। পরদিন প্রতিষ্ঠানটির সহকারী ব্যবস্থাপক অনিক কুমার বিশ্বাস বড়াইগ্রাম থানায় ডাকাতির অভিযোগে অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ও বড়াইগ্রাম থানা পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতায় গত ৪৮ ঘণ্টায় নাটোর, রাজশাহী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ঢাকা ও গাজীপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেফতার করে।
গ্রেফতার আসামিরা হলেন— পাবনার ফরিদপুর নেছারাবাদ শিবপুরের রহমত মোল্লার ছেলে ২০টি মামলার আসামি পা কাটা মো: রোকন মোল্লা (৩১), ১২ মামলার আসামি একই জেলার চাটমোহরের ওয়ারেজ আলীর ছেলে মো: শিহাব উদ্দিন (২৭), ১০ মামলার আসামি সিরাজগঞ্জ জেলার তারাশ উপজেলার বান্নাত আলীর ছেলে মো: রুহুল আমিন (৩৬), বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মরহুম সামাদ আলীর ছেলে মো: আব্দুস সালাম (৩৫), আট মামলার আসামি একই জেলার নন্দীগ্রামের মোজাহার আলীর ছেলে মো: তসলিম প্রামাণিক (৪৯), একাধিক মামলার আসামি পাবনার ফরিদপুর উপজেলার চিথুলিয়ার শাহজাহান মোল্লার ছেলে মো: হযরত আলী ওরফে মন্টু মোল্লা (৪৫), বগুড়ার শিবগঞ্জের মোজাম্মেল হকের ছেলে মো: বাছেদ মন্ডল (৩৬), জামালপুর জেলার ইসলামপুর ডিগ্রির চরের সাহেব আলীর ছেলে মো: সৈকত (২৫), গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার নয়নপুরের দুলাল মোড়লের ছেলে মো: উজ্জ্বল মোড়ল (৫২), একই এলাকার মাওনা উত্তরপাড়ার রুস্তম আলীর ছেলে মো: হারুন অর রশীদ (৪০)।
এর আগে পুলিশ মো: জাহাঙ্গীর আলম (৪০), মো: নায়েব আলী (৪৭) ও মো: সাইফুল ইসলাম (৪৩) নামে আরো তিনজনকে গ্রেফতার করে।
এ সময় তাদের কাছ থেকে ডাকাতি হওয়া পাওয়ার গ্রিডের প্রায় সোয়া কোটি টাকা মূল্যের ৩৫০টি ব্যাটারি সেল, ১০টি মোবাইলফোনসহ বিভিন্ন মালামাল জব্দ করা হয়। এর আগেই সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর থানা এলাকা থেকে ডাকাতিতে ব্যবহৃত একটি ট্রাক জব্দ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন নাটোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইফতে খায়ের আলম, শোভন চন্দ্র হোড় (বড়াইগ্রাম সার্কেল), জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি নজরুল ইসলাম ও বড়াইগ্রাম থানার ওসি আব্দুস সালাম।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে গ্রেফতার ১৩ জনকে শুক্রবার বিকেলে বড়াইগ্রাম আমলী আদালতের মাধ্যমে নাটোর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই শামীম হোসেন নিশ্চিত করেছেন।



